.
 
Publish Date: 30 Nov -0001 00:00:00

ব্রাহ্মণপাড়ায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ
Share
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার দুলালপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে ২৮টি উন্নয়ন প্রকল্পে কোন কাজ না করে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে ১৫ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করা হয়েছে। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুর রহমান এ অভিযোগ দাখিল করেন। নির্বাহী কর্মকর্তার ৩১৯ নং স্মারকে উল্লেখ করেন ২০০৮ থেকে ২০১১ অর্থবৎসরে দুলালপুর ইউনিয়নের অনুকুলে এল জি এস পির থোক বরাদ্ধ এবং স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর কর ১% খাত হতে বরাদ্ধকৃত অর্থে গৃহীত প্রকল্পের কাজ সরেজমিনে তদন্তের জন্য উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ নজাংল ইসলাম আহবায়ক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তাহমিনা হক পপি ও উপজেলা প্রকৌশলী ব্রাহ্মণপাড়া মোঃ হাবিবুর রহমান ফরাজীকে সদস্য করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। এই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, দুলালপুর ইউনিয়নের তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আক্তার হোসেন ও ইউপি সদস্য গন ২৮ টি প্রকল্পের কোন প্রকার কাজ বাস্তবায়ন না করেই সরকারী অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আক্তার হোসেনকে ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদনের যথাযথ কারণ দর্শানোর জন্য নোটিশ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। নির্ধারিত তারিখের মধ্যে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান কোন লিখিত জবাব দিতে ব্যর্থ হন। পরে তিনি সরকারী সার্থ রক্ষায় উক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবহা গ্রহনের নিমিত্তে দূর্নীতি দমন কমিশনের নিকট লিখিত এই অভিযোগ দাখিল করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখিত প্রকল্প গুলো হচ্ছে- ২০০৮-০৯ অর্থ বৎসরে এলজিএসপির গোপালনগর নজরুল এর বাড়ি হইতে মাইন উদ্দিনের বাড়ি হইতে রাস্তা পাকা করন। বরাদ্ধকৃত অর্থ ছিল ১ লক্ষ টাকা। একই প্রকল্পের দুলালপুর মহালক্ষীপাড়া রাস্তায় সেলিম ভুইয়ার বাড়ির পূর্ব পার্শ্বে বক্স কালভার্ট নির্মান, বরাদ্ধকৃত অর্থ ছিল ৫০ হাজার টাকা, একই প্রকল্পের বেজোড়া ৮ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে টিউবওয়েল স্থাপন বাবদ বরাদ্ধকৃত অর্থ ছিল ৫০ হাজার টাকা, দুলালপুর, জাফরগঞ্জ রাস্তার পাশে কালাম মেম্বার এর বাড়ির সংযোগ রাস্তার বক্স কালভার্ট নির্মান বরাদ্ধকৃত অর্থ ছিল ৫০ হাজার, গোপালনগর শেখ মন্দের বাড়ি হইতে শাহ জাহান চেয়ারম্যানের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামত বরাদ্ধকৃত অর্থ ছিল ৫০ হাজার টাকা, গোপাল নগর মাউদ আলীর বাড়ি হইতে মফিজ লন্ড্রীর বাড়ি নির্মান বাবদ অর্থ ৫০ হাজার টাকা, গোপালনগর দঃ পাড়া জামাল ডাক্তারের বাড়ি হইতে আলী মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পাকা করনের বরাদ্ধ ছিল ১ লক্ষ টাকা, বেজোড়া শাসনখলা রাস্তায় মৌলভির বাড়ির দক্ষিনে বক্স কালভার্ট নির্মান বাবদ ৫০ হাজার টাকা, বেজোড়া বেপারী বাড়ির পশ্চিম পার্শ্বে কালভার্ট নির্মান বাবদ ৫০ হাজার টাকা, দঃ দুলালপুর কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমান প্রাচীর নির্মান বাবদ ৫০ হাজার টাকা, গোপালনগর আদর্শ কলেজের রাস্তায় খালে টু-ওয়াল নির্মান বাবদ ১ লক্ষ টাকা, বেজোড়া মতিন ডাক্তারের বাড়ির পঃ পার্শ্বে পাকা রাস্তায় এক পাশে টু-ওয়াল নির্মান বাবদ ৫০ হাজার বেজোড়া ৯ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে টিউবওয়েল স্থাপন বাবদ ৫০ হাজার, দুলালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পূর্ব পার্শ্বে খালে রির্টানিং ওয়াল বাবদ ৫০ হাজার, গোপালনগর কোরের পাড় হইতে দাখিল মাদ্রাসা পর্যন্ত রাস্তা মেরামত বাবদ ১ লক্ষ, গোপালনগর ইয়াকুব আলী মেম্বারের বাড়ির পশ্চিম দক্ষিণ পাশে রাস্তায় গর্ত বরাট বাবদ ৫০ হাজার, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর কর ১ %, অর্থ বৎসর ২০০৭ এর প্রকল্পের নাম দুলালপুর ইউনিয়নের পরিষদ অফিসের স্টিলের আলমারী কাঠের চেয়ার, টেবিল তৈরী করন বাবদ ৫৩ হাজার ৮শ ৪৩ টাকা, একই খাতের দুলালপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে রিং, স্ল্যাব, তৈরী করন ৩৫ হাজার ৮শ ৮৯ টাকা, একই খাতের গোপালনগর ফোরকানিয়া মাদ্রাসার দরজা, জানালা বাবদ ৪১ হাজার ৮শ ৭১ টাকা, একই খাতের গোপালনগর মাইন উদ্দিনের বাড়ির পশ্চিম পার্শ্বের ব্রীজের উভয় পার্শ্বে মাটি ভরাট বাবদ ৪৪ হাজার ২শ ৬৮ টাকা, একই খাতের দুলালপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে রিং ও স্ল্যাব তৈরী করন বাবদ ৫৩ হাজার ৮শ ৩৫ টাকা, গোপালনগর হাফিজিয়া মাদ্রাসার উন্নয়ন বাবদ ৩৫ হাজার ৮শ ৯০ টাকা, একই খাতের গোপালনগর দঃ বাজার ড্রেইন নির্মান বাবদ ৩৫ হাজার ৮শ ৯০ টাকা, একই বাজারের একই প্রকল্পের নির্মান বাবদ পর্যায়ক্রমে ৫৯ হাজার ৮শ ১৭ টাকা ও ১ লক্ষ ৫ হাজার ২শ ৭৭ টাকা ও ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৬শ ৯১ টাকা, ৩৫ হাজার ২শ ৯২ টাকা। এই সব প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন মোঃ আক্তার হোসেন। থোক বরাদ্ধ বাবদ তথ্য সেবা কেন্দ্র এর জন্য কম্পিউটার সহ মালামাল কেনা বাবদ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। এর মধ্যে ২০১০/১১ ইং অর্থবৎসরে থোক বরাদ্ধের সর্বমোট ১ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা পাওয়া গিয়াছে। তন্মধ্যে তথ্য সেবা কেন্দ্রের জন্য ৮০ হাজার টাকায় কম্পিউটার সহ মালামাল ক্রয় করা হইয়াছে। বাকি টাকায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন করা হয় নাই। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুর রহমান আইন গত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য ২০০৮-২০১১ অর্থ বৎসরের দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের অনুকুলে এলজিএসপির থোক বরাদ্ধ এবং স্থাবর সম্পত্থি হস্তান্তর কর ১% হতে বরাদ্ধকৃত অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য উপ পরিচালক দুর্নীতি দমন কমিশন কুমিল্লা ও অনুলিপি সদয় অবগতির জন্য জেলা প্রশাসক, কুমিল্লা চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদ ব্রা?হ্মণপাড়ার নিকট প্রেরন করেন। এসব প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন পারভিন আক্তার ৩ টিতে, জসিম উদ্দিন ৪ টিতে, আইয়ুব আলী ১ টিতে, আবদুর রশিদ ২ টিতে , আবদুল অহিদ ১ টিতে, মনিরুল ইসলাম ১ টিতে, হাফেজ আহাম্মেদ ২ টিতে, রুস্তম আলী ১ টিতে, আবদুস সাত্তার ১ টিতে, ও স্থ্বার সম্পত্তি হস্তান্তর কর ১% এর প্রকল্প সভাপতি ছিলেন ১১ টিতে মোঃ আক্তার হোসেন নিজে।
 
The Sire Design Mantain & Developed by RiverSoftBD