পত্রিকা আপডেট-১২:৩০ ।। সর্বশেষ খবর আপডেট ২৪ ঘন্টা
 
Publish Date: 30 Nov -0001 00:00:00

কুমিল্লায় দাম বাড়ছে সবজির: হরতালে জিনিসপত্রের দাম আরো বাড়বে
Share
এক সপ্তাহের ব্যবধানে কুমিল্লার বিভিন্ন বাজারে আলু, পটল, বেগুন,চিচিঙ্গা ও করলার দাম বেড়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে মাছের দাম কিছুটা স্থিতিশীল হলেও সবজির দাম বেড়েছে। বিভিন্ন সবজিতে ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলেছেন,লাগাতার হরতালের কারণে সবজির দাম বেড়েছে। হরতালের কারণে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় পাইকারি বাজার থেকে মাল না আসায় সবজির দাম বেড়েছে। তারা বলেন, এ ভাবে হরতাল চলতে থাকলে দেশের সব জিনিস পত্রের দাম বেড়ে যাবে। গত সপ্তাহের রোববার,সোমবার ও মঙ্গলবার তিন দিন হরতালে দেশের ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। গতকাল শুক্রবার কুমিল্লার বিভিন্ন সবজির বাজার, মুধিদোকন ,মোরগ-মুরগির বাজার ও মাছ বাজারে ক্রেতা-সাধারণকে কেনা-কাটা ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। সকাল সাড়ে ১০টায় নিউমার্কেটে বাজার করতে আসেন ভিক্টোরিয়া কলেজ রোডের এলাকার প্রদীপ কুমার তিনি জানান,গত তিন দিনের হরতালে দেশের সব জিনিস পত্রের দাম বেড়ে গেছে। তিনি বলেন,গত সপ্তাহ এ বাজার থেকে আলু কিনে ছিলাম ১৫ টা কেজি ধরে ১০ কেজি ১৫০ টাকা দিয়ে। আজ আলু কিনেছি ২৪ টাকা করে ৫ কেজি ১২০ টাকা দিয়ে। সামনের হরতাল হলে আলুর দাম আরো বেড়ে যাবে মনে করেন তিনি। রাজগঞ্জ বাজারে গিয়ে দেখা যায় ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। বাজার ভেদে সবজির বাজার,মাছের বাজার,মুরগির বাজার এবং মুদি দোকান গুলোতে ক্রেতা-সাধারনের ভিড় দেখা যায়। এ বাজারে কথা হয় আলু কিনতে আসা রিক্সার ড্রাইভার রফিক মিয়ার সাথে তিনি বলেন,ভাই আমি গরীব মানুষ রিক্সাসা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছি। বাজারে সব জিনিস পত্রের দাম বেড়ে যাচ্ছে। এ ভাবে জিনিস পত্রের দাম বাড়তে থাকলে আমাদের মত গরীব লোকদের কি অবস্থা হবে। তিনি বলেন,বাজারে এসেছি ১০০ টাকা নিয়ে তা দিয়ে মাছ ও তরিতরকারি কিনব। কিন্তু ১ (এক)কেজি আলু কিনেছি ২২ টাকা দিয়ে। আধা কেজি ছোট নলা মাছ কিনেছি ৫০ টাকা দিয়ে। আধা কেজি বেগুন ২০ টাকা এবং ৫ টাকার কাচা মরিচ কিনেছি। তিনি বলেন,গত তিন দিনের হরতালে আমাদের আয় রোজগার কমিয়ে দিয়েছে। সামনে হরতাল হলে আমাদের মত গরীবদের কি অবস্থা হবে জানি না। তবে মনে হচ্ছে না খেয়ে মরতে হবে। নগরীর বিভিন্ন সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে। আলু ২২ থেকে ২৪ টাকা,করলা ৫০ থেকে ৫৫ টাকা,চিচিঙ্গা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা,বরবটি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা,কইডা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, বগুন ৪০ থেকে ৪৫, পটল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৪৫ টাকা,টমেটো ২০ থেকে ২৫ টাকা,শশা ৩০ থেকে ৩৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর কাঁচামরিচ কোথাও ৭০, কোথাও ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ৬০ টাকা দরেও বিক্রি করতে দেখা গেছে কাঁচামরিচ এবং ধনিয়া পাতা ১০০ থেকে ১৫০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহ কাঁচামরিচ কোথাও ৬০, কোথাও ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। এ ছাড়া ৫০ টাকা দরেও বিক্রি করতে দেখা গেছে কাঁচামরিচ। বেগুন ৪০ থেকে ৪৫, পটল ৫০, ঢেঁড়স ৪০, করলা ৫০ থেকে ৫৫, কচুর মুখি ৫০, শশা ৩০,চিচিঙ্গা ৬০ ও আলু সাদা ২০,লাল ২৫,বরবটি ৫০,টমেটো ২০,কইডা ৪০,পুইশাক মোটা ২০ ,করলা ৫০ এবং ধনিয়া পাতা ৮০ থেকে ১৫০টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। চকবাজারে সুজানগর এলাকা থেকে মাছ কিনতে আসেন সুরুজ মিয়া তিনি জানান, গত সপ্তাহের এ বাজার থেকে কাতল মাছ কিনে ছিলাম কেজি প্রতি ৩৫০ টাকা করে দুই কেজি মাছ ৭শ টাকা দিয়ে। আজ কাতল মাছ না কিনে রই মাছ কিনেছি ২৫০ টাকা করে ২ কেজি ৫শ টাকা দিয়ে। তিনি বলেন, মাছের দাম মোটা-মুটি কম আছে তবে সবজির দাম বাড়ছে। তিনি আলু কিনেছেন ২২ টাকা কেজি ধরে ৩ কেজি,বরবটি ৬০ টাকারে ২ কেজি এবং বেগুন ৪০ টাকা করে ২ কেজি। এদিকে নগরীর বিভিন্ন মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে- তেলাপিয়া কেজি ১৩০-১৫০ টাকা,কাতল ৩০০-৩৫০ টাকা,সিলভার ১৭০-২০০ টাকা,বিগ্রেড ১৮০-২৩০ টাকা,পাংঙ্গাস ১৫০-২০০ টাকা,চিংড়ি ৫৫০-১০০০ টাকা,ছোট চিংড়ি প্রতি ভাগ ১৫০-২০০ টাকা,কই ২৫০-৩০০ টাকা,গজার ২৫০ টাকা এবং ইলিশ মাছ বড় সাইজের ৮০০-১০০০ টাকা,ছোট ইলিশ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহ মাছের দাম ছিল তেলাপিয়া কেজি ১৫০-২০০ টাকা,কাতল ৩৫০-৪০০ টাকা,সিলভার ১৮০-২০০ টাকা,বিগ্রেড ২০০-২৫০ টাকা,পাংঙ্গাস ১৭০-২০০ টাকা,চিংড়ি ৬০০-১২০০ টাকা,ছোট চিংড়ি প্রতি ভাগ ১৫০-২০০ টাকা,কই ২০০-৩০০ টাকা,গজার ২৫০ টাকা এবং ইলিশ মাছ বড় সাইজের ১০০০-১২০০ টাকা,ছোট ইলিশ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা বিক্রি হয়েছিল। রাজগঞ্জ বাজারে মাছের বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন জানান,সামনে হরতাল হলে মাছের দাম বেড়ে যাবে। গত তিন দিনের হরতালেও মাছের দাম ছিল বেশি। তিনি বলেন,গত বৃহস্পতিবার ১৫ হাজার টাকার পাঙ্গাস মাছ কিনে বাজারে বিক্রি করেছি ১৮ হাজার টাকা। আজ বাজারে ক্রেতা আছে কিন্তু মাছ কিনছে খুব কম।
 
Total Reader : Hit Counter by Digits || The Site Design Mantain & Developed by RiverSoftBD