কুমিল্লার
মনোহরগঞ্জের লক্ষণপুরে মাত্র ৪০ টাকা অটোরিকশার ভাড়া নিয়ে বাকবিতণ্ডার
জেরে ফরহাদ হোসেন (১৯) নামে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি মাহফুজসহ ৩
জনকে (১৫) গ্রেফতার করেছে করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) নিহত
ফরহাদ হোসেনের পিতা মিজানুর রহমান বাদী হয়ে মনোহরগঞ্জ থানায় মাহফুজুর
রহমানকে প্রধান আসামি করে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের
করেন। পরে এ হত্যা মামলায় মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিপুলাসার ইউনিয়নের সাইকচাইল
গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে মাহফুজ, চাচা হেদায়েত উল্লাহ ও ওমর ফারুককে
গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে গত সোমবার (১ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার
লক্ষণপুর বাজারে বুকে রড ঢুকিয়ে ফরহাদকে হত্যা করা হয়। নিহত ফরহাদ লক্ষণপুর
গ্রামের মিজান মিয়ার ছেলে। পরে অভিযুক্ত মাহফুজ ঘটনার পরপরই পালিয়ে যাওয়ার
সময় বিপুলাসার ইউনিয়নের সাইকচাইল বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে
পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরহাদ ও মাহফুজ দীর্ঘদিন ধরে
একসঙ্গে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। সোমবার লক্ষণপুর ইউনিয়নের সফুরা গ্রামে
কাজ শেষে তারা আরও দুই সহকর্মীসহ একটি অটোরিকশায় করে লক্ষণপুর বাজারে আসেন।
গাড়ি থেকে নেমে মাহফুজ ভাড়া না দিয়েই চলে যান। পরে ফরহাদ তাকে ভাড়া না
দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ফরহাদের
হাতে থাকা রড জাতীয় একটি ধারালো বস্তু তিনি মাহফুজের বুকে ঢুকিয়ে দেন বলে
অভিযোগ রয়েছে। তৎক্ষণাৎ মাহফুজ ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। স্থানীয়রা গুরুতর আহত
ফরহাদকে উদ্ধার করে একটি স্থানীয় ওষুধের দোকানে নিয়ে যান। সেখান থেকে
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
ফরহাদের
মৃত্যুতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে মনোহরগঞ্জেউপজেলা সেনা ক্যাম্পের
ক্যাপ্টেন তাহমিদ বিন ফারুকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে
গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মনোহরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি)
বিপুল চন্দ্র দে বলেন,ফরহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাবা মিজানুর রহমান বাদী
হয়ে মাহফুজসহ ৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় এখন
পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেফতরা করা হয়েছে।
