আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে। বাড়ছে খুনখারাবি, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ, রাহাজানি, লুটতরাজের মতো ঘটনা। পথে-ঘাটে হানা দেওয়ার পাশাপাশি বাসায়ও হানা দিচ্ছে দুর্বৃত্তরা।
ফলে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার অভাববোধ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে একের পর এক নানা ধরনের অপরাধ ঘটে চলেছে। ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি থেকে খুন, ধর্ষণও হচ্ছে অবলীলায়। সারা দেশে চলমান ‘ডেভিল হান্ট’ কর্মসূচির মধ্যেও থেমে নেই অপরাধচক্রের এসব অপকর্ম।
প্রকাশ্যে, জনারণ্যেও এসব ফৌজদারি অপরাধ ঘটছে। অপরাধীরা কাউকেই তোয়াক্কা করছে না; বরং দিনে দিনে তারাও আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অব্যাহত এমন কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।
নেওয়া হচ্ছে নানামুখী পদক্ষেপ। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে অভিযান আরো জোরদার করা হচ্ছে। অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে আরো টহল বাড়ানো হবে, চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হবে। আইন-শৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেছেন, সবাই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ‘সিরিয়াসলি’ নিয়েছেন। এতে ঢাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সন্ধ্যার পর থেকে যৌথ প্যাট্রল শুরু হবে। ঢাকায় যেসব জায়গায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়ছে, সেসব জায়গায় প্যাট্রল বাড়বে। পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও নৌবাহিনীর যৌথ প্যাট্রল শুরু হবে। পুরো ঢাকা শহরে অনেক জায়গায় চেকপোস্ট (তল্লাশি চৌকি) বসবে। আইন-শৃঙ্খলা নজরদারি করা হবে। গোয়েন্দা সংস্থার অ্যাক্টিভিটিজ আরো বাড়ানো হবে। সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় সারা দেশে অনেক থানায় হামলা হয়। অস্ত্র, গোলাবারুদ লুট হয়। কয়েকটি কারাগারেও হামলা হয়। অস্ত্র লুটের পাশাপাশি অনেক অপরাধীও বের হয়ে যায়। পুলিশ সূত্রের তথ্য নিয়ে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসীদের অনেকের কাছে অস্ত্র রয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে গণ-অভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া অস্ত্র। পুলিশের তথ্যমতে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় গত ৫ ও ৬ আগস্ট দেশের বিভিন্ন থানা ও কারগারে হামলা চালিয়ে পিস্তল, রিভলবার, শটগানসহ ১১ ধরনের পাঁচ হাজার ৭৫০টি অস্ত্র লুট হয়। এর মধ্যে চার হাজার ৩৬৬টি অস্ত্র গতকাল পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৩৮৪টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া জঙ্গিদের মধ্যে এখনো ১২ জন গ্রেপ্তারের বাইরে রয়েছে।
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ। মানুষ স্বস্তি চায়। নিরাপদে মানসম্মান নিয়ে বাঁচতে চায়। তাদের সেই পরিবেশ দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কাজেই সারা দেশে পুলিশি কর্মকাণ্ড দ্রুত স্বাভাবিক করতে হবে। যৌথ অভিযানের পরিধি আরো বাড়াতে হবে। নিরাপদে এবং মানসম্মান নিয়ে বসবাস করা মানুষের মৌলিক অধিকার। আমরা চাই, দ্রুততম সময়ে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হোক। পুলিশি কার্যক্রম জোরদার করা হোক। আমাদের প্রত্যাশা, সরকারের জোরদার উদ্যোগে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে। মানুষ নিরাপদ বোধ করবে। দুর্বৃত্তদের দমন করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।
