ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
কুমিল্লা স্টেডিয়ামে ফুটবল উৎসব
Published : Tuesday, 2 February, 2021 at 12:00 AM
কুমিল্লা স্টেডিয়ামে ফুটবল উৎসববাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) ফুটবলের এবারের আসরকে ঘিরে ফুটবলের উৎসব জমেছে কুমিল্লা স্টেডিয়ামে। বিশেষ করে দেশিয় ফুটবলের শক্তিশালী দল বসুন্ধরা কিংস এবং ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব কুমিল্লা স্টেডিয়ামকে হোম ভেন্যু করায়Ñ এ উৎসবে যোগ হয়েছে বাড়তি মাত্রা। প্রতিটি ম্যাচেই গ্যালারিতে দেখা যায় উপচে পড়া দর্শক। মাঠে এসে দেশি-বিদেশি খেলোয়াড়দের ফুটবল নৈপুণ্য উপভোগ করছেন কুমিল্লাবাসী। ডাক-ঢোল-বাদ্য বাজিয়ে করছেন আনন্দ-উল্লাস। হৈ-হুল্লোড় আর করতালী দিয়ে উৎসাহ জোগাচ্ছেন সমর্থকদলের খেলোয়াড়দের।
তবে উৎসবের সকল মাত্রা ছাড়িয়ে গেলো সোমবারের ম্যাচে। কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ স্টেডিয়ামে বসুন্ধরা-মোহামেডান ‘ডার্বি’ ম্যাচ দেখতে গ্যালারিতে হাজির হয়েছেন অংসখ্য দর্শক। খেলা শুরুর ঘন্টাখানেক আগে থেকেই স্টেডিয়ামে ঢুকতে শুরু করেন কুমিল্লা ও আশপাশের জেলা থেকে আসা নানা বয়সী দর্শক। স্টেডিয়ামে ফুটবলপ্রেমীদের এমন সরব উপস্থিতি দেখে একটা সময় মনে হয়েছে যেনো গ্যালারিতে ‘তিল ঠাঁই আর নাহিরে। দর্শক সারিতে সরব উপস্থিতি ছিলো নারী-শিশুদেরও।
কুমিল্লা স্টেডিয়ামের পশ্চিম দিকের গ্যালারিতে বসে স্ত্রী ও শিশু কন্যাকে নিয়ে খেলা দেখছিলেন সদর দক্ষিণ উপজেলার শুয়াগঞ্জ এলাকার আরাফাত হোসেন। খেলায় তখন ১-১ গোলের সমতা। মোহামেডান সমর্থকদের সাথে উচ্ছ্বাসরত আরাফাত জানান, কুমিল্লা স্টেডিয়ামে ‘বড় ম্যাচ’ হচ্ছে। তাই পরিবার নিয়ে খেলা দেখতে এসেছি। প্রচুর দর্শক সমাগম হয়েছে, ঢোল-বাদ্য বাজছে- আনন্দ পাচ্ছি।
খেলা শেষে অবশ্য মোহামেডান সমর্থকদের সে উচ্ছ্বাস থাকেনি। ১-৪ গোলে দল হেরে যাওয়ায় মন খারাপ করেই ফিরতে হয়েছে তাদের। তিন গোলে পিছিয়ে থেকে পরাজয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় খেলা শেষের ১০-১৫ মিনিট আগে থেকেই ফাঁকা হতে থাকে মোহামেডানের গ্যালারি।
সোমবার কুমিল্লা স্টেডিয়ামে উৎসব বেশি ছিলো পূর্ব দিকের গ্যালারিতে। ‘পূর্ব প্রস্তুতি’র অংশ হিসেবেই বসুন্ধরার সমর্থকরা হাজির হয়েছিলেন ভুঁভুজেলা, ঢোলসহ নানা বাদ্যযন্ত্র নিয়ে। খেলা শুরুর আগ থেকে শেষ পর্যন্ত টানা আনন্দ-উল্লাস করে গেছেন তারা। গলা ফাটিয়ে- চিৎকার করে উৎসাহ দিয়েছেন ভেসেরা-রবসনদের। খেলোয়াড়েরাও হতাশ করেননি দর্শকদের। মোহামেডানের জালে দিয়েছেন একে একে চার গোল। এমন দিনে দর্শকদের কি আর বসে থাকা চলে! তাই তারাও আনন্দ-উল্লাসের পাশাপশি উৎসাহ-প্রেরণা জুগিয়েছেন খেলোয়াড়দের।
টানা চার জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামা বসুন্ধরা কিংস যথারীতি মেলে ধরল আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা। উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাওয়া মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবও চেষ্টা করল পাল্টা জবাব দেওয়ার, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে বসুন্ধরা কিংসের আক্রমণের তোড়ে উড়ে গেল তাদের প্রতিরোধ। দাপুটে জয় তুলে নিল অস্কার ব্রুসনের দল।
খেলার শুরু থেকেই মোহামেডানের রক্ষণ চেপে ধরে বসুন্ধরা কিংস। এ চাপ ধরে রেখে দশম মিনিটে এগিয়েও যায় তারা। জোনাথন দি সিলভেইরা ফের্নান্দেসের ক্রসে আর্জেন্টাইন বংশোদ্ভূত চিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাউল অস্কার বেসেরা হেডে জাল খুঁজে নেন। পিছিয়ে পড়া মোহামেডান গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে। আগের ম্যাচে আবাহনী লিমিটেডের বিপক্ষে ২-২ ড্র করা শন লেনের দল ২২তম মিনিটে পেয়েও যায় কাঙ্খিত গোল। আতিকুজ্জামানের থ্রো ইন জিকো ফেরালেও পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি। ডি-বক্সের জটলার ভেতর থেকে দারুণ টোকায় লক্ষ্যভেদ করেন আবিওলা নুরাত।
৪৪তম মিনিটে সুলেমানে দিয়াবাতের শট ক্রসবারের উপরের দিকে লেগে বেরিয়ে গেলে মোহামেডানের এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট হয়। প্রথমার্ধের শেষ দিকে রবসন দি সিলভা রবিনিয়ো নিখুঁত চিপে লক্ষ্যভেদ করে ফের এগিয়ে নেন বসুন্ধরা কিংসকে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে প্রতিআক্রমণ থেকে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেয় ২০১৮-১৯ মৌসুমের লিগ চ্যাম্পিয়নরা। বিশ্বনাথ ঘোষকে পাস বাড়িয়ে এক ছুটে ডি-বক্সে ঢুকে যান ফের্নান্দেস। বিশ্বনাথের ফিরতি আড়াআড়ি ক্রস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মাপা শটে লক্ষ্যভেদ করেন ফের্নান্দেসই। লিগে প্রথম গোল পেলেন ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড।
৮১তম মিনিটে বেসেরার স্পট কিক পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়ালে পঞ্চম জয় নিশ্চিত হয়ে যায় বসুন্ধরা কিংসের। ডি-বক্সে চিলির এই ফরোয়ার্ডকে জাফর ইকবাল ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন রেফারি।
এরপর আর গোল হয়নি। তবে উৎসব হয়েছে বসুন্ধরার গ্যালারিতে। নেচে-নেচে বাদ্য বাজিয়ে উল্লাস করেছেন বসুন্ধরার সমর্থকরা।
নগরীর ছোটরা এলাকা থেকে বন্ধুদের সাথে খেলা দেখতে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, খেলাটা একপেশে হলেও ভালো লেগেছে। মোহামেডান ব্যবধানটা একটু কমাতে পারলে ভালো লাগতো। বতে বসুন্ধরাকে ধন্যবাদ, চমৎকার খেলা উপহার দিয়েছে তাদের খেলোয়াড়েরা।