নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লার
সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়র শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাঈম
ফারিহার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত পাঁচ আসামি আদালতে
আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় আদালত প্রধান আসামি ও নিহতের স্বামী মেহেদী হাসান
হৃদয়ের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
রোববার
(১০ মে) দুপুরে কুমিল্লার ১নং আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
মমিনুল হকর আদালতে আসামিরা আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের
কোর্ট উপ-পরিদর্শক জিল্লুর রহমান এবং বাদীপক্ষের আইনজীবী তাফসীরুল আলম
জামিনের বিরোধিতা করলে আদালত প্রধান আসামি মেহেদী হাসান হৃদয়ের জামিন
নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। অন্য চার আসামিকে জামিন
দেওয়া হয়েছে।
আইনজীবী তাফসীরুল আলম বলেন, “এটি একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ড।
আদালতে জামিনের বিরুদ্ধে যুক্তি উপস্থাপন করা হলে আদালত মূল আসামিকে
কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।”
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অমর্ত্য মজুমদার জানান, আদালতের আদেশ হাতে পেলে প্রধান আসামির রিমান্ড আবেদন করা হবে।
সদর কোর্টের জিআরও পুলিশের উপ-পরিদর্শক জিল্লুর রহমান জানান, মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ১২ জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিহতের
বাবা ও মামলার বাদী মো. হানিফ বলেন, “আমার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করে
আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। মূল আসামির জামিন নামঞ্জুর
হওয়ায় আমরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি।”
উল্লেখ্য, গত ৫ মে রাতে কুমিল্লা
নগরীর দেশওয়ালীপট্টি এলাকার ‘কাশেম গার্ডেন’ নামের একটি ভবন থেকে জান্নাতুন
নাঈম ফারিহার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি সিএসই বিভাগের ১২তম ব্যাচের
ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা স্বামী মেহেদী
হাসান হৃদয়সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় যৌতুকের দাবিতে
নির্যাতনের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
