পত্রিকা আপডেট-১২:৩০ ।। সর্বশেষ খবর আপডেট ২৪ ঘন্টা
 
Publish Date: 30 Nov -0001 00:00:00

৩৮ বছর ধরে পদমর্যাদা বেতন বৈষম্যের শিকার ২০ হাজার ডিপ্লোমা কৃষিবিদ
Share
কুমিল্লার ৬ শতাধিকসহ দেশের ২০ হাজার ডিপ্লোমা কৃষিবিদ গত ৩৮ বছর যাবত তাদের পদমর্যাদা এবং বেতন বৈষম্যের শিকার। বৈষম্য নিরসনে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটির নির্দেশনা মানছে না জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এতে তাদের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভের কারণে দেশের কৃষি খাতের উন্নয়ন ঝিমিয়ে পড়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থার কর্মরত ডিপ্লোমা কৃষিবিদ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং সমমান পদধারী কর্মকর্তাগণ দেশের কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মিটাতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। এই ডিপ্লোমাধারী কৃষিবিদগণ সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন হয়েও অন্যান্য পেশার কর্মকর্তাদের মতো দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা এবং বেতন স্কেল থেকে গত ৩৮ বছর যাবত বঞ্চিত হয়ে আসছে। চার বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলীগণ সমমানের যোগ্যতা সম্পন্ন বলে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড তার ২৮/৮/৯৬ তারিখের ৪৯৬নং স্মারকে জানিয়েছে। ১৯৭৪ সালের ২১ মার্চ তারিখে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারের আমলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত ৩নং পরিপত্রে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ও ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের বেতন স্কেল একই গ্রেডে প্রদানের আদেশ দেয়া হয়। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ১৯৮৪ সালের ১৮ জানুয়ারি তারিখের ১৮৮নং স্মারকে কারিগরি শিক্ষাবোর্ড অনুমোদিত সকল শ্রেণির ডিপ্লোমাধারীদেরকে একই বেতন স্কেল প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ডিপ্লোমা প্রকৌশলীগণের ২য় শ্রেণির পদমর্যাদার প্রারম্ভিক বেতন স্কেল- ৮০০০-১৬৫৪০/-টাকা। অন্যদিকে সমমানের যোগ্যতা সম্পন্ন ডিপ্লোমা কৃষিবিদগণকে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর ৬৪০০-১৪২৬৫/- টাকার বেতন স্কেল প্রদান করা হচ্ছে। ১৯৯৬ এবং ২০০৮ সালের জাতীয় বেতন কমিশন ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের মধ্যকার বৈষম্য দূর করণের সুপারিশ করে। কৃষি সচিব সি.কিউ.কে মুসতাক ডিপ্লোমা কৃষিবিদদেরকে ২য় শ্রেণির পদমর্যাদা ও বেতন স্কেল প্রদান করতে সংস্থাপন সচিব ইকবাল মাহমুদকে ২০১০ সালের ১৮ এপ্রিল ডিও লেটার প্রদান করেন। চলতি বছরের গত ৯ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষি ডিপ্লোমাধারীদের অবদান বিবেচনা করে তাদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা এবং ১০ম গ্রেডের বেতন স্কেল প্রদানের সুপারিশ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রাণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ও নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষি ডিপ্লোমাধারী উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও সমমানের পদধারী কর্মকর্তাগণকে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের মতো ২য় শ্রেণির পদমর্যাদা ও বেতন স্কেল বাস্তবায়নের জন্য তাঁর কার্যালয় থেকে দুদফা জনপ্রশাসন সচিবকে চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কোনো নির্দেশনাই মানছেনা বলে জানিয়েছেন ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মহাসচিব মোশারফ হোসেন। তিনি আরো বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সব আদেশ নির্দেশ উপেক্ষা করে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর বেতন স্কেল (১১তম গ্রেড) দিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা প্রদানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ২৯ মার্চ তাদের অনাপত্তির কথা জানিয়েছে কৃষি সচিবকে। এতে ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ফলে দেশের কৃষি খাতের উন্নয়ন ঝিমিয়ে পড়েছে। ন্যায় সংগত দাবি আদায়ে ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। গৃহীত কর্মসূচিতে স্মারকলিপি প্রদান, মানববন্ধন, প্রেস কনফারেন্স, ব্যানার পোস্টার বিতরণ প্রভৃতি রয়েছে।
 
Total Reader : Hit Counter by Digits || The Site Design Mantain & Developed by RiverSoftBD