পত্রিকা আপডেট-১২:৩০ ।। সর্বশেষ খবর আপডেট ২৪ ঘন্টা
 
Publish Date: 30 Nov -0001 00:00:00

কুমিল্লায় চাষীদের মধ্যে নীরব হাইব্রিড বিপ্লব
Share
কুমিল্লায় কৃষকদের মাঝে হাইব্রিড ধান বীজের কদর বাড়ছে বহুগুণে। এ বছর কুমিল্লা জেলায় ২২ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের বোরো ধান আবাদ হয়েছে। গতবছর এই আবাদের পরিমাণ ছিল প্রায় ২০ হাজার হেক্টর। হাইব্রিড ধান আবাদ বৃদ্ধির পরিমাণ অব্যাহত থাকলে কুমিল্লায় হাইব্রিড বিপ্লব ঘটবে বলে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ আশা করছে। দেশে প্রতিদিনই জনসংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু জমি বাড়ছে না। বাড়তি জনসংখ্যার চাপ আর উন্নয়ন কাজের জন্য প্রতিবছর শতকরা এক ভাগ হারে আবাদী জমি কমে যাচ্ছে। একারণে কৃষি অর্থনীতিবিদ এবং কৃষি বিশেষজ্ঞগণ আশংকা প্রকাশ করে বলেছেন আগামী ৫০ বছর পর দেশে কোনো আবাদী জমি থাকবে না। বাড়তি জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মিটাতে দেশের কৃষি বিজ্ঞানী, কৃষি কর্মকর্তা, কৃষি কর্মী এবং কৃষকগণ নিরন্তর কাজ করছেন। কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে নতুন নতুন কলাকৌশল এবং প্রযুক্তি গ্রহণ ও প্রয়োগ করছেন। চাষীরা এখন বুঝতে পেরেছে ভাল বীজে ভাল ফলন। সে কারণে ফসল আবাদের জন্য তারা এখন সব ধরণের হাইব্রিড বীজ খুঁজছে। হাইব্রিড জাতের ধান আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির এক নয়া মেরুকরণ। চীন, জাপানসহ পৃথিবীর বহু দেশে শতকরা একশভাগ হাইব্রিড জাতের ধান আবাদ হচ্ছে। বাংলাদেশে আমদানি করা হাইব্রিড জাতের ধানের আবাদ শুরু হয়েছিল ১৯৯১ সাল থেকে। কিন্তু বীজ আমদানিকারকদের অসততার কারণে সে সময়ে তা চাষীদের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়। সে ধারাবাহিকতায় বেসরকারি পর্যায়ে বীজ আমদানি জোরদার ও সম্প্রসারণ করায় কয়েকটি কোম্পানি তাদের প্রতিশ্রতি নিয়ে এগিয়ে এসেছে। একই সাথে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাগণ হাইব্রিড জাতের ধান আবাদের জন্য কৃষকদের উদ্ধুদ্ধ করছেন। হাতে কলমে আবাদ করে উচ্চ ফলনশীল জাতের ব্রি ধানের চাইতে দ্বিগুণের বেশি ফলন পাওয়ায় চাষীরা ব্যাপক আকারে হাইব্রিড ধান চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন। কুমিল্লা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সুত্র জানায়, গতবছর জেলার ১৬টি উপজেলার ২০ হাজার হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের বোরো ধান আবাদ হয়েছিল। চলতি বছর হাইব্রিড জাতের বোরো আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। এবছর কুমিল্লার ১৬ টি উপজেলার প্রায় ২২ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের বোরো আবাদ হয়েছে বলে কুমিল্লা কৃষি সক্স্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ শহিদ উল্লাহ জানিয়েছেন। তার মধ্যে সর্বোচ্চ প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধান আবাদ হয়েছে মনোহরগঞ্জ উপজেলায়। কুমিল্লায় চাষীদের আবাদকৃত হাইব্রিড ধানের জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে এলপি-৫০, হীরা এবং এলপি-৭০ আলোড়ন, জাগরণ, টিয়া, ময়না উল্লেখযোগ্য। হাইব্রিড ধানের জনক গণচীন। গণচীনের প্রফেসর ইয়ান লং পিং প্রথম হাইব্রিড ধানের উদ্ভাবন করেন। হাইব্রিড বোরো ধানের চাষ পদ্ধতি অন্যান্য উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের মতই। ৩০/৩৫ দিন বয়সের চারা জমিতে ১টি করে লাগাতে হয়। এক বিঘা জমি আবাদ করতে সর্বোচ্চ মাত্র ২ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাগণ জানান, হাইব্রিড ধানের বীজ থেকে উৎপাদিত ফসল কোনো অবস্থাতেই পরবর্তী বছর বীজ হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। হাইব্রিড বোরো বীজ ধান দিয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ভাটকেশ্বর গ্রামের আবুল কাশেম তার জমি আবাদ করেছেন। তিনি একরে ১২০ মণ ফলন পেয়েছেন। একইভাবে মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিনয়ঘর গ্রামের চাষী মোঃ আবদুল মালেক, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার হাসানপুর গ্রামের চাষী আব্দুর রহিম হাইব্রিড বীজ দিয়ে বোরো আবাদ করেছেন। ফলন পেয়েছেন হেক্টরে (আড়াই একরে ১ হেক্টর) ১২ মেট্রিকটন। কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ শহিদ উল্লাহ জানান, ব্রি ধানের চাইতে প্রায় দ্বিগুণ ফলন হয় হাইব্রিড ধানের। তাই চাষীদের মাঝে হাইব্রিড ধান আবাদ ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, হাইব্রিড ধান আবাদে কিছুটা বেশি যত এবং সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। হাইব্রিড ধানের পাশাপাশি সুপার হাইব্রিড জাতের ধান উদ্ভাবনের চেষ্টা চলছে। আগামী বছর কুমিল্লায় হাইব্রিড বোরো ধান আবাদের পরিমাণ ৩০ হাজার হেক্টর ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি মনে করছেন। এ বছর কুমিল্লার ১৬টি উপজেলায় হাইব্রিডসহ ১ লক্ষ ৬৩ হাজার ৭১৫ হেক্টর জমিতে উচ্চফলনশীল (উফশী) জাতের বোরো আবাদ হয়েছে বলে তিনি জানান।
 
Total Reader : Hit Counter by Digits || The Site Design Mantain & Developed by RiverSoftBD