.
 
Publish Date: 30 Nov -0001 00:00:00

কুমিল্লার ১২ উপজেলার২৩ হাজার কৃষক পাচ্ছেন ২ কোটি টাকার কৃষি সহায়তা : ৪টি উপজেলা বঞ্চিত
Share
কুমিল্লার ১২টি উপজেলার প্রায় ২৩ হাজার ক্ষুদ্র প্রান্তিক কৃষককে ২ কোটি টাকার সার ও বীজ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। জেলার আউশ আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সহায়তা পেকেজের আওতায় কৃষি উপকরণ বিতরণ করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। মেঘনা, হোমনা, তিতাস এবং মনোহরগঞ্জে আউশ আবাদ না হওয়ায় সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এই ৪টি উপজেলার প্রায় ১০ হাজার দরিদ্র কৃষক। ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষকরা আশা করেছিলো সরকার এ বছর ২০০৯ সালের মতো ভর্তুকি সহায়তা দেবে। এ লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রস্তুতিও গ্রহণ করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কৃষকদের সে আশা গুড়ে বালি। তাই কৃষি মন্ত্রণালয় সারা দেশে আউশের আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সহায়তা পেকেজ গ্রহণ করে। গৃহিত পেকেজের আওতায় কুমিল্লার ১২টি উপজেলার ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক আউশ চাষীদের তালিকা তৈরি করে কুমিল্লা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তালিকাভূক্ত ২২ হাজার ৯শ দরিদ্র, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে দেয়া হচ্ছে বীজ ও সার সহায়তা উপকরণ। ৪৫০জন চাষীকে দেয়া হবে এক বিঘা জমিতে আউশ আবাদের জন্য নেরিকা জাতের ৮ কেজি করে বীজ। এছাড়া ২২ হাজার ৪৫০জন চাষীকে দেয়া হবে ৫ কেজি করে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের বীজ। একই সাথে প্রত্যেক চাষী পাবেন ৩শ টাকার ১৬ কেজি করে ইউরিয়া সার, আড়াইশ টাকার ১০ কেজি করে ডিএপি সার এবং ২শ টাকার ১০ কেজি করে পটাশ সার। এখাতে ২ কোটিরও বেশি টাকা ব্যয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদ মাহবুব খান। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ সহায়তা প্রাপ্য কৃষকদের অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়- নৈরিকা বীজ আফ্রিকা থেকে আনা হয়েছে। এইটি বীজ প্রত্যয়ন সংস্থার অনুমোদিত নয়। তাছাড়া গতবছর নৈরিকা বীজ আবাদ করে কুমিল্লার অনেক চাষী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এবার আবারো সহায়তা পেকেজে ওই একই বীজ চাষীদের দেয়া হচ্ছে। এতে অনেক চাষী অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাগণ জানিয়েছেন। এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, কুমিল্লার নিচু ও জলাঞ্চল হওয়ায় মেঘনা, হোমনা, তিতাস ও মনোহরগঞ্জ উপজেলায় কোনো আউশ আবাদ হয় না। আর একারণেই এই ৪টি উপজেলার দরিদ্র চাষীরা আউশ আবাদে কৃষি সহায়তা পেকেজের উপকরণ অনুদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়ে গতকাল রাতে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদ মাহবুব খান এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, এই ৪টি উপজেলার দরিদ্র, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বিকল্প অন্য যে কোনো ফসলের সহায়তা দেয়ার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী সহায়তা খাতে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে তা একই নীতিমালায় বিতরণের পদক্ষেপ নেয়া হবে।
 
The Sire Design Mantain & Developed by RiverSoftBD