.
 
Publish Date: 30 Nov -0001 00:00:00

গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালাতে পারে আইসিএল
Share
চৌদ্দগ্রাম সংবাদদাতা।। ডেসটিনির মত চড়া সুদের প্রলোভনে সহজ, সরল, অসহায় মানুষের আমানতের শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়ার আশংকায় আইসিএল কো-অপারেটিভের বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রামের হোটেল ডলি রিসোর্টে গতকাল বুধবার পৌর মেয়রের উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে পাঠ করা লিখিত বক্তব্যে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন-আইসিএল, যুবকের ন্যায় বিভিন্ন হায় হায় কোম্পানী। বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা প্রলোভনে ফেলে সহজ,সরল, অসহায় মানুষের আমানতের টাকা আত্মসাৎ করে সারাদেশের অসংখ্য মানুষকে পথে বসিয়েছে। সম্প্রতি ডেসটিনি কো-অপারেটিভের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উথাপিত হওয়ায় আমানতের টাকা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির অসহায় গ্রাহকগণ। আইটিসিএল যুবক এবং ডেসটিনির মত আইসিএল কো অপারেটিভের এমডি সফিকুর রহমান সমবায় আইন অমান্য করে উচ্চ হারে সুদ দেওয়ার প্রলোভনে চৌদ্দগ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীসহ হাজার হাজার মানুষ থেকে তাদের সারাজীবনের কষ্টার্জিত অর্থ নিজ দখলে নিয়ে যায়। দেশ জুড়ে কো-অপারেটিভ গুলো নিয়ে তোলপাড় শুরু হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন চৌদ্দগ্রামে পরিচালিত কো-অপারেটিভগুলোর উপর তদন্ত শুরু করে। ব্যাপক অনুসন্ধান এবং নিরীক্ষা কার্যক্রম চালানোর পর আইসিএলের হাঁড়ির বিড়ালটি বেরিয়ে আসে। উপজেলা প্রশাসনের অনুসন্ধানে আইসিএল এর বর্তমান নিট সম্পদ এবং গ্রাহক জমার মধ্যে বিশাল ব্যবধান ধরা পড়ে। এ কারণে আইসিএলের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসন স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি প্রেরণ করে।উপজেলা প্রশাসনের প্রতিবেদনে বলা হয়,আইসিএল তথা সফিকের নিকট বর্তমানে মানুষ থেকে নেওয়া জামানতের অর্ধেক টাকা ও নেই। নিরীহ মানুষের আমানতের টাকা অবাধে খরচ করে সফিকুর রহমান বর্তমানে কলুষিত রাজনৈতিক চর্চা শুরু করেছে। বিশেষ করে নগদ টাকা দিয়ে রাজনীতির জন্য কর্মী কেনা, মালয়েশিয়া এবং লন্ডনে নিজ নামে ফ্লাট কেনা,এ সবের অর্থের একমাত্র উৎস হচ্ছে সাধারণ মানষের রাখা আমানত। মেয়র মিজান বলেন,সফিকুর রহমানের এ ধরনের বেপরোয়া জীবন যাপন এবং নিরীহ জনগণের টাকা পানির মত খরচ করার বিষয়টি একজন সচেতন নাগরিক বিশেষ করে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার মেয়র এবং উপজেলা আলীগের একজন নেতা হিসেবে জনগণের কাছে খোলাশা করার প্রয়োজন বোধ করি। ব্যক্তিগত এবং রাজিৈনতক চর্চার অংশ হিসেবে আমরা সব সময় মানুষের সুঃখ দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করি, সফিকের শঠতায় পড়ে চৌদ্দগ্রামের হাজার হাজার লোকজন সর্বস্ব হারিয়ে দুঃখের অতলে নিমজ্জিত হলে একজন বিবেকবান মানুষ হিসেবে তা সহ্য করা কঠিন হবে। এ ছাড়া নিরীহ মানুষের অর্থ লুটপাট করে এ সফিকুর রহমান অন্য কোন দেশে পালিয়ে গেলে তখন এ সকল অসহায় মানুষের জন্য আমাদের কোন কিছু করারও সুযোগ থাকবে না। এমন পরিস্থিতিতে আইসিএলে রাখা নিরীহ লোকজনের আমানত হারিয়ে যে কোন সময় নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাই আইসিএলে টাকা রাখা লোকজনের কাছে তিনি অনুরোধ জানিয়ে বলেন,নিঃস্ব হওয়ার পূর্বেই সাবধান ,তে হবে। কষ্টার্জিত অর্থ এখনই আইসিএল থেকে তুলে নিয়ে নিশ্চিত বিপর্যয় থেকে নিজেদের সম্পদ রক্ষা করার জন্য তিনি আহবান জানান। বক্তব্যে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন,আপনাদের মাধ্যমে চৌদ্দগ্রামের সকল শান্তি প্রিয় মানুষের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আইটিসিএল, যুবক ডেসটিনির মত বিভিন্ন ধরনের প্রতারকচক্র বাংলাদেশের অনেক নিরীহ মানুষের সারাজীবনের কষ্টার্জিত অর্থ লুট করে তাদের পথের ফকির করেছে। পক্ষান্তরে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা থেকে ঐ সকল প্রতারক প্রতিষ্ঠানগুলোও রেহাই পায়নি। চৌদ্দগ্রামের সফিকুর রহমান তথা আইসিএলও রক্ষা পাবে না। বিপর্যয় তাদের অত্যাসন্ন। তাই সফিকুর রহমানের খপ্পর থেকে বেরিয়ে আসার জন্য উদ্ধাত্ত আহবান জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা আলীগের সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দিন চৌধুরী সেলিম, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুলসিলাম হাজারী,্ উপজেলা আলীগের যুগ্ন সম্পাদক আক্তার হোসেন পাটোয়ারী,উপজেলা যুব লীগের সভাপতি ও শ্রীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহজালাল মজুমদার,সেক্রেটারী ও বাতিসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন টিপু. উপজেলা.স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক জি এম মীর হোসেন মীরু, শ্রমিক লীগের সভাপতি সোহেল রেজা ভুলু প্রমূখ। বিকেলে চৌদ্দগ্রাম পৌর মিলনায়তনের সামনে আইসিএল কো-অপারেটিভের বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রামের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকবৃন্দের উদ্যোগে সমাবেশ ও পরে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
 
The Sire Design Mantain & Developed by RiverSoftBD