
২০২৬
বিশ্বকাপে সবচেয়ে খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছে ফান্সের। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই হতে
যাচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে সব দেশের স্কোয়াডেই তো ২৬ জন ফুটবলার
রয়েছে, তাহলে কীভাবে ফ্রান্স এখানে এগিয়ে?
মূলত এখানেই লুকিয়ে রয়েছে
রহস্য, এক উপনিবেশিকতাবাদের চরম বাস্তবতা। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের
ভেতর ১০২ জন ফুটবলারই জন্ম নিয়েছেন ফ্রান্সে। কিন্তু তারা খেলবেন ১৩টি
ভিন্ন দেশের হয়।
ফ্রান্সের এমন রাজত্বকে অনেকটা ষোড়শ শতাব্দীর গ্যালিক
সাম্রাজ্য কিংবা বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে আফ্রিকাতে ফ্রান্সের রাজত্বকে
প্রকাশ করে। ১৬০০ শতাব্দীর শুরুর দিকে উত্তর আমেরিকা বিশেষ করে বর্তমান
কানাডা, এরপর আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ঊনবিংশ থেকে বিংশ শতাব্দী
পর্যন্ত ফ্রেঞ্চ ঔপনেবিশক সাম্রাজ্য ছিল পৃথিবীর ভেতর অন্যতম।
ইউরোপিয়ান
অঞ্চল মিলিয়ে ১৯৩৯ সাল নাগাদ ফ্রেঞ্চ সাম্রাজ্যের ব্যাপ্তি ছিল প্রায়
১৩,৫০০,০০০ বর্গ কিলোমিটার যেখানে জনসংখ্যা ছিল ১৫০ মিলিয়ন। যদিও বর্তমানে
সময়ে ফ্রান্সের এমন রাজত্বের মাত্র ১% ই টিকে আছে। তবুও দেশটির
ভূ-রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিকভাবে চলা দীর্ঘদিনের ফসল খেলাধুলায়
তাদের দেশে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়দের উপস্থিতি।
ফ্রান্স মূল দলের ২৬ জনের
ভেতর ২৩ জনেরই জন্ম ফ্রান্সে। যাদের বেশিরভাগেরই পূর্বপুরুষ সেনেগাল,
মরক্কো এবং আইভরি কোস্টের অধিবাসী ছিল। এছাড়া সেনেগাল, মরক্কো, আইভরি
কোস্ট, আলজেরিয়াতেও অনেক ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া ফুটবলার রয়েছেন, যা ব্যাপ্তি
ছাড়িয়েছে হাইতি, স্পেন কিংবা এশিয়ার কাতার পর্যন্ত। শুধু ওশেনিয়া অঞ্চলের
ফুটবলারদের ভেতর ফান্সে জন্ম নেওয়া ফুটবলার নেই।
ফ্রান্সের ২৩ জন,
স্পেনের ০১ জন, আলজেরিয়ার ১৩ জন, সেনেগালের ১০ জন, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক
অফ কঙ্গোর ১১ জন, তিউনিসিয়ার ০৯ জন, মরক্কোর ০৬ জন, কেপ ফার্দের ০৩ জন,
আইভরি কোস্টের ০৮ জন, ঘানার ০৩ জন, মিশরের ০১ জন, কাতারের ০১ জন এবং হাইতির
১৩ জন ফুটবলার জন্ম নিয়েছেন ফ্রান্সে।
