রামাদ্বান
আসবে আসবে অপেক্ষায় ছিলাম। এসেছে রামাদ্বান আবার বিদায়ও নিয়ে যাচ্ছে।
প্রথম দশক অর্থাৎ রাহমাতের প্রথম দশ দিন বিদায় নিয়ে গেল আমাদের থেকে। টেরও
পাওয়া গেলনা। যারা সঠিকভাবে তার মূল্যায়ন করে ইবাদত বন্দেগী করেছি তাদের
জন্য সু-সংবাদ। আর যারা অবহেলায় কাটিয়ে দিয়েছি তাদের জন্য আফসোস আর ভৎসনা
করতে করতে প্রথম দশক বিদায় নেয়। কারও জন্য হবে এই প্রথম দশক সুপারিশ কারী
হিসাবে আর কারও জন্য হবে অভিযোগকারী হিসাবে। মহান আল্লাহ আমাদের জন্য
সুপারিশকারী হিসাবে কবুল করুন। আমীন।
এই লেখা যখন পত্রিকায় ছাপা হবে তখন
আমরা মাগফিরাতের অংশে অবস্থান করছি। যে অংশে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ক্ষমার
চুড়ান্ত পর্যায়ে থাকেন। আর তাঁর বান্দা বান্দীদের ক্ষমা করার জন্য উদগ্রীব
হয়ে থাকেন। আমরা যারা মহান আল্লাহর কাছ থেকে দুরে সরে রয়েছি তাদেরকে ক্ষমা
করে দেওয়ার জন্য আবেগ ভরা আওয়াজে ডাকতে থাকেন এই বলে যে-হে মানবজাতী, কিসে
তোমাকে তোমার মহামহিম পালন কর্তা সম্পর্কে বিভ্রান্ত করল অর্থাৎ দুরে
সরিয়ে রাখল। যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেস, অতঃপর তোমাকে সুবিন্যস্ত করেছেন
এবং সুষম করেছেন। সুরা ইনফিতার, আয়াত সং ৬ ও ৭, পারা ৩০। অন্যত্র মহান
আল্লাহ বলেন- হে আমার বান্দাগণ, তোমরা যারা (গুনাহের মাধ্যমে) নিজেদের
প্রতি অবিচার করেছ, আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়োনা। আল্লাহ তোমার সমুদয়
পাপ ক্ষমা করে দিবেন। তিনিতো পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। সুরা ঝুমার, আয়াত
৫৩, পারা ২৪। আমরা সবাই কম বেশি গুনাহগার। কেউই গুনাহমুক্ত নই। শুধুমাত্র
নবী রাসুলগণ আঃ নিষ্পাপ। আমাদের গুনাহ থেকে পরিত্রান পাওয়ার উপায় প্রধানত
দুইটি। এক. ইস্তেগফার বা তাওবা। দুই, যেই গুনাহ থেকে ইস্তেগফার করলাম সেটি
দ্বিতীয়বার আর না করা। ইস্তেগফার এমন একটি বিষয় যার দ্বারা শুধু গুনাহ মাফই
হয়না মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কারও প্রদান করা হয়। রাসুল করিম
দঃ বলেন- যদি কেউ গুনাহ মাফের উদ্দেশ্যে ইস্তেগফার করাকে নিজের উপর আবশ্যক
করে নেয়, তাহলে আল্লাহ তায়ালা তার গুনাহতো মাফ করবেনই তাকে আরও তিনটি
পুরস্কার দেবেন। ০১. তার জীবনের কঠিন অবস্থা থেকে তাকে উদ্ধার করবেন। ০২.
তাকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিবেন। ০৩. তাকে অচিন্তনীয় ও অকল্পনীয় স্থান
থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করবেন। আবার মানুষকে ক্ষমা করার মাধ্যমেও মহান
আল্লাহর ক্ষমা পাওয়া যায়। নূর নবীজি দঃ এরশাদ করেন-যে ব্যাক্তি কোন
মুসলমানের ভুল ক্ষমা করবে মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিনও তার ভুল ক্ষমা করবেন।
আমরা
মাগফিরাতের অংশে অবস্থান করছি। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমরা হতে পারি
গুনাহ মুক্ত। তাই মাগফিরাতের অংশকে গণিমত ও নেয়ামত মনে করে আসুন সবাই যার
যার অবস্থান থেকে বেশি বেশি করে ইস্তেগফার করি এবং নিজকে গুনাহ থেকে
বাঁচিয়ে রেখে চলি। মহান আল্লাহ আমাদেরসহ সমগ্র মুসলমানের যাবতীয় গুনাহগুলো
ক্ষমা করে দিন। আমীন।
লেখক: প্রধান ইমাম ও খতীব, কান্দিরপাড় কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ ও কেন্দ্রিয় ঈদগাহ, কুমিল্লা।
