আন্তরিকতার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করে সĻাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে - মতিন খসরু
মিজান সরকার, ব্রাহ্মণপাড়া
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সĻাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিচালনা পর্ষদের সমনĻয় সভায় ২১ এপ্রিল উপজেলা সĻাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক আইন মন্ত্রী এ্যাডঃ আবদুল মতিন খসরু এমপি একথা বলেন।
এসময় তিনি উপস্থিত ডাক্তারদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, আর্থিক ভাবে সĻচ্ছল রোগীরা এই সĻাস্থ্য কমপ্লেক্সে সĻাস্থ্য সেবার জন্য না এসে কুমিল্লা-ঢাকায় চলে যায়। এখানে আসা সাধারণ মানুষেরা ডাক্তারের নিকট তাদের কষ্টের কথা বলতে চায়। আপনারা আনুরিকতার মাধ্যমে তাদের কথা শুনে রোগ নির্ণয় করে সĻাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে। রুগীদের সাথে মিষ্ট ব্যবহার করতে হবে, ধনী গরিব সকল রোগীকে এক নজরে দেখতে হবে, সঠিক ভাবে রোগ নির্ণয় করে রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিতে হবে, প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে রোগী দেখতে হবে। রোগী কল্যাণ ফান্ডের মাধ্যমে অসহায় গরিব রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে। ডাক্তারী পেশা একটি সাধারণ পেশা নয় এটি হল একটি মানব সেবা মূলক পেশা, এই পেশায় নিজের জীবিকা নির্বাহ হয়। অপর দিকে আন্তরিকতার সাথে মানুষকে সেবা দিলে পরকালের জন্য অশেষ নেকী হাসিল হয়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী জাহাঙ্গীর খান চৌধুরী, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণপাড়া সĻাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচএ ডাঃ এম এ জাহের। উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ খাঁন হুমায়ূন কবির, ব্রাহ্মণপাড়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল ইসলাম, ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী জসিম উদ্দিন, দুলালপুর ইউপি চেয়ারম্যান কাশিদুল ইসলাম বাবু, মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যান সুলতান আহাম্মদ, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবদুল আলীম খান, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল নয়ন, ডাঃ মনিরুল ইসলাম, ডাঃ কামরুল হাসান, ডাঃ মুবিন, ডাঃ রুহানী, ডাঃ সৈয়দা জেবিন, ডাঃ রিজওয়ানা নাজনীন, ডাঃ শ্যামল কুমার, মেডিক্যাল এ্যাসিঃ মহিউদ্দিন, অফিস সহকারী আবুল বাশার, সেনেটারী ইন্সপেক্টর প্রমুখ। এসময় আগত অতিথিরা হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে হাসপাতালে ২জন দারোয়ান পদ বরাদ্ধ থাকলেও কোন দারোয়ান না থাকায় হাসপাতালের নিরাপত্তা বিঘিত হচ্ছে। ৩জন অফিস সহকারী পদ শূন্য রয়েছে। ২জন ফার্মাসিষ্ট বরাদ্ধ থাকলেও শূন্য রয়েছে। ১জন প্রাধিকৃত ঝারুদার পদ শূন্য থাকায় পরিস্কার পরিচ্ছন্নতায় সমস্যা হচ্ছে। নার্স ১১জন থাকার কথা থাকলেও দায়িত্ব পালন করছেন ৬জন এর মধ্যে ২জন মাতৃত্ব কালীন ছুটিতে রয়েছেন। ইমার্জেন্সি বিভাগে মেডিক্যাল অফিসার নাই। হাসপাতালের নিরাপত্তা দেয়াল হেলে গেছে। দীর্ঘদিন যাবত একমাত্র জেনারেটরটি নষ্ট রয়েছে ফলে জরুরী চিকিৎসা কাজে মোম বাতি কিংবা হ্যারিকেন ব্যাবহার করতে হয়। ফলে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ কবছর যাবত একমাত্র এক্সরে মেশিনটি নষ্ট থাকায় রোগ নির্ণয় ব্যাহত হচ্ছে। ডেন্টাল সার্জন থাকলেও কোন ডেন্টাল চেয়ারের অভাবে ডেন্টাল সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জনগন। ফেমিলি ওয়েলফেয়ার সেন্টার গুলোতে বসার ব্যবস্থা নেই। সĻাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ৫০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন ভবনটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এই বিষয়ে প্রধান অতিথি উপস্থিত সকলের সামনে বলেন, এসব বিষয় গুলো অচীরেই সমাধান করে জনগণের সĻাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা হবে।




