.
 
Publish Date: 30 Nov -0001 00:00:00

কাউন্সিলর বিল্লাল কারাগারে:কুমিল্লায় আইনজীবীর বাসায় গুলির ঘটনা
Share
চাঁদার দাবিতে কুমিল্লায় এক আইনজীবীর বাসায় হামলা ও গুলির ঘটনায় পুলিশ কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর মো: বিল্লাল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় তাকে মহানগরের ছোটরা এলাকার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর গতকাল বিকালে তাকে আদালতে প্রেরণ করে ৫ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। আজ রিমান্ডের শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, বিল্লাল হোসেন কুমিল্লার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকায় ছিলেন। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও টেন্ডারবাজির অভিযোগ ছিলো। জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় চাঁদা না দেয়ায় কুমিল্লা মহানগরীর ছোটরার বালির বাঁধ এলাকায় অবস্থিত তোয়া হাউজিং এর একটি ফ্ল্যাটে সন্ত্রাসী হামলা চালায় ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিল্লাল হোসেন ও সন্ত্রাসী বাহিনী। ঘটনার সময় সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়ে ওই ফ্ল্যাটের নিচতলার ৩ টি কক্ষের ৪টি জানালার কাঁচ ভাংচুর করে। ফ্ল্যাটের গেইটে তালা লাগানো থাকায় সন্ত্রাসীরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। সন্ত্রাসীদের গুলিতে ফ্ল্যাটের কেউ আহত হয়নি, তবে ফ্ল্যাটের আসবাবপত্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলার শিকার কুমিল্লার ছোটরা বালিরবাধ এলাকার তোয়া হাউজিংয়ে ফ্ল্যাটের মালিক এডভোকেট মো: জামাল উদ্দিন ভূঞা এপিপি জানান, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিল্লাল হোসেন মোবাইল ফোনে তার কাছে প্রথমে কবরস্থানের জন্য ৫০ ট্রাক মাটির ব্যবস্থা করতে বলে। তিনি এ মাটির ব্যবস্থা করতে অস্বীকার করায় বেশ কিছুদিন যাবৎ কাউন্সিলর বিল্লালের সাথে তার বাকবিতন্ডা চলে। মোবাইল ফোনে বিল্লাল তাকে বিভিন্ন সময় অশ্লীল ভাষা ব্যবহারসহ নানা ধরনের হুমকী-ধমকী দিয়ে আসছে। সোমবার রাত সাড়ে ১২টায় হঠাৎ করেই বিল্লাল হোসেন ৮-১০জন লোক নিয়ে তার বাসায় আসে ও দু লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। সন্ত্রাসীরা অশ্লীল ভাষায় গেইটের তালা খোলার জন্য বলে। তিনি প্রাণ ভয়ে তালা খোলেন নি। এ অবস্থায় সন্ত্রাসীরা পিস্তলের গুলি চালিয়ে তার ফ্ল্যাটের ৪টি কক্ষের ৩টি জানালা ভেঙ্গে ফেলে। তিনি ও তার পরিবারের লোকজন তখন মাঝের কক্ষে খানিকটা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছিলেন। সন্ত্রাসীরা এমনভাবে গুলি চালিয়েছিল যাতে তার পরিবারের কেউ বেঁচে না থাকে। ফ্ল্যাটের ৩ দিক থেকে সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে। ফ্ল্যাটের মালিক এডভোকেট মো: জামাল হোসেন ভূঞা আরও জানান, তিনি ডিসেম্বর মাসের ৩১ তারিখ থেকে নব নির্মিত তার নিজম্ব ৫ তলা ফ্ল্যাটের নিচ তলায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছেন। তার পরিবারে স্ত্রী, ৪ মেয়ে ও ১ ছেলে রয়েছে। এ ঘটনার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ ছোটরাস্থ নিজ বাড়ি থেকে কাউন্সিলর বিল্লালকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মহিউদ্দিন মাহমুদ কাউন্সিলর বিল্লাল হোসেনকে গ্রেফতারের কথা স্বীকার করে বলেন তাকে বিকালে আদালতে প্রেরণ করা হয়, বিল্লাল হোসেনকে ৫ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। আজ শুনানি হতে হতে পারে। এ ঘটনায় এডভোকেট জামাল উদ্দিন ভূইয়া বাদি হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে কোতয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন । এ ছাড়া আরো ৫/৬ জন অজ্ঞাতনামা আসামী রাখা হয়েছে। যাদের আসামী করা হয় তারা হলেন, আসামী (১) বিল্লাল হোসেন, পিতা-বসু মিয়া, (২) সালাহ উদ্দিন প্র: সালু মিস্ত্রি, পিতা- আ: বারেক, (৩) মাঈন উদ্দিন, পিতা-আ: রাজ্জাক, সর্ব সাং-ছোটরা, (৪) সাইফুল, পিতা-শাহআলম, (৫) মাসু, পিতা-মাসুক মিয়া, (৬) রাজু প্রকাশ মিঠু মিয়া, পিতা মৃত মানিক মিয়া, (৭) মাহাবুব, পিতা-অজ্ঞাত, (৮) শাহ আলম, পিতা-সিরাজুল ইসলাম, সবং সাং-ছোটরা মগবাড়ি চৌমুহনী, (৯) শামীম, পিতা-অজ্ঞা, সাং-কাপ্তান বাজার, সর্ব থানা- কোতয়ালী মডেল, জেলা-কুমিল্লা। এডভোকেট জামাল উদ্দিন ভূইয়া বাদি হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে কোতয়ালী মডেল থানায় যে মামলা দায়ের করা হয়েছে তাতে উল্লেখ করা হয়, ছোটরা তোয়া হাউজিং কুমিল্লা ৫ তলা ভবন নির্মাণ করে আসছে এবং নীচ তলায় আমি স্বপরিবারে বসবাস করছি। আসামী (১) বিল্লাল হোসেন, পিতা-বসু মিয়া, (২) সালাহ উদ্দিন প্র: সালু মিস্ত্রি, পিতা- আ: বারেক, (৩) মাঈন উদ্দিন, পিতা-আ: রাজ্জাক, সর্ব সাং-ছোটরা, (৪) সাইফুল, পিতা-শাহআলম, (৫) মাসু, পিতা-মাসুক মিয়া, (৬) রাজু প্রকাশ মিঠু মিয়া, পিতা মৃত মানিক মিয়া, (৭) মাহাবুব, পিতা-অজ্ঞাত, (৮) শাহ আলম, পিতা-সিরাজুল ইসলাম, সবং সাং-ছোটরা মগবাড়ি চৌমুহনী, (৯) শামীম, পিতা-অজ্ঞা, সাং-কাপ্তান বাজার, সর্ব থানা- কোতয়ালী মডেল, জেলা-কুমিল্লাসহ আরো অজ্ঞাত নামা ৫/৬ জন সন্ত্রাসী চাঁদা বাজী বিভিন্ন সময় আমার কাছে বিভিন্ন অংকের বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা দাবী করে আসছে। আমি কোন চাঁদা প্রদান করিব না বলায় তাহারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ২/৪/২০১২ইং তারিখ রোজ সোমবার দিবাগত রাত ১২.৩০ মি: অর্থাৎ ৩/৪/২০১২ইং প্রথম প্রহর ১২.৩০ মি: এর সময় উক্ত আসামীগণ আমার কাছে ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা চাঁদা দাবী করেন। আমি কোন চাঁদা দিতে পারিব না বলায় ১নং আসামী তার হাতে থাকা অস্ত্র দিয়া আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে, আমি সুকৌশলে নিজেকে রক্ষা করি। আমার স্ত্রী নারগিস আক্তার এগিয়ে এলে ২নং আসামী তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করলে আমি তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলে জীবনে রক্ষা পায়। অন্যান্য আসামীগণ আমার থাই জানালা ভেঙ্গে চুরমার করে ফেলে। আমার ছেলে মেয়ে আমাদের ও আমার বিল্ডিং এ কর্মরত ও অবস্থানরত শ্রমিকগণ ঘটনা দেখেও শোর চিৎকার করিলে আসামীগণ প্রকাশ করেন যে, চাঁদা না দিলে এবং মামলা করলে জীবনে মেরে ফেলবে। আসামী গণ আমরার থাই জনালা ভাংচুর করে প্রায় ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকার ক্ষতি করেন। আসামীগণ উক্ত সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও ভাংচুর করিয়া ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করিয়া ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
 
The Sire Design Mantain & Developed by RiverSoftBD