পত্রিকা আপডেট-১২:৩০ ।। সর্বশেষ খবর আপডেট ২৪ ঘন্টা
 
Publish Date: 30 Nov -0001 00:00:00

নেতৃত্বশূন্য কুমিল্লা সমবায় ব্যাংক
Share
শতবছরের পুরনো কুমিল্লা সমবায় ব্যাংক গত আড়াই বছর যাবত নেতৃত্বশূন্য। সমবায়ীদের নির্বাচিত নেতৃত্ব শূন্যতার কারণে ব্যাংকের কর্মকাণ্ড কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ব্যাংকটিতে কখনো এতো দীর্ঘসময় এডহক কমিটি ছিলোনা। আজ সমঝোতা বৈঠকের কথা রয়েছে। ১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কুমিল্লা সমবায় ব্যাংক। ব্যাংক ও ট্যাংকের শহর নামে খ্যাত ছিলো কুমিল্লা। এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছিলো কুমিল্লা সমবায় ব্যাংক। ব্যাংকের বিগত ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ শেষ হয় ২০০৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর। বিগত বিদায়ী চেয়ারম্যান সাবেক পিপি এডভোকেট নাজমুস সাদাত সাদন জানান, ব্যাংকের বিধিমালা অনুযায়ী তিনি পর পর ২দফা দায়িত্ব পালন করার কারণে তাঁর পক্ষে আবারো একই দায়িত্বে আসা এবং এই পদের জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব ছিলো না। নিয়ম অনুযায়ী ২০০৯ সালের ১৭ ডিসেম্বরেই চেয়ারম্যান ও পরিচালক পদে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো। এর আগে ১৪ ডিসেম্বর সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। নির্বাচনে ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে ২জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তারা হলেন ড. আখতার হামিদ খান ফাউন্ডেশনের মহাসচিব এবং কুমিল্লা কেটিসিসিএ লি: এর সাবেক চেয়ারম্যান সমবায়ী মো: সিরাজুল হক ও বরুড়ার দি এন্টার প্রিনিয়র বহুমুখী সমবায় সমিতির প্রবীন সমবায়ী মো: মফিজুল ইসলাম। সিরাজুল হক তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রার্থীতার বৈধতা নিয়ে লিখিত অভিযোগ করায় সমবায় বিভাগের যুগ্ন নিবন্ধক তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। মনোনয়ন পত্র বাতিলের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে রীট পিটিশন দাখিল করেন। রীটপিটিশনের প্রেক্ষিতে হাইকোট ৩ মাসের জন্য নির্বাচন স্থগিত করে কারণ দর্শানোর নির্দেশ জারি করে। হাইকোট দ্বিতীয় তফায় আরো ৪ মাসের ন্য নির্বাচন স্থগিত করে। যা এখনো অব্যাহত আছে। ওই নির্বাচনে কুমিল্লা কোটবাড়ি সমবায় একাডেমীর সহকারী অধ্যাপক হাবিবুল ইসলাম নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচন স্থগিত হওয়ার কারণে ২০০৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী দেড় বছর কুমিল্লা সমবায় ব্যাংক চেয়ারম্যান ও এডহক কমিটি শূন্য ছিলো। সমবায় অধিদপ্তর ওই দেড় বছর ব্যাংকের ব্যবস্থাপনার জন্য একটি এডহক কমিটি গঠন করতে ব্যর্থ হয় বলে ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। ব্যাংকের বিধি বিধান এবং সমবায় বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী চেয়ারম্যান পদ শূন্য হওয়ার দিন থেকেই যুগ্ম নিবন্ধক একটি এডহক কমিটি গঠন করবেন বলে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। যুগ্ম নিবন্ধক আ: লতিফ নির্ধারিত সময়ের একমাসের পর ২০১০ সালের ১৭ জানুয়ারি একটি এডহক কমিটি করেন। মাত্র ৪ দিনের মাথায় তিনি তাঁর গঠিত কমিটি ২১ জানুয়ারি বাতিল করে দেন। পরবর্তীতে একই বছরের ২৮ জুন ৩ মাসের জন্য অন্তবর্তীকালীন একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির মেয়াদ একই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর শেষ হয়ে যায়। ওই কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ ৮ মাস ব্যাংক ব্যবস্থাপনা শূন্য থাকে। গত একবছরে ৪টি এডহক কমিটি গঠিত হয়েছে। বর্তমান ৩ সদস্য বিশিষ্ট এডহক কমিটির আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কুমিল্লা জেলা সমবায় অফিসের ডেপুটি জেলা সমবায় অফিসার মো: শহিদুল ইসলাম। তাঁর কমিটির অপর ২জন সদস্যও সরকারি কর্মকর্তা। গতকাল শহীদুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমরা সবকাজ করতে পারছি না। এডহক কমিটি ধারাবাহিক কাজকর্ম করতে পারছে। কিন্তু এডহক কমিটির কাজের সীমাবদ্ধতা আছে। কারণ তারা সমবায় এবং নির্বাচিত কমিটি নয়। এদিকে হাইকোর্টে বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তির বিষয়ে সমবায় বিভাগ কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করছেনা বলে জানিয়েছেন মো: সিরাজুল হক। তিনি আরো বলেন, নিয়ম মোতাবেক আমিই চেয়ারম্যান। কিন্তু মামলা জটিলতার কারণে দায়িত্ব পালন করতে পারছি না। এডহক কমিটির আহবায়ক উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, মামলা জটিলতা নিরসনের জন্য আজ শনিবার দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা বৈঠক হবার কথা রয়েছে। সিরাজুল হক এর সত্যতা স্বীকার করেন।
 
Total Reader : Hit Counter by Digits || The Site Design Mantain & Developed by RiverSoftBD