
দিয়োগো জটা (বাঁয়ে) ও অ্যান্ডি রবার্টসন। ফাইল ছবি: রয়টার্স
প্রয়াত
পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড দিয়োগো জটার স্ত্রীর কাছ থেকে আবেগঘন এক চিঠি পাওয়ার
পর স্কটল্যান্ড অধিনায়ক অ্যান্ডি রবার্টসন বলেছেন, বিশ্বকাপে তার সাবেক
লিভারপুল সতীর্থ ও বন্ধুর জন্য খেলবেন তিনি।
গত বছরের জুলাইয়ে এক গাড়ি
দুর্ঘটনায় ২৮ বছর বয়সে মারা যান জটা। পর্তুগালের হয়ে ৪৯ ম্যাচ খেলা এই
ফরোয়ার্ড কখনও বিশ্বকাপে খেলতে পারেননি। পায়ের মাংসপেশির চোটে ২০২২ সালের
বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন ভেঙেছিল তার।
গত নভেম্বরে স্কটল্যান্ড ২০২৬
বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করার পর রবার্টসন বলেছিলেন, বিশ্বকাপের টিকেট
পাওয়া নিশ্চিত হতেই জটার কথা মনে পড়েছে তার।
“বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে আমরা
অনেক কথা বলতাম, কারণ সে পর্তুগালের হয়ে গত বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি আর
আমি স্কটল্যান্ডের হয়ে। আমি জানি, আজ সে আমার দিকে তাকিয়ে হাসবে।”
রবার্টসনকে
লেখা চিঠিতে জটার স্ত্রী রুট অনুরোধ করেছেন, বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন
পূরণের সময় তিনি যেন তার বন্ধুকে হৃদয়ে ধারণ করেন। জটার তিন সন্তানের মা
রুটের সেই চিঠি প্রকাশ করেছে ফিফা।
“দিয়োগো প্রায়ই তোমার কথা বলত। তোমাদের বন্ধুত্ব, একসঙ্গে করা লড়াই, চ্যালেঞ্জ, হাসি, ফুটবল নিয়ে আলোচনা... আর স্বপ্নের কথা।”
“বিশ্বকাপ
ছিল সেই স্বপ্নগুলোরই একটি, যে স্বপ্নটাকে তোমরা দুজন পাশাপাশি থেকে লালন
করেছো, একইরকম আবেগ দিয়ে, যেটা নিয়ে তোমরা মাঠে নামতে।”
“যখন তোমার
কথাগুলো শুনলাম এবং জানলাম যে, এত বছরের অপেক্ষার পর স্কটল্যান্ড
বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করার সেই দিনে তোমার কেমন লেগেছিল, তখন আমি বুঝতে
পারলাম, দিয়োগো আসলে কখনোই মাঠ ছেড়ে যায়নি।”
“সেই মুহূর্ত অর্জন করে
এবং বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করার মাধ্যমে, তুমি একা যাচ্ছো না। তার
স্বপ্নটাও তুমি সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছো। আর যখন তুমি মাঠে নামবে, আমি জানি শুধু
তুমি একাই বেরিয়ে আসবে না। দিয়োগো তোমার সঙ্গে থাকবে, তোমার চিন্তায়,
পদক্ষেপে, হৃদয়ে।”
“তাই আজ, তোমাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তাকে ভুলে না
যাওয়ার জন্য ধন্যবাদ। তাকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য ধন্যবাদ। হারানোর
বেদনাকে শক্তিতে এবং এত সুন্দর কিছুতে রূপান্তরিত করার জন্য ধন্যবাদ।”
“আমরা
বাড়িতেও তাই করি। প্রতিদিন। সে তোমার জন্য খুব গর্বিত হতো এবং হচ্ছেও। এই
স্বপ্নটাকে লালন করো, অ্যান্ডি। নিজের জন্য এবং তার জন্য স্বপ্নটাকে
বাঁচিয়ে রাখো।”
সোমবার ফিফার ক্যামেরায় রবার্টসনকে চিঠিটি পড়তে দেখা যায়। রুটকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এটি তার মনে ‘অনেক দিন’ থেকে যাবে।
১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে স্কটল্যান্ড। ৩২ বছর বয়সী রবার্টসন বললেন, জটা সবসময় তার সঙ্গেই থাকবে।
“তাকে
আমার হৃদয়ে ধারণ করব এবং আমি জানি প্রথম ম্যাচে, দ্বিতীয় ম্যাচে, তৃতীয়
ম্যাচে এবং আশা করি, তার পরেও সে আমার সঙ্গেই থাকবে। সে সবসময়ই আছে।
স্মৃতিগুলো সবসময়ই মনে পড়ে, কখনও হাসি, কখনও কাঁদি।”
“আর এবারও
ব্যতিক্রম হবে না, বিশেষ করে আবেগে পূর্ণ এমন একটি টুর্নামেন্টে। আমি জানি,
সে আমার মনের একেবারে সামনে থাকবে। আমি শুধু নিজের জন্য খেলছি না, আমাদের
দুজনের জন্যই খেলছি।”
বাংলাদেশ সময় আগামী রোববার সকালে হাইতির বিপক্ষে
ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবেন রবার্টসনরা। ‘সি’ গ্রুপে তাদের অন্য
দুই প্রতিপক্ষ ব্রাজিল ও মরক্কো।
