.
 
Publish Date: 30 Nov -0001 00:00:00

মুরাদনগরে জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত
Share
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৩ তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন উপলে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার সকাল ১১টায় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা পরিষদের কবি নজরুল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হারুন আল-রশিদ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা বেগমের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) কায়ছারুল ইসলাম, বাঙ্গরা র্প্বূ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম সওদাগর, মাধ্যমিক শিা কর্মকর্তা সফিউল আলম তালুকদার, মাষ্টার ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ, অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছানোয়ারা বেগম লুনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুন নবী মজুমদার, হিসাব রক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাকির হোসেন, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা এম এ করিম, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা, ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা নাছির আহাম্মদ ভূইঁয়া, সহকারী প্রাথমিক শিা কর্মকর্তা শুশান্ত কুমার বাড়ৈ, মুরাদনগর প্রেসকাবের সভাপতি আ. আউয়াল সরকার, ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসেম বেগ, আব্দুল কাদের মোক্তার, সমাজ সেবা কর্মকর্তা খোন্দকার আবদুস সালাম, মাষ্টার আবু বকর সিদ্দিকী, সাংবাদিক আলাউদ্দিন ভূঁইয়া, বাবলু আলী খাঁন, ভিপি জাকির হোসেন, আবু বকর সবুজ ও তৌফিক সিদ্দিকী প্রমুখ। সভায় বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠন করা হয় এবং প্রতিবারের মতো এবারো কবিতীর্থ দৌলতপুরে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নজরুল জন্মজয়ন্তি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বক্তারা কবিতীর্থ দৌলতপুরকে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার দরিরামপুরের ন্যায় গুরত্ব দেয়ার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানান। স্থানীয় নার্গিস-নজরুল ভক্তদের জোর দাবি, প্রতিবছরই আলোচকরা জোরালো কন্ঠে নার্গিস-নজরুলের স্মৃতি বিজড়িত কবিতীর্থ দৌলতপুরকে আধুনিক নার্গিস-নজরুল পল্লীতে রূপান্তরিত করার ঘোষণা দিয়ে আসছে, কিন্তু তা প্রতিনিয়তই উপেতি। আজ আর কালপেন না করে জাতীয় কবির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে এবং দৌলতপুরের উন্নয়নে কবি নজরুল তার যৌবনের দীর্ঘ আড়াই মাস অবস্থানকালে নার্গিসকে জড়িয়ে রচিত সকল গান, কবিতা ও রচনা সংরণের জন্য সংগ্রহশালা স্থাপন, নার্গিস-নজরুল চর্চার জন্য গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, অতিথি ভবন, তথ্য কেন্দ্র, প্রদর্শনী কেন্দ্র, গণনাট্য মঞ্চ, আবৃত্তি কেন্দ্র, নার্গিস মাতৃ কল্যাণ কেন্দ্র ও শিশু সদন, পিকনিক কর্ণার, বাংলো, মহিলা কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মিলনায়তন নির্মান এবং নির্মিত নার্গিস-নজরুল বিদ্যা নিকেতনের এমপিও ভুক্তিকরণ, নজরুল নিকেতনের সংস্কার ও পরিবর্ধন করা। অবহেলা অনাদরে ধ্বংস প্রায় নার্গিস-নজরুলের মধুবাসর ঘর, মধুবাসর পালঙ্ক, নার্গিসের ব্যবহৃত কাঠের সিন্ধুক, আম গাছ, কামরাঙ্গা গাছ, শান বাঁধানো ঘাট, পুকুর ও আলী আকবর খান মেমোরিয়েল ট্রাস্টের দ্বিতল ভবন সংরণ এবং পালঙ্ক ও সিন্ধুক যাদু ঘরে রাখা। এ েেত্র ব্যবহৃত সম্পত্তি ও স্থাপনা নার্গিস বংশধরদের উপযুক্ত তিপূরণ দিয়ে তাদের অন্যত্র পূনর্বাসন করে ঐ সম্পত্তি অধিগ্রহণ পূর্বক রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রণা বেণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়রা আরো দাবি করেন, নার্গিস-নজরুলের বিবাহ বিতর্কের অবসানসহ তাদের বিবাহের স্বীকৃতি আদায় হয়েছে। তারপরও নজরুল গবেষকদের গবেষণায় সততাসহ স্বচ্ছতা আনয়ন পূর্বক আগামী প্রজন্ম যাতে নার্গিস-নজরুল সম্পর্কে সকল তথ্য উপাত্ত জানতে পারে। কবি নজরুল তার যৌবনের ২মাস ১১দিন কাটিয়েছেন এ দৌলতপুরে। এ সময় তার সাথে নার্গিসের প্রেমের ধারাবাহিকতাই নজরুল আজ জাতীয় কবির মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়েছেন। বাঙ্গালী জাতির সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজ জীবনের চিন্তার প্রধান অবলম্বন এ মহান কবির পদচারণায় দৌলতপুর আজ ধন্য। এ এলাকায় আড়াই মাস অবস্থান কালে নার্গিস প্রেমে অনেক গান ও কবিতা রচনা করে গেছেন। ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার দরিরামপুরের ন্যায় কবিতীর্থ দৌলতপুরের গুরত্ব অনেক বেশী। ত্রিশালে যদি রাষ্ট্রীয় ভাবে নজরুল জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠান হতে পারে, তাহলে দৌলতপুর এত অবহেলিত কেন? দৌলতপুর গ্রামের নজরুল গবেষক মরহুম বুলবুল ইসলাম নার্গিস-নজরুলের স্মৃতিকে বিভিন্ন পত্র-প্রত্রিকায় ও ম্যাগাজিনে নার্গিস-নজরুল সম্পর্কে অজানা তথ্য প্রকাশ করেছিলেন। ১৯৯৮ সালে বুলবুল ইসলাম মৃত্যুর পর নার্গিস নজরুলের প্রচার প্রচারণায় স্থবিরতা দেখা দেয়। বাংলা সাহিত্যে দৌলতপুরের গুরত্ব অনেক বেশী। স্বাধীনতার ৪১ বছর পরও মুরাদনগরবাসীর সব আশা-আকাঙ্খা এখনো পূরণ হয়নি। তাই ত্রিশালের দরিরামপুরের ন্যায় অবহেলিত দৌলতপুরেও নার্গিস নজরুলের স্মৃতি রার্থে নানা স্থাপনা নির্মান করে নজরুল চর্চার পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য সরকারের কার্যকরী পদপে প্রয়োজন। কবি নজরুল দৌলতপুর থেকে চলে যাবার সময় নার্গিসকে ল্য করে বলেছিলেন, আমার যাবার সময় হল দাও বিদায় গানটি যখন গেয়েছিলেন, তখন নার্গিস বিদায় বেলায় ফেল ফেল করে তাকিয়ে ছিলেন নজরুলের পথ পানে, তখন আরো একটি গান গেয়েছিলেন চেয়োনা সুনয়নে, আর চেয়োনা এ নয়ন পানে।
 
The Sire Design Mantain & Developed by RiverSoftBD