রণবীর ঘোষ কিংকর।
মহা
ধুমধামে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমী উদযাপিত হয়েছে কুমিল্লায়। সোমবার
সকাল থেকে প্রতিটি পূজা মন্ডপে ভক্ত-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি। দেবী পূজার আজ
মহাষ্টমী। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা
পূজার আজ সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ষষ্ঠী থেকে দশমী, ওই পাঁচদিনের দেবী
বন্ধনার সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং জাঁকজমকপূর্ণ দিন মহাষ্টমী। মহাষ্টমীর মূল
আকর্ষণ কুমারী পূজা। শিল্প, ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির শহর কুমিল্লায়
এবারও অনুষ্ঠিত হচ্ছে না কুমারী পূজা।
পঞ্চিকার তিথি অনুযায়ী আজ
(মঙ্গলবার) সকাল ৯টা ৫৮ এর মধ্যে শ্রী শ্রী শারদীয় দুর্গাদেবীর
মহাষ্টম্যাদি, কল্পরাম্ভ, কেবল মহাষ্টমী কল্পারম্ভ ও মহাষ্টমী বিহিত পূজা
প্রশস্ত। ১০৮টি পদ্মে প্রতিটি পূজা মন্ডপে মায়ের অর্চণা করবে সনাতন
ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়।
এ তিথিতে সন্ধী পূজা, কালী পূজাসহ নারী জাতিকে
সম্মান জানিয়ে মায়ের সাকার উপশনার জন্য কুমারী পূজা করা হয়। তিথিতে অনুসারে
এবার সন্ধি পূজা হবে দুপুরে। ১টা ৫০ মিনিট গতে সন্ধি পূজা আরম্ভ হয়ে শেষ
হবে ২টা ২৮ মিনিটের মধ্যে। শাস্ত্রানুসারে অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট ও
নবমী তিথির প্রথম ২৪ মিনিটকে সন্ধিক্ষন বলা হয়। এই সময় কালে চন্ড ও মুন্ড
নামে দুই অসুরকে বধ করেছিলেন দেবী দুর্গা।
সোমবার সকালে প্রতিটি পূজা
মন্ডপে দেবীর সপ্তম্যাধি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীর বিহিত পূজার পর দেবীর পায়ে
পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে ভক্তরা। পরে প্রসাদ গ্রহণের পর শুরু হয়ে মন্ডপে মন্ডপে
ভক্ত-দর্শনার্থীদের ভীড়। সন্ধ্যার পর ভক্ত-দর্শনার্থীদের সাথে সাথে
বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে বের হন কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ
নাজির আহমেদ খাঁন।
২০১১ সাল থেকে কুমিল্লার রামকৃষ্ণ মিশনে অনুষ্ঠিত
হওয়া কুমারী পূজা এবারও বন্ধ রাখা হয়েছে। নানা প্রতিকূলতায় কুমারী পূজা
অনুষ্ঠিত না হওয়ার কথাটি জানিয়েছেন কুমিল্লা রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ
অধ্যক্ষ স্বামী বিশে^শ^রানন্দ।
কুমিল্লার রামকৃষ্ণ মিশনের সারদা সংঘের
সদস্য পূরবী চক্রবর্তী জানান- কুমিল্লায় কুমারী পূজা উপভোগ থেকে বঞ্চিত
হাজার হাজার ভক্ত দর্শনার্থী। প্রতি বছরই ভক্তরা মনোবাসনা করেন কুমারী পূজা
অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু নানা সমস্যায় আর হচ্ছে না। ২০১১ সালে যখন মিশনে
প্রথম কুমারী পূজা হয়, তখন আমার মেয়েকেই প্রথম কুমারী দেবী হিসেবে তৈরি
করেছিলাম। তারপর থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত যতবার কুমারী পূজা হয়েছে তখনই আমি
কুমারী কন্যা সংগ্রহ, তাদের প্রশিক্ষণ এবং তৈরি করার কাজ করতাম। আগামী বছর
থেকে আবারও কুমিল্লা রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হবে এমনটাই
প্রত্যাশা কুমিল্লায় বসবাসরত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের।
এদিকে, সোমবার
দুর্গতিনাশিনী মা দেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপনের মাধ্যমে মহাসপ্তমী
পূজা শুরু হয়। সকালে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান করা হয়। মা দুর্গার
বোধনের মধ্য দিয়ে শনিবার শুরু হয় বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয়
উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা। সারা দেশের ন্যায় কুমিল্লা পূজা মন্ডপগুলোতে
ঢাকের ঢোলে ধ্বনিত হচ্ছে বাঙালির হৃদয়তন্ত্রীর বাঁধভাঙা আনন্দের জোয়ার।
মূলত দুর্গাপূজার মূল পর্ব শুরু হয় সপ্তমীতে। গতকাল সোমবার চলে দেবী-দর্শন,
দেবীর পায়ে ভক্তদের অঞ্জলি প্রদান ও প্রসাদ গ্রহণ।
কুমিল্লা জেলা পূজা
উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্মল চন্দ্র পাল
ট্রাস্টি জানান- প্রশাসনের পাশাপাশি সোমবার মহাসপ্তমীতে আমরা জেলার
চান্দিনা, দাউদকান্দি, হোমনা, মুরাদনগর ও দেবীদ্বার উপজেলার পূজা মন্ডপ
পরিদর্শন করি। অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের
শারদীয় উৎসব। প্রশাসনও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আমরা
কুমিল্লা পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে সকলকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানাই।
