শুক্রবার ৬ মার্চ ২০২৬
২২ ফাল্গুন ১৪৩২
ভয়াবহ হামলার মুখে ইরান
: ৩১ প্রদেশের ২০টিই ক্ষতিগ্রস্ত!
প্রকাশ: রোববার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১:১৫ এএম আপডেট: ০১.০৩.২০২৬ ১:৪৮ এএম |



 ভয়াবহ হামলার মুখে ইরানইরানের ওপর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযান এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে শুরু হওয়া এই হামলায় ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিরও বেশি প্রদেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর এএফপির।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র নিশ্চিত করেছে।
সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ইরানের মিনাব কাউন্টিতে। সেখানকার গভর্নর জানিয়েছেন, একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় লক্ষ্য করে ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ঘটনাস্থলেই ৫৩ জন শিশু শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এই হামলায় আহত হয়েছে আরও অন্তত ৬০ জন। রক্তভেজা বইখাতা আর ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া শিশুদের নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো ইরানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে জানিয়েছেন, এই হামলার সঙ্গে জড়িত প্রতিটি স্থাপনা এখন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য হবে।
তিনি বলেন, ‘যেসব স্থান থেকে মার্কিন ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং ইরানের প্রতিরক্ষার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সেই সব স্থাপনাকেই লক্ষ্যবস্তু করছে।’
আরাঘচি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইরানের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। ইরান কেবল ইসরাইল নয়, বরং হামলায় সহায়তাকারী মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মুখপাত্র মোজতবা খালেদি জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ২০টিরও বেশি প্রদেশে হামলার খবর পাওয়া গেছে। রাজধানী তেহরান থেকে শুরু করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশগুলোতে মুহুর্মুহু বিস্ফোরণ ঘটেছে। উদ্ধারকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছেন, তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
 ভয়াবহ হামলার মুখে ইরান
গত কয়েক মাস ধরে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলা ‘ছায়াযুদ্ধ’ আজ থেকে সরাসরি রক্তক্ষয়ী সংঘাতের রূপ নিল। শনিবারের এই বড় ধরনের হামলার পর ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা এর ‘কঠোর জবাব’ দেবে। এএফপির খবর অনুযায়ী, তেহরানের এই হুংকরের পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী ও তাদের মিত্র দেশগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ‘নিহত’: 
ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সাথে পরিচিত দুটি সূত্র এবং একটি আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৮৫ জনে:
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় নিহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির আধা সরকারি নিউজ এজেন্সি তাসনিম এ কথা জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে আজ শনিবার একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলা চালায় ইসরায়েল। এই হামলায় নিহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৮৫জনে দাঁড়িয়েছে।
ওই স্কুলে আজ সকালে হামলার সময় ১৭০ জন শিক্ষার্থী ছিল। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খামেনির সুরক্ষিত বাসভবন পুরোপুরি ধ্বংস:
ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সুরক্ষিত বাসভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। ইরানের র্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বাসভবনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছে আল জাজিরা। স্যাটেলাইটে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, খামেনির প্রাসাদটি ধসে পড়েছে। এটির চারপাশ কালো হয়ে গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। 
পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন-তেহরান পরোক্ষ আলোচনার মধ্যে আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে শুরু করেছে ইসরাইল। মার্কিন ও ইসরাইলি যৌথ হামলায় তেহরানে ইরানি প্রেসিডেন্টের বাসভবনসহ ৩০টিরও বেশি স্থান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হামলা এখনও অব্যাহত রয়েছে। 
এ সময় প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। 
ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরানের শেমিরান এলাকায় প্রেসিডেন্টের প্রাসাদের কাছাকাছি এবং খামেনির কমপাউন্ডের আশেপাশে সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এপি জানিয়েছে, হামলা খামেনির অফিসের আশেপাশেও আঘাত হেনেছে। 
বর্তমানে খামেনি কোথায় আছেন তা নিশ্চিত নয়। রয়টার্স জানিয়েছে, খামেনি তেহরান ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ‘আমি যতদূর জানি, খামেনি জীবিত আছেন।’














http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
ঈদ বাজারে পাকিস্তানি পোশাকে সয়লাব
দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধে নিজ নিজ এলাকায় কাজ করুন
‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন কুমিল্লা-৫ এর এমপি জসিম উদ্দিন’
কেনাকাটায় সরগরম কুমিল্লার ঈদ বাজার
কুবি শিক্ষককে অপহরণ: ফোন, নগদ টাকা ও এটিএম থেকে ৮০ হাজার ছিনতাই
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টিকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না: গণপূর্তমন্ত্রী
দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধে নিজ নিজ এলাকায় কাজ করুন
ঈদ বাজারে পাকিস্তানি পোশাকে সয়লাব
দাউদকান্দিতে চাঁদা না দেওয়ায় নির্মাণাধীন স্থাপনা ভাঙচুর
ক্ষমতা হস্তান্তর না করা পর্যন্ত কর-খাজনা বন্ধের ডাক
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২