কুমিল্লার গোমতী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী পানি উন্নয়ন বোর্ড-পাউবোকে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার এই আদেশ দেন।
আদেশের অনুলিপি জেলার সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী বলেন, আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নদী রক্ষায় নিয়মিত মামলা দায়ের করতে বলেছি।কারণ মোবাইল কোর্টের অভিযানে সাধারণত শুধু মাটি বহনকারী ও শ্রমিকদের পাওয়া যায়; মূল ব্যবসায়ীরা ধরা পড়ে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোনো ধরনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার গোমতী নদীর চর থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র। চরজুড়ে বিশাল বিশাল গর্ত করে মাটি উত্তোলন করায় সেখানকার কৃষিও হুমকির মুখে পড়েছে বলে স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করেছেন। এতে ফসলি জমি নষ্ট হওয়া ছাড়াও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
টিক্কার ব্রিজ, শাওয়ালপুর, গোলাবাড়ি, সামারচর, রত্নাবতী, বানাশুয়া, পালাপাড়াসহ শতাধিক স্থানে চরের মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাটি বহনকারী ট্রাক ও ট্রাক্টরের চাকার ঘর্ষণে ক্ষয় হচ্ছে শহর রক্ষা বাঁধও।
মামলার নির্দেশের পর পানি উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, আমরা নিয়মিত মামলা সব সময়ই করি। আমাদের জায়গায় কেউ মাটি কাটলেই মামলা করবো।
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, গোমতী নদী রক্ষা আমাদের সবার দায়িত্ব। সব বিভাগের সমন্বয়ে নদী রক্ষা করতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর, পুলিশ, জেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সবাইকে একসাথে কাজ না করলে গোমতী রক্ষা সম্ভব নয়৷
