.
 
Publish Date: 30 Nov -0001 00:00:00

কুমিল্লা পোল্ট্রি শিল্প হুমকির মুখে
Share
স্টাফ রিপোর্টার।। কুমিল্লায় ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে প্রতিনিয়ত চোরাইপথে রোগাক্রান্ত ব্রয়লার মুরগির ডিম ও বাচ্চা আমদানির ফলে হুমকির মুখে পড়েছে কুমিল্লা পোল্ট্রি শিল্প। অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে ভারতীয় ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা পাওয়ায় দেশীয় হ্যাচারির বাচ্চা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে পোল্ট্রি ব্যবসায়ী ও খামারিরা। ফলে দেশীয় খামারের বাচ্চা বিক্রি না হওয়ায় বন্ধ হতে বসেছে ব্রিডারফার্ম, বেকার হয়ে পড়ছেন শত শত শ্রমিক। এছাড়াও অধিকাংশ পোল্ট্রি মালিকরা ফার্ম অন্যত্র ভাড়া দিয়ে বিদেশে চলে গেছেন। ফার্ম ভাড়া নিয়েও মুরগী পালনে করতে বরাবরই হিমশিম খাওয়ার কারণে গুটিয়ে নিয়েছে পোল্ট্রি ফার্ম। সূত্র জানায়, কুমিল্লার পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ রোগাক্রান্ত মুরগির বাচ্চা ও ডিম অবৈধভাবে দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ১২৫ কিলোমিটারের ৫টি উপজেলার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। সীমান্তবর্তী হওয়ায় কুমিল্লা জেলাসহ উপজেলায় এ সব মুরগির বাচ্চা ও ডিমের বিশাল মার্কেট গড়ে উঠেছে। অবৈধ পথে আসা ভারতীয় রোগাক্রান্ত মুরগির বাচ্চা বিক্রি করে অধিক মুনাফা পাওয়ায় ডিলাররা দেশীয় মুরগির বাচ্চা বিক্রয় বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে কুমিল্লা মুরগী ফার্মে বাচ্চা উৎপাদনকারী খামারও প্রায় বন্ধের পথে। তবে মুরগির বাচ্চা অবৈধভাবে কুমিল্লা প্রবেশ করেছেন বেশির ভাগ কুমিল্লা সদর সদর দক্ষিণের সদর উপজেলার শিবেরবাজার, তেলকুপিবাজার, নিশ্চিন্তপুর, অরণ্যপুর, বিবির বাজার, গোলাবাড়ি, শাহপুর, সংরাইশ, সাহাপাড়া, সদর দক্ষিণের বৌয়ারা বাজার, সূর্যনগর, একবালিয়া, লক্ষ্মীপুর, তালপট্টি, সুবর্ণপুর, ভাটপাড়া, কালিকাপুর, দরিবটগ্রাম, নালবাগ, কনেশতলা, মথুরাপুরসহ তালকাটা বেড়া নেই এসব স্থান দিয়ে প্রতিনিত মুরগির বাচ্চা আসছে। কুমিল্লার বালুতুপা এলাকার পোল্ট্রি খামারি জাবেদ, জাহিদ, রিপন জানায়- মরগির বাচ্চা অতিরিক্ত দামের কারণে এ ব্যবসা গুটিয়ে ফেলেছি। দেশীয় হ্যাচারির মুরগির বাচ্চার দাম প্রতিটি ৭৫-৮০টাকা। অপর দিকে ভারতীয় বাচ্চার দাম ৪০-৪৫ টাকা। ভারতীয় বাচ্চার দাম কম হওয়ায় বাচ্চা নিচ্ছেন। তিনি আরো জানান, বেশি দাম দিয়ে দেশীয় হ্যাচারির মুরগির বাচ্চা ক্রয় করে বিক্রির সময় দাম না পাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। ফলে আমরা ছাড়াও অধিকাংশরাই মুরগি খামার ব্যবসা গুটিয়ে ফেলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ডিলার ভারতীয় মুরগির বাচ্চা বিক্রির কথা স্বীকার করলেও মুরগির বাচ্চা রোগাক্রান্ত এ কথা স্বীকার করেননি। তিনি জানান- পোল্ট্রি খামারিদের ব্যবসায় ধরে রাখতে বাধ্য হয়েই তারা কম দামের ভারতের বাচ্চা খামারিদের সরবরাহ করছেন। অথচ আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী বার্ডফু আক্রান্ত কোনো দেশ থেকে বাচ্চা, গোশত, ডিম ও আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে চোরাই পথে মুরগির বাচ্চা ও ডিম এনে দেশীয় পোল্ট্রি শিল্পকে হুমকির মধ্যে ফেলেছে। এ বিষয়ে কুমিল্লা পোল্ট্রি ব্যবসায়ী ভাই ভাই হ্যাচারীর মালিক আরিফ জানায়- কুমিল্লা-ভারত খুব কাছাকাছি হওয়ায় এবং সীমান্ত দিয়ে অধিকাংশ স্থানে তার কাটার বেড়া না থাকার কারণে বিজিবি সদস্যদের ফাঁকি দিয়ে রাতের আধারে সুকৌশলে কম মূল্যে রোগাক্রান্ত মুরগির বাচ্চা কুমিল্লায় প্রবেশ করার কারণে বাংলাদেশের মুরগির হ্যাচারিগুলোও আজ পথে বসেছে। কম মূল্যে এবং রোগাক্রান্ত বাচ্চাদের প্রতি জুগছে পোলট্রি মালিকরা। তিনি জানান, খাদ্য ভ্যাকসিন মেডিসিন দেশে তেমন উৎপন্ন না হওয়ায় বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, ফলে বাচ্চা উৎপাদন খরচ বেশি হচ্ছে। তিনি দাবি করেন ভারত বেশি দিন এই মূল্যে বাচ্চা সরবরাহ করতে পারবে না। ফলে কুমিল্লা পোলট্রির শিল্প ধ্বংস করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কম দামে বাচ্চা সরবরাহ করছে। এ বিষয়ে বিজিবি এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান- কুমিল্লার সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় মুরগির বাচ্চা প্রবেশ করছে না। আমরা সবসময় প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছি। তবে অন্য কোনো বর্ডার এলাকা দিয়ে বাচ্চা প্রবেশ করছে কি না তা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সদস্যদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 
The Sire Design Mantain & Developed by RiverSoftBD