তানভীর দিপু।।
কুমিল্লা
সিটি কর্পোরেশন পঁচে গেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ
সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। রবিবার দুপুরে কুমিল্লা সিটির নাগরিক সুবিধা ও
অন্যান্য বিষয়াদি নিয়ে কর্মকর্তা -কর্মচারীদের অংশগ্রহণে মনিরুল হক চৌধুরীর
মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখার সময় তিনি বিগত সময়ের অনিয়ম ও
দুর্ভোগের চিত্র শুনে এই মন্তব্য করেন। সদস্য নির্বাচিত হবার পর তাঁর
এলাকায় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে এটি তার প্রথম সভায়। সভায় সভাপতিত্ব করেন
সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শাহ আলম। এসময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি
কর্পোরেশনের সচিব মোঃ মামুন, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাঈদ ভুইয়া, মাইন
উদ্দিন চিশতীসহ বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। এছাড়াও অন্যান্যদের
মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান
ওয়াসিম, সাবেক কাউন্সিলর শাহ আলম মজুমদার, খলিলুর রহমান, মো বিল্লাল,
রায়হান রহমান হেলেন, তাহমিনা আক্তার লুন্ডা, মোসলেম উদ্দিন, সিদ্দিকুর
রহমানসহ অন্যান্য সাবেক কাউন্সিলর ও রাজনৈতিক সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ।
কুমিল্লা
সিটি কর্পোরেশনের সচিব মোঃ মামুনের উপস্থিত তথ্যে সিটি করপোরেশনে ২২০ জন
জনবল শুরুতে থাকলেও বর্তমানে ৬৭ জন রয়েছে এমন প্রসঙ্গে এমপি মনিরুল হক
চৌধুরী ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, 'কুমিল্লা সিটি করপোরেশন পঁচে গেছে। ১১ সাল থেকে
এই পর্যন্ত কিছুই করি নি। লোকবল নিয়োগের জন্য কি ৫০০ লোক মাঠে নামতে পারে
নাই? কাউন্সিলর রা নামতে পারে নাই?' দ্রুত জনবল নিয়োগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
গ্রহণ করে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনকে সচল করতে প্রশাসকের প্রতি বিশেষ
অনুরোধ জানান তিনি। জনবল ছাড়া সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম পরিচালনার দায়ে
তৎকালীন সকল কাউন্সিলরের সমালোচনা করেন তিনি।
কুমিল্লা নগরীর মানুষের
নানান দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে এমপি মনিরুল হক চৌধুরী সিটি কর্পোরেশন
সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি প্রশ্ন রাখেন, কত খেলবেন মানুষের ভাগ্য নিয়ে? কোন
লোক দেখানো কাজ আর হবে না। 'ড্রেনের পানি যাবে' নিশ্চয়তা না পেলে এক পয়সাও
কেউ পাবে না; ড্রেনেজ নির্মাণ কাজের পর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সন্তুষ্ট
হলে তবেই বিল পাবেন ঠিকাদাররা।
টমছমব্রীজ থেকে বাখরাবাদ - সড়ক নিয়ে
ক্ষুব্ধ হয়ে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলীদের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী
বলেন, না পারলে ৭ দিনের মধ্যে সড়ক বিভাগকে কাজ বুঝিয়ে দিন। আপনারা যদি
সঠিক সময়ে কাজ শেষ করতে না পারেন, তবে সড়ক বিভাগের কাজ কেন সিটি কর্পোরেশন
করতে গেল?
সভায় এমপি মনিরুল হক চৌধুরী ন্যূনতম কাজ করে কোটি টাকা বিল
তুলে নিয়ে যাওয়া, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের জন্য ওয়াসা না হওয়া, সিটি
কর্পোরেশনের সীমানা বর্ধন সময় মত না হওয়া, শহরের বিসিক চাঁনপুরের
জলাবদ্ধতা নিরসন না হওয়াসহ নানান বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
এমপি
মনিরুল হক চৌধুরী জানান, সুখের বিষয় হল আগামী মার্চের মধ্যে কুমিল্লা সদর
উপজেলা গোমতী নদীর উত্তর পাড়ে নতুন কমপ্লেক্সে চলে যাচ্ছে। খুব দ্রুত সময়ের
মধ্যে জনবল নিয়োগের জন্য কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসককে সংসদ
সদস্যের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনকে
বিকেন্দ্রীকরণ এবং সীমানা বর্ধনের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে কথা বলা সহ যত
কার্যক্রম প্রয়োজন সেখানে আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করব।
সবশেষে এমপি
মনিরুল হক চৌধুরী হুঁশিয়ারি দিয়ে কাউন্সিলর ও নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে
বলেন, আমি বেঁচে থাকতে কোন কাউন্সিলর ঠিকাদারি করতে পারবে না, এ নিয়ে অনেক
সমস্যা হবে। আর কোউ টেন্ডার ভাগাভাগি ও দখল শুরু করতে চাইলে যুদ্ধ হবে আমার
সাথে। আর কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি আজ কিছু জানতে চাইনি - আজ
শুধু আপনাদের জানাতে আসলাম আমি সব কিছুই জানি।
সংসদ সদস্যের বক্তব্যের
পর কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে বিভিন্ন ভবন নির্মাণে অনিয়ম নিয়ে ক্ষোভ
প্রকাশ করেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান
মাহমুদ ওয়াসিম।
সভাপতির বক্তব্যে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক
মোঃ শাহ আলম বলেন, এমপি মহোদয়ের ক্ষেভের যৌক্তিকতাও রয়েছে। এই শহরের প্রতি
আমারও দায়বদ্ধতা আছে- আমরা সংসদ সদস্য মহোদয়ের নির্দেশনা নিয়ে চলবো।
বর্তমানে একটি রাজনৈতিক সরকার দেশের ক্ষমতায় আছে, বর্তমান সংসদ সদস্য চাইলে
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের জন্য সকল উন্নয়ন কাজ সহজ হবে। তবে বিগত সময়
গুলো কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নানান ভাবে নিগ্রহিত ও বঞ্চিত হয়েছে।
