.
 
Publish Date: 30 Nov -0001 00:00:00

লোকসান কাটাতে হরতালেও হাউজমুখী বিনিয়োগকারীরা
Share
প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ ১৮ দলের ডাকা সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসেও জেলার ৯টি সিকিউরিটিজ হাউজগুলো ছিল বিনিয়োগকারীদের উপচেপড়া ভিড়। একই সঙ্গে বেড়েছে সিকিউরিটিজ হাউজগুলোর লেনদেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী নিকোঁজের প্রতিবাদে সোমবার দ্বিতীয় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করে। এদিকে হরতালকে কেন্দ্র করে সিকিউরিটজ হাউজগুলো কোথাও কোন অপ্রতি কর গঠনা ঘটেনি । গতকাল সরজমিনে সিকিউরিটিজ হাউজগুলো ঘুরে দেখা গেছে,সিকিউরিটিজ হাউজগুলোকে বিনিয়োগকারীদের ভিড় দেখা গেলেও অনেক বিনিয়োগকারী হরতালের কারনে যানবাহন না চলায় বিনিয়োগকারীরা হাউজে আসতে পারেনি। তারা মোবাইলের মাধ্যেমে ট্রেড করেছেন বলে সিকিউরিটজ হাউজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। ব্র্যাক ইপিএল হাউজের কর্মকর্তা সাইফুল আলম বাবু জানান,দিনের শেষে ডিএসইতে ১৪০টি প্রতিষ্ঠানের তাম কমলেও বেড়েছে সাথারণ সূচক ২১ পয়েন্টে। তিনি বলেন,সকালে লেনদেন শুরুতেই সূচক বাড়ে।সকাল ১১টা ৫ মিনিটে ১০২টি প্রতিষ্ঠানের দাম ও সাধারণ সূচক বাড়ে ৪০ পয়েন্ট। বিনিয়োগকারী আকতার হোসেন ও মোহাম্মদ আরিফ বলেন, দেশের হরতাল পুঁজিবাজারকে কিছুই করতে পারবে না।বাজার এখন স্বাভাবিক অবস্থানে বিরাজ করছে। বিনিয়োগকারীরা এখন বুঝে-শুনে ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ারে বিনিয়োগ করলে লোকসানের সম্ভাবনা কম। পুঁজিবাজারের কাজই ওঠানামা করা। একটানা বাজার বাড়া যেমন ভালো নয়, তেমনি কমাও বাজারের জন্য শুভ লক্ষণ নয় । এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই। আবদুল খালেক নামে এক বিনিয়োগকারী বলেন, বাজার ভালো দিকে যাচ্ছে। তবে ব্যাংকিং খাতের শেয়ারের দরপতনে কিছুটা দুশ্চিন্তায় আছি। তিনি আরো বলেন, ১০ টাকা ফেস ভ্যালুর কিছু শেয়ার নিয়ে একটি চক্র কারসাজি করছে। এ ব্যাপারে এসইসির নজরদারি প্রয়োজন। সালমা নামে নারী বিনিয়োগকারী বলেন, বাজার স্বাভাবিক হতে শুরু করছে। বর্তমান বাজারের আচরণে হতাশা অনেকটাই কাটিয়ে উঠছেন বিনিয়োগকারীরা। বাজার পরিস্থিতি এ রকম থাকলে লোকসান কাটিয়ে উঠতে বেশি সময় লাগবে না। বিনিয়োগকারীরা বলেন,পুঁজিবাজার এখন দাড়াঁতে শুরু করেছে। এমনিকে অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে আছে দেশের পুঁজিবাজার। আস্তে আস্তে বিনিয়োগকারীদের দিকে মুখ তুলে তাকাছে পুঁজিবাজার। এখন স্বপ্ন দেখছেন লোকসান কাটিয়ে ওঠার। সূচক ও অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বাড়ায় কুমিল্লার বিনিয়োগকারীরা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। তাদের ধারণা চলতি সপ্তাহে বাজারচিত্র আরো ইতিবাচক হবে। আর এজন্য কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। দীর্ঘ দরপতনে পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন অনেক বিনিয়োগকারী। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ পতন কেড়ে নিয়েছে অনেকের রাতের ঘুম। হতাশা ও আতঙ্কে মুষড়ে পড়েছেন অনেক বিনিয়োগকারী। ক্ষোভে-অভিমানে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন অনেকে। এমনকি বাজারের ভবিষ্যৎ নিয়েও তাদের মধ্যে গড়ে উঠেছে অনিশ্চয়তা। অবশেষে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে বাজার উঠে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন অনেক বিনিয়োগকারী। বিশেষ করে গতকাল বাজার ওঠানামা হলেও। তারা এখন স্বপ্ন দেখছেন হারানো পুঁজি পুরুদ্ধারের। বিনিয়োগকারী জহিরুল ইসলাম ও কাউসার আহম্মেদ ভূইয়া বলেন, পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন ধরে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের ভয়াবহ দরপতনে বিনিয়োগকারীদের অর্ধেকের বেশি মূলধন হারিয়ে গেছে। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহের বাজার দেখে তাদের মধ্যে আশা জাগছে। এর ওপর ভিত্তি করেই তারা নতুন করে লেনদেনে মনোযোগী হতে চান। তারা বলেন,আমরা দেশে হরতাল চাই না। আমরা চাই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন। অন্যদিকে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের দাবি, আগামী বাজেটের ওপর নির্ভর করছে পুঁজিবাজারের অনেক কিছু। এজন্য তারা সরকারের দিকে তাকিয়ে আছেন। সরকার যদি ভেবেচিন্তে বাজেটে পুঁজিবাজারের বিষয়টি গুরুত্ব দেয় তবে বদলে যাবে অনেক কিছু। সেই সঙ্গে মন্দা বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা উঠে দাঁড়াতে সক্ষম হবেন। কোনো কোনো বিনিয়োগকারী বলছেন, এ বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতার কমতি নেই। লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর কথা ভেবে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করছেন তারা।
 
The Sire Design Mantain & Developed by RiverSoftBD