দান
ছাদকাহ দ্বারা মানুষের উপার্জনেও বরকত হয়। মহান আল্লাহ তায়ালা ঘোষনা
করেন-যারা নিজেদের সম্পদকে আল্লাহর পথে ব্যয় করে তাদের উপমা এক শস্যবীজের
মত যা সাতটি শীষ উৎপাদন করে আর প্রত্যেক শীষে একশত শস্যদানা বিদ্যমান।
আল্লাহ তায়ালা যাকে ইচ্ছা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন। মহান আল্লাহ প্রাচুর্যময়
সর্বজ্ঞ। সুরা বাকারা, আয়াত নং২৬১।
হযরত আবু হুরায়রা রাঃ রাসুলে কারিম
দঃ হতে বর্ণনা করেন- নূর নবীজি দঃ হাদিসে পাকে ঘোষনা করেন- দান ছাদকাহ করলে
সম্পদের হ্রাস হয় না। যে ব্যক্তি ক্ষমা করে মহান আল্লাহ তার মর্যাদা
বাড়িয়ে দেন এবং যে ব্যাক্তি আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য বিনয় ও নম্রতা
অবলম্বন করে তিনি তার সন্মান সমুন্নত করে দেন। মুসলিম শরীফ ২য় খন্ড, হাদিস
নং২৫৮৮। আমাদের সবারই উচিত উপরোক্ত আয়াত ও হাদিস শরিফের উপর যথাযথ আমলের
মাধ্যমে নিজের দুনিয়া ও আখেরাতের পুজি সংগ্রহ করা। কেননা আমরা কেহই এই
ধরাধামে স্থায়ী নই। যে কোন মুহুর্তে ডাক এসে যেতে পারে পরপারের। আমার আমার
করি আমরা অথচ এই বডিটাও আমার না। রুহটা বের হয়ে গেলে আর আমার বলতে কিছুই
থাকবে না।
এ সম্পর্কে নূর নবীজি দঃ বলেন- বান্দাহ বলে বেড়ায় আমার সম্পদ,
আমার সম্পদ। আসলে তিনটি জিনিস হলো তার সম্পদ। ০১. খাদ্য- যা সে খেয়ে
নিঃশেষ করে দিল। ০২. বস্ত্র- যা সে পরিধান করে পুরাতন করে দিল। ০৩. আমল ও
দান- যা সে করল অতঃপর পাকালের জন্য সঞ্চয় করে নিল। এ ছাড়া অবশিষ্টগুলো চলে
যাবে এবং তা মানুষের জন্য রেখে গেল বা পরিত্যাগকারী। মুসলিম শরীফ ২য় খন্ড,
হাদিস নং২৯৫৯। অতএব সময় থাকতে আমাদের নিজের পুজি সংগ্রহ করে নেওয়া উচিত। এই
সুযোগ না কবরে পাওয়া যাবে না আখেরাতে।
দান শুরু করুন এখনই। প্রতিদিন
কিছু কিছু করে দান করতে পারেন অথবা একসাথে একজনকে সাবলম্বি করে দিতে পারেন
যাতে তার আর ভিক্ষা করতে না হয় বা মানুষের দুয়ারে যেতে না হয়। আবার কাউকে
ব্যবসার ব্যপারে সহযোগিত করতে পারেন যেন সে ছোট একটি ব্যবসা চালু করতে
পারে। কোন গরীব, অসহায় মেয়ের বিয়েতে দান করতে পারেন তবে এ দানটি অবশ্যই
গোপন রাখতে হবে। তাহলে তার পরিবারের মান সন্মান ঠিক থাকবে এবং ঐ ব্যক্তিকে
দান যিনি মান সন্মানের কারণে কারও কাছে চাইতে পারেন না, তাকে দান করলেও ঐ
দান অবশ্যই গোপন রাখতে হবে। বরং এই ধরণের ব্যাক্তিকে নিজ থেকে তালাশ করে
করে দান করার কথা বলা হয়েছে।
সর্ব প্রথমে দান করবেন- নিজ আত্মিয় স্বজন, তারপর প্রতিবেশি, তারপর এতিমখানা। অন্য ধর্মের লোকদেরকেও দান করা যাবে যদি সে অসহায় হয়।
আলহামদু
লিল্লাহ আমাদের যাদের দান করার তাওফিক মহান আল্লাহ দান করেছেন। তারা তো কম
বেশি সবারই কিছু না কিছু সর্বদা ব্যবস্থা আছে বা থাকে। তাই রামাদ্বানের
শেষ মুহুর্তে নয় বরং দান শুরু করুন এখনই আপনার সাধ্যমত। যাতে আমাদের
আশেপাশের অন্যান্য গরীব অসহায় মা বাবা, ভাই বোনেরা তাদের সন্তানাদি ও
পরিবার পরিজন নিয়ে আমাদের সাথে ঈদের খুশি উদযাপন করতে পারে। আমরা দান করি
নিজের কেনাকাটা শেষ করার পর যদি বাকী কিছু থাকে তখন। এটা মোটেও উচিত নয়।
বরং নিজের খুশিকে অন্যের খুশির জন্য উৎসর্গ করার মজাই আলাদা। কবি নজরুলের
ভাষায় "তোর সোনা দানা বালা খানা সব রাহে লিল্লাহ।"
লেখক: কান্দিরপাড় কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ ও কেন্দ্রিয় ঈদগাহ, কুমিল্লা।
