
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ক্রিকেটীয় নানা উন্নয়নে ব্যস্ত সময় পার করছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন আইসিসির হয়ে। যে কারণে অনেক দেশের সঙ্গে কাছ থেকে কাজ করার অভিজ্ঞতার রয়েছে বুলবুলের। এবার জাতীয় দলের স্কোয়াড গঠন, মানদণ্ড ও কাঠামো নিয়ে তিনি কথা বলেছেন।
গতকাল শনিবার (২৬ জুলাই) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বিসিবি সভাপতি বুলবুল আফগানিস্তানের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘কীভাবে ইমার্জিং ও হাইপারফরম্যান্স দল গঠন করা হবে এবং কোন মানদণ্ডের ভিত্তিতে হাইপারফরম্যান্স থেকে খেলোয়াড়রা জাতীয় দলে যাবে সেগুলো অত্যন্ত কঠোরতার সঙ্গে যাচাই করত আফগানিস্তান।’
খেলোয়াড় বাছাইয়ে স্বচ্ছ ও কঠিন একটি পদ্ধতি থাকতে হবে বলে মনে করেন বুলবুল, ‘দল নির্বাচনে একটা পদ্ধতি থাকা উচিৎ। সে অনুসারে খেলোয়াড়দের খেলার সুযোগ দেওয়া যাবে। (দলে আসতে হলে) সেই পদ্ধতি ও ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যেই তাদের পারফরম্যান্স করতে হবে। ওইটা না থাকলে আমরা আমাদের লক্ষ্য হারিয়ে ফেলব।’
আন্তর্জাতিক সূচির সঙ্গে ঘরোয়া টুর্নামেন্টের ফরম্যাটে মিল রাখলে প্রস্তুতির সঠিক প্রয়োগ হবে জানিয়ে বিসিবি প্রধান বলেন, ‘জাতীয় দলের খেলার সঙ্গে মিল রেখে ঘরোয়া ক্রিকেটের ফ্রেইমওয়ার্ক ঠিক করতে হবে। যেমন আমাদের দল যদি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এশিয়া কাপ খেলতে যায়, তাহলে এশিয়া কাপের আগে ঘরোয়া ক্রিকেট অবশ্যই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হতে হবে। এভাবে সবকিছু বিশ্লেষণ করতে হবে। সবকিছুই আমরা ধীরেধীরে প্রয়োগ করব।’
গিল-জাদেজা-ওয়াশিংটনের সেঞ্চুরিতে ম্যাচ বাঁচাল ভারত

ইংল্যান্ডের জয়ের আশা উবে যায় অনেক আগেই, তবু শেষ বিকেলে ম্যানচেস্টারে ছড়াল উত্তেজনা। সেঞ্চুরির দুয়ারে ভারতের ম্যাচ বাঁচানোর দুই নায়ক রাভিন্দ্রা জাদেজা ও ওয়াশিংটন সুন্দার। তাদের উত্যক্ত করার যথেষ্ট চেষ্টা করলেন ইংলিশ ক্রিকেটাররা। সেসব সামাল দিয়ে তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পেলেন দুই অলরাউন্ডারই। এরপরই ড্র মেনে নিলেন দুই অধিনায়ক।
অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফির ওল্ড ট্র্যাফোর্ড টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিন কেবল দুটি উইকেট নিতে পেরেছে ইংল্যান্ড। ৪ উইকেটে ৪২৫ রান করে দিন ও ম্যাচ শেষ করেছে ভারত।
ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিতে ২০৬ বলে ৯ চার ও এক ছক্কায় ১০১ রানে অপরাজিত ছিলেন ওয়াশিংটন। ১৮৫ বলে ১৪ চার ও এক ছক্কায় ১০৭ রানে অপরাজিত থাকেন জাদেজা।
অনেক চেষ্টাতেও এই দুজনের জুটি ভাঙতে পারেনি স্বাগতিকরা। সাবলীল ব্যাটিংয়ে অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেটে ২০৩ রানের জুটি গড়েন ওয়াশিংটন ও জাদেজা।
এই দুজনের আগে সেঞ্চুরির উষ্ণ ছোঁয়া পান শুবমান গিল। সিরিজে সাতশ রানের মাইলফলক ছোঁয়া ভারত অধিনায়ক ১২ চারে ২৩৮ বলে খেলেন ১০৩ রানের ঝকঝকে ইনিংস।
পঞ্চম দিন রোববার ২ উইকেটে ১৭৪ রান নিয়ে খেলা শুরু করে ভারত। তখনও ১৩৭ রানে পিছিয়ে ছিল সফরকারীরা।
আগের দিন দারুণ দৃঢ়তা দেখানো তৃতীয় উইকেট জুটি এদিন খুব একটা লড়াই করতে পারেনি। দিনের শুরুতেই ফিরে যান লোকেশ রাহুল। বেন স্টোকসের বলে ৯০ রানে এলবিডব্লিউ হন এই ওপেনার। তার ২৩০ বলের ইনিংস গড়া ৮ চারে।
১৮৮ রানের জুটি ভাঙার পর খুব বেশিক্ষণ টেকেননি গিল। সেঞ্চুরি ছুঁয়েই জফ্রা আর্চারের বলে কট বিহাইন্ড হন এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।
এরপর শুরু হয় ওয়াশিংটন ও জাদেজার লড়াই। দ্বিতীয় নতুন বল সামাল দিয়ে ধীরে ধীরে দলকে এগিয়ে নেন দুই ব্যাটসম্যান।
৯২ বলে তাদের জুটি স্পর্শ করে পঞ্চাশ, ১৮৪ বলে একশ। একটু দ্রুত রান তোলেন জাদেজা, তাকে দারুণ সঙ্গ দেন ওয়াশিংটন।
৮৬ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করা জাদেজা সেঞ্চুরিতে পৌঁছান ১৮২ বলে। ২০৬ বলে তিন অঙ্কের উচ্ছ্বাসে মাতেন ওয়াশিংটন। সেখানেই শেষ হয় ম্যাচ।
ইংল্যান্ডের একমাত্র ইনিংসে সেঞ্চুরি ও ভারতের প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া স্বাগতিক অধিনায়ক স্টোকস জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ইংল্যান্ড। আগামী বৃহস্পতিবার দা ওভালে শুরু হবে পঞ্চম ও শেষ টেস্ট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত ১ম ইনিংস: ৩৫৮
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৬৬৯
ভারত ২য় ইনিংস: (আগের দিন ১৭৪/২) ১৪৩ ওভারে ৪২৫/৪ (রাহুল ৯০, গিল ১০৩, ওয়াশিংটন ১০১*, জাদেজা ১০৭; ওকস ২৩-৪-৬৭-২, আর্চার ২৩-৩-৭৮-১, কার্স ১৭-৩-৪৪-০, ডসন ৪৭-১১-৯৫-০, রুট ১৯-২-৬৮-০, স্টোকস ১১-২-৩৩-১, ব্রুক ৩-০-২৪-০)
ফল: ড্র
সিরিজ: ৫ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ইংল্যান্ড
ম্যান অব দা ম্যাচ: বেন স্টোকস
