কুমিল্লার
মুরাদনগরে কতিথ মাছ চুরির সন্দেহে দুই দরিদ্র যুবককে গাছের সঙ্গে বেঁধে
মা, বাবা, স্ত্রী ও ছেলে মেয়ের সামনে প্রকাশ্যে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে
অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে
ভাইরাল হলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।এই বর্বর নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত থাকার
অভিযোগে কথিত দুই গ্রাম্য বিচারককে (মাতবর) গ্রেপ্তার পূর্বক আদালতের
মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নির্যাতনে শিকার সামু সেনের স্ত্রী
বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার
পাহাড়পুর গ্রামের সালাম মিয়ার পুকুর থেকে গত ৩১ অক্টোবর শুক্রবার সকালে কে
বা কারা কিছু মাছ ধরে নিয়ে যান। এ ঘটনায় একই এলাকার দরিদ্র যুবক সামু সেন
এবং আরমান মিয়াকে সন্দেহ করে। ক্ষিপ্ত হয়ে পুকুরের মালিক সালাম মিয়া
স্থানীয় প্রভাবশালী গ্রাম্য মাতবর আবদুল হাকিম ও ইকরামুল হকের কাছে
বিচারপ্রার্থী হন।
পরবর্তীতে ওই দুই কথিত মাতবর মাছ চুরির সন্দেহে সামু
সেন ও আরমান মিয়াকে ধরে আনে। বিচারের নামে প্রকাশ্যে শত শত মানুষের সামনে
তাদের একটি গাছের সঙ্গে বাঁধা হয়। এরপর মধ্যযুগীয় কায়দায় লাঠি দিয়ে তাদের
বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত করে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানায়, মারধরের তীব্রতায় দুই যুবক গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত
ঘটনাস্থলে পৌঁছে নির্যাতিত দুই যুবককে উদ্ধারপূর্বক চিকিৎসার জন্য
হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্বর এ নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হলে গত বুধবার রাতে
অভিযুক্ত দুই গ্রাম্য মাতবর আবদুল হাকিম ও ইকরামুল হককে গ্রেপ্তারপূর্বক
পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করে। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক তাদেরকে
কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী আলী আকবর
মাসুম বলেন, চুরির মতো অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার কারও ব্যক্তিগতভাবে নেই।
বিচারের নামে প্রকাশ্যে এভাবে শারীরিক নির্যাতন চালানো সম্পূর্ণ বেআইনি ও
মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
পাহাড়পুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ মাঝি
বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া গ্রাম্য বিচারক আবদুল হাকিম ও ইকরামুল হক দুজন যে
বর্বরতা দেখিয়েছে, তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। এদের কঠোর বিচার
হওয়া উচিত।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান
দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে বলেন, অভিযুক্ত দুই মাতবরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের
মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
