প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫, ১:৩২ এএম আপডেট: ১১.০৭.২০২৫ ২:২১ এএম |
জুলাই বিপ্লবে অংশ নিয়েছিলেন দেশের সর্বস্তরের মানুষ—আবাল, বৃদ্ধ, বনিতা। বাদ যাননি ছোট্ট শিশুরাও। তেমনি দুই শিশু সন্তান—সাত বছর বয়সী আজফার রেস্তিন সোবহানী আর চার বছরের কম বয়সী আরিজ রিদওয়ান সোবহানী। দু’জনই যথাক্রমে কেজি এবং প্লে-গ্রুপের শিক্ষার্থী। ইংরেজি ভার্সনের রাজধানী ঢাকার সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মালিবাগ শাখার ছাত্র তারা। তাদের বাড়ি কুমিল্লা শহরের ছোটরায়। ঢাকায় ব্যবসায়ী বাবা আজাদ সোবহানী, তার স্ত্রী এবং এই দুই সন্তান নিয়ে মালিবাগে বসবাস করেন।
কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে দ্বিতীয় দফায় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই তাদের বাবা আজাদ সোবহানী ও তার স্ত্রী সৈয়দা রুদাবা রাকিব স্কুল ছুটির পর বাসায় না এসে সরাসরি চলে যান ঢাকার মালিবাগ মোড়ে, অংশ নেন বিক্ষোভে। ওই দিন রাতের সংঘর্ষের পরে কিছুতেই মন মানছিল না তাদের বাবা আজাদ সোবহানীর। সেই সময়টা এতটাই কঠিন ছিল যে, বেশ কিছু স্কুল ও কলেজ থেকে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সতর্ক করা হচ্ছিল আন্দোলনে অংশ না নিতে। অংশগ্রহণ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল।
তার পরেও নিজের বিবেকের তাড়নায় ১৮ জুলাই পুরো পরিবার নিয়ে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে গিয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন আজাদ সোবহানী।
তিনি জানান, “আমি তাকিয়ে ছিলাম, আমার বাচ্চারা স্লোগান দিচ্ছিল—‘কোটা চাই না, মেধা চাই, কোটা চাই না, মেধা চাই।’ ছোটটা ওর মার হাত ধরে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করছিল, ‘এত পুলিশ কেন?’ স্লোগানে স্লোগানে লোকান্তরিত কাকরাইল মোড়। দুপুর ১টার কিছুক্ষণ পর, সম্ভবত জোহরের আজানের পরে, বিপরীত দিক—হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের সামনে থেকে কাকরাইল মোড়ে এসে স্বৈরাচার ক্যাডার বাহিনীর লোকজন আমাদের উপর হামলা করল। দিকবিদিক দিশেহারা হয়ে ছোটাছুটি করছিলাম। পথ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। কিন্তু কোনোভাবেই সামাল দিতে পারছিলাম না। চারদিক থেকে আমাদের দিকে ইট-পাটকেল মারা শুরু করল। সন্ত্রাসীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ল, বেশ কিছু শিক্ষার্থী আহত হয়ে রক্তাক্ত হলো। ছোট ছোট দুটি বাচ্চাকে নিয়ে আমি আর বাচ্চাদের মা দৌড়াচ্ছিলাম। পাশে বিল্ডিং—জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-র গেট বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু একজন আনসার সদস্য গেট খুলে ভিতরে আশ্রয় দিল।”
এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে আজাদ সোবহানী প্রশ্ন রেখে বলেন— “কী অপরাধ ছিল আমাদের? কোটা পদ্ধতির অবসানই তো চেয়েছিলাম আমরা।”