
আশ্বাস
দিয়ে সহজ-সরল মানুষের টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়া বিভিন্ন
প্রতিষ্ঠানের খবর মাঝেমধ্যেই আসে গণমাধ্যমে। সবার কাছে এসব প্রতিষ্ঠান ‘হায়
হায় কম্পানি’ নামে পরিচিত। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে,
ফরিদপুরের নগরকান্দায় প্রায় অর্ধকোটি টাকা নিয়ে ফেমাস বাংলা ফাউন্ডেশন
নামের একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) পালিয়ে গেছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের
হতদরিদ্র মানুষকে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয় তারা।
প্রকাশিত
খবরে বলা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে ফেমাস বাংলা ফাউন্ডেশন উপজেলা পরিষদের
পাশে বাড়িভাড়া নিয়ে অফিসের কার্যক্রম শুরু করে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে
ঘুরে ঘুরে হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে টার্গেট করে তারা। এসব পরিবারের নারীদের
নানা প্রলোভন দিয়ে সাপ্তাহিক সঞ্চয় শুরু করে। কয়েক সপ্তাহ পরে অল্প সুদে
মোটা অঙ্কের ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে এককালীন ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে
সঞ্চয় জমা নেয়। এভাবে প্রায় অর্ধকোটি টাকা সঞ্চয় সংগ্রহ করে। এ ধরনের ঘটনা
এটাই প্রথম নয়। এর আগেও এমন ঘটনা অনেক ঘটেছে। গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে
ধোঁকা দিয়ে কোটি কোটি টাকার আমানত সংগ্রহ করার পর তা ফেরত না দিয়ে গাঢাকা
দেওয়ার অনেক খবরই এসেছে গণমাধ্যমে। কিন্তু এসব ‘হায় হায় কম্পানি’র প্রতারণা
বন্ধ হয়নি।
ওদিকে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে
ডিজিটাল প্রতারণা। নানাভাবে পাতা হয় প্রতারণার ফাঁদ। এ ধরনের নানা খবরও
বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কালের কণ্ঠে গতকাল প্রকাশিত এক খবরে
বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘জাল টাকা প্রতারকচক্রবিরোধী
পোস্ট’ নামে একটি পেজ খুলে করা হচ্ছিল প্রতারণা। এই অভিযোগে এরই মধ্যে
প্রতারকচক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র্যাব জানিয়েছে, এই চার তরুণ
ইউটিউব, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে জাল টাকার কারবারে
আকৃষ্ট হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছে, পরস্পর
যোগসাজশে তারা প্রায় এক বছর ধরে ঢাকা, সিরাজগঞ্জ, খুলনা, যশোরসহ বিভিন্ন
এলাকায় জাল নোট তৈরি করে স্বল্পমূল্যে বিক্রি করত। এ ছাড়া এই চক্রের
সদস্যরা বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং দোকান, মাছের আড়তসহ জনসমাগমপূর্ণ এলাকায়
জাল নোট ব্যবহার করত। চক্রটি প্রথমে মেসেঞ্জারে ‘এক্স-ম্যান’ নামের একটি
গ্রুপ খুলে জাল টাকা তৈরি ব্যবসার বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদান করত। যখন জাল
নোটের ব্যবসা রমরমা থাকে তখন চক্রটি দৈনিক দুই লাখ টাকার জাল নোট তৈরি করে
চক্রের সদস্যদের মাধ্যমে ঢাকাসহ সিরাজগঞ্জ, খুলনা, যশোর এলাকায় সরবরাহ করত।
সমাজে
এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা একের পর এক ঘটেই চলেছে। তার পরও কোনোভাবে সচেতন
হচ্ছে না মানুষ। সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতার প্রয়োজন আছে। তবে
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সবার আগে তৎপর হতে হবে। এই প্রতারকদের এক এক
করে আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে। নতুন নতুন প্রতারকচক্র যেন নতুন কোনো জাল
পাততে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।