জহির শান্ত:
ইরানে
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আমেরিকান
ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার পর থেকে
পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। সেই অস্থিরতার আঁচ পড়েছে
বাংলাদেশের কুমিল্লাতেও। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের
পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
সংঘাত শুরুর পর
থেকেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, সৌদি আরবের রিয়াদ, কাতারের দোহা,
বাহরাইন কিংবা কুয়েতে থাকা বাংলাদেশীরা যেমন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ
করেছেন, তেমিন উৎকণ্ঠায় আছেন বাংলাদেশে থাকা তাদের পরিবারের সদস্য ও
স্বজনরা।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইনের হুরা এলাকায় একটি কোম্পানীতে কাজ
করার কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মোশারফ হোসেন বলেন, হামলা শুরুর পর
থেকেই আতঙ্কে দিন কাটতে থাকে। কখন কি হয়, বুঝতে পারছি না। প্রথম যখন হামলা
হলো আমরা ভয়ে ছুটাছুটি শুরু করলাম। পরে টেলিভিশন এবং সামাজিক মাধ্যমে এসব
তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে দেশ থেকে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্ক নিয়ে একের পর ফোন
করতে থাকে। এখনো পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি; তবে শেষ পর্যন্ত কি হয় জানি
না।
সৌদিআরবের রিয়াদে বসবাস করা কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলার সাইফুল
ইসলাম নয়নের স্ত্রী জাহানারা আক্তার বলেন, যখন শুনলাম সৌদিআরবে হামলা
হয়েছে- ভয়ে প্রাণটা বের হয়ে যাচ্ছিল। সাথে সাথেই তাকে (স্বামী) ফোন করলাম,
যখন শুনলাম তার ওখানে কোনো সমস্যা নেই- হাফছেড়ে বাঁচলাম।
জানা গেছে,
মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোতে অর্ধকোটির বেশি বাংলাদেশি কর্মীরা
অবস্থান করেন। তার মধ্যে ১৫ শতাংশেরও বেশি কুমিল্লার নাগরিক।
এ বিষয়ে
জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মোঃ
মাইনুদ্দিন বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমাদের ডিজি মহোদয় সরাসরি মনিটরিং করছেন।
আঞ্চলিকভাবে আমাদের তেমন প্রয়োজন পরছে না। তারপরও কোনো প্রবাসী কিংবা তার
স্বজনরা যদি কোনো বিষয়ে আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন- উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের
সাথে আলোচনার মাধ্যমে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতার চেষ্টা করবো।
প্রবাসীরা
জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অনেকে ভয়ে কোথাও যেতে পারছেন না। আবার বিভিন্ন
জায়গায় কঠোর নিরাপত্তার বাধা। নানা সময় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাইরেনে এক
ধরেনর আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয়।বিভিন্ন দেশে বাইরে থাকার
ব্যাপারে সর্তকতা জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া সাইরেন শুনলে নিরাপদ জায়গায়
অবস্থানের কথাও বলা হয়েছে। অপরদিকে প্রবাসীদের পরিবার ও স্বজনরা টেলিভিশনের
পর্দায় সব সময় চোখ রাখছেন। সুযোগ পেলেই নিজ নিজ পরিবারের সদস্যদের খবর
নিচ্ছেন।
