
নিজস্ব
প্রতিবেদক: কুমিল্লায় পৃথক দুটি ডাকাতির ঘটনায় জড়িত আন্তজেলা ডাকাত চক্রের
১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত
স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, দেশীয় অস্ত্রসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা
হচ্ছে জীবন মিয়া, দেলোয়ার হোসেন, আনোয়ার হোসেন, নাসির, আবু তাহের, জামাল
কুদ্দুস, ওবাইদুল, হানিফ, সৌরভ হোসেন, জহির, মকবুল হোসেন এবং কামাল। তাদের
বিরুদ্ধে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, ফেনী, ঢাকা ও চট্টগ্রামের
বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়,
জেলার তিতাস উপজেলার উজিরাকান্দি এলাকায় মোছা. নাছরিন আক্তারের বাড়ির গেটের
তালা ভেঙে একদল ডাকাত প্রবেশ করে। তারা পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে ও
মারধর করে নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নেয়। এ ঘটনায় ২৭ ফেব্রুয়ারি
তিতাস থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
একই রাতে কাকিয়াখালী এলাকায় মঞ্জুরা
বেগমের বাড়িতেও একই কায়দায় ডাকাতি সংঘটিত হয়। ডাকাতরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে
পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র
লুট করে। এ ঘটনায় তিতাস থানায় আরেকটি মামলা রুজু হয়।

মামলা
দুটির তদন্তে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম
অ্যান্ড অপস) এবং সহকারী পুলিশ সুপার, দেবিদ্বার সার্কেলের নেতৃত্বে জেলা
গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান
পরিচালনা করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তিতাস ও দাউদকান্দির বিভিন্ন
এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার
আনিসুজ্জামান জানান, ডাকাতির ঘটনায় মামলা দায়েরের পরপরই এ ঘটনায় জড়িতদের
গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ১২জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এসময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মালামালের মধ্যে একটি স্বর্ণের চেইন, তিনটি
স্বর্ণের কানের দুল, রূপার নূপুর ও চেইন, সিটিগোল্ডের গহনা, ৩৭ হাজার ২৪৭
টাকা নগদ অর্থ, ১৩টি মোবাইল ফোন, দুটি সিএনজি, দেশীয় অস্ত্র (ছুরি, কাটার,
শাবল, লোহার রড), বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দুধের প্যাকেট ও কৌটা, ডিজিটাল
ক্যামেরা, রাউটার, টর্চলাইট, ব্লেন্ডার মেশিন, মুখোশ ও ট্রাভেল ব্যাগসহ
বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।