কুমিল্লা-৬
আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও
সাবেক হুইপ, জননেতা মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, দেশ নিয়ে যত ষড়যন্ত্র হয় সদর
দক্ষিণ উপজেলা না করতে পারার জন্য এই পরিমাণ ষড়যন্ত্র হয়েছিল। কিন্তু
আল্লাহ পাকের ইচ্ছা ছিল তাই হয়েছে। দুইবার উচ্চ পর্যায়ের (নিকার) মিটিংয়ে
বাতিল হওয়ার পরে তৃতীয়বার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ উপজেলা করা নির্দেশ
দিয়েছিলেন। কুমিল্লার অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এর বিরুদ্ধে ছিলেন। কেন
এর কোনো কারণ নেই। মানুষের স্বাভাবিক ধর্ম অন্যের ভালো চাওয়া। দুর্ভাগা
বাঙ্গালি আমরা পরশ্রীকাতর। একমাত্র বাংলা ছাড়া পরশ্রীকাতর শব্দের কোনো
বিকল্প আর বিপাশির্^ক ইংরেজি কোথাও নেই। আমরা কারোর জন্য কিছু করিনা এবং
কাউকে কিছু করতে দেইনা এটাই আমরা। আমি আজ কিছুটা আবেগ আপ্লুত।
আনুষ্ঠানিকভাবে আপনাদের মধ্যে আমি প্রথম এসেছি। আগে একবার এই উপজেলায়
এসেছিলাম। এক কাপ চা খেতে কেহ বলে নাই। উনাদের ভয় ছিল চাকুরি চলে যাওয়ার।
আমি আঘাত পেতে পতে অভ্যস্ত। আঘাতে আঘাতে আঘাতকে এখন আর আঘাত মনে হয় না।
আমাদের ভাল কিছু করার ক্ষমতা নাই। আমাদের দেশের অগ্রগতি আটকে রেখেছি। এই
দেশ বেঁচে থাকবে এবং স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকবে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এখন
এই স্বপ্ন দেখি। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সীমানা দক্ষিণে বর্ধিত হবে।
যার ফলে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সীমানা পুনঃগঠন করা হবে । এতে করে এক
সময় লালমাই উপজেলা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। মাটি কাটা সঙ্গে জড়িতরা যেই হউক তাদের
বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এতে দলের লোকেরাও ছাড় পাবেনা। তিনি
গতকাল সোমবার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে
উন্নয়ন শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য একথা বলেন। অনুষ্ঠানে
সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন চন্দ্র
রায়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজীব তালুকদার।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট
মুহাম্মদ আখতার হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.
মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দীন, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত
কর্মকর্তা মো. সিরাজুল মোস্তফা প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ মো. তৈয়ব হোসেন। এসময় মহানগর দক্ষিণ থানা
বিএনপির সমন্বয়কারী মোহাম্মদ হানিফ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওমর
ফারুক চৌধুরী, সাবেক সিটি কাউন্সিলর খলিলুর রহমান মজুমদার, কুমিল্লা দক্ষিণ
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভিপি আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ
উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগীয় কর্মকর্তাবৃন্দ, বিএনপি অঙ্গসংগঠনের
বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিকে উপজেলা
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে
কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, বীর
মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক হুইপ, জননেতা মনিরুল হক চৌধুরী উপজেলা চত্বরে একটি
কাঠ বাদামের চারা রোপন করেন।
