
অনেক কিছু লিখার ছিল। কিন্তু
লিখতে মন চাইছেনা। আপনারা ইতিমধ্যে জেনে গিয়েছেন যে, সাম্রাজ্যবাদী ও
সন্ত্রাসবাদী আমেরিকা ও ইসরাইলের ইরানের উপর অহেতুক আক্রমনে শহীদ হয়েছেন ঐ
সন্ত্রাসী দুই দেশের যমদূত হিসাবে খ্যাত ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের
অগ্রনায়ক ইরানের সর্ব্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনী। মহান
আল্লাহ তাকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করুন। আবার এই দোয়ার কারণে শিয়াবাদের
ফতোয়া দিয়েননা আমাকে কেউ। কারণ বাংলাদেশের অলিতে গলিতে যে পরিমান তথাকথিত
মুফতি পাওয়া যায় গোটা পৃথিবীতে এত পরিমান মুফতী নেই। যারা সত্যিকারের ইলম
ওয়ালা তাদের ব্যাপার স্বতন্ত্র।
মুসলমানদের কি শিক্ষা হবেনা? আমাদের
চোখের সামনে একে একে মিথ্যা অজুহাত দিয়ে ধ্বংস করা হলো ইরাক, লিবিয়া ও
ফিলিস্তিনকে। আমরা মুসলমানরা নিরব। যে সমস্ত অভিযোগে এই দেশগুলোর উপর
আক্রমন করে ধ্বংস করা হলো তাদের অর্থনীতি ও রাষ্ট্রকে। পরবর্তীতে তা মিথ্যা
প্রমান হওয়ার পরও ঐ সন্ত্রাসী রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে কেউ একটা টু শব্দটিও
করলনা। জাতিসংঘ নামের এই কলংক ও পুতুল সংঘতো নয়ই। এমনকি মুসলিম বিশ্ব
পর্যন্ত মুখে সুপার গ্লু লাগিয়ে বসে রইল। সাদ্দম ও মুয়াম্মার গাদ্দাফী যে
অবস্থায় রেখে এসেছিল ইরাক ও লিবিয়াকে সেই ইরাক ও লিবিয়া এখন ফকির ও ভঙ্গুর
রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। জনগণ আবার এখন সাদ্দাম হোসেন ও গাদ্দাফীর জন্য
রাস্তায় রাস্থায় আফসোস করছে। করলে কি হবে? যা হওয়ার তা হয়েই গেছে। এগুলো
দেখেও কি আমাদের টনক নড়বেনা? চোখের সামনে বিনা অপরাধে গাজাকে ধ্বংস স্তুপে
পরিনত করা হলো, সবাই নিরব। একমাত্র ইরানই গর্জে উঠল। অন্যান্য আরব
রাষ্ট্রগুলো বরং আমেরিকা ও ইসরাইলের ঘৃণ্য দালালীতে লিপ্ত হলো।
মক্কা ও
মদিনা শরীফের মর্যাদায় যেই সৌদি আরবকে আমরা মুসলিম বিশ্বের ত্রান কর্তা মনে
করতাম সেই সৌদি আরব নিজেই শুরু করল ঘৃণ্য দালালী। এই দালাল তালিকায় যুক্ত
হলো মিশর, জর্দান, কাতার, বাইরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও সিরিয়া সহ
আরও কয়েকটি দেশ। আমেরিকা ও ইসরাইলও বুঝে গেল এমন দালাল রাষ্ট্র থাকতে
আমাদের আর হারাবে কে? যার ফলে তারা যখন যা খুশি তাই এবং যেভাবে খুশি
সেভাবেই মুসলিম নিধন শুরু করল। আমরা কথায় কথায় বলি মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া
হলো ইসরাইল। আমিতো মনে করি মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া ইসরাইল নয় বরং আমেরিকা
ও ইসরাইলের দালাল ও মুনাফিক মুসলিম? রাষ্ট্র প্রধানরাই আসল মধ্যপ্রাচ্যের
বিষফোঁড়া। তাদের মুনাফেকী ও দালালীর কারণেই আজ মুসলিম বিশ্বের এই করুন
অবস্থা।
ইরানে এই বর্বোরচিত হামলার জন্য ধিক্কার জানাই ইহুদি রাষ্ট্র
ইসরাইল ও এর মদদদাতা আমেরিকা সহ অন্যান্য মুনাফিক ও দালাল মুসলিম রাষ্ট্র
নায়কদের।
অপেক্ষায় আছি তাদের পতন দেখার। কারণ আমেরিকা যার বন্ধু হয় তার
অন্য কোন শত্রুর প্রয়োজন হয়না। ইতিহাস তাই বলে। এদের পতন হবেই হবে। মহান
আল্লাহর শান্তি ও প্রকৃতির প্রতিশোধ তাদের জন্য অবধারিত। শুধু সময়ের
অপেক্ষা।
প্রধান ইমাম ও খতীব, কান্দিরপাড় কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ ও কেন্দ্রিয় ঈদগাহ, কুমিল্লা।
