পত্রিকা আপডেট-১২:৩০ ।। সর্বশেষ খবর আপডেট ২৪ ঘন্টা
 
Publish Date: 30 Nov -0001 00:00:00

চান্দিনায় টমেটো চাষে বিপ্লব:বছরে আয় ২০ কোটি টাকা
Share
সবজি খ্যাত চান্দিনায় এবার টমেটো চাষে রীতিমতো বিপ্লব ঘটেছে। কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে টমেটো চাষ করে কৃষক সম্প্রদায়। প্রতি বছরের মৌসুমের শুরুতেই টমেটো চাষের জন্য জমি প্রস্তুতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে কৃষক। প্রতিদিন চান্দিনার উৎপাদিত টমেটো যায় রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে। কৃষি নির্ভর এ উপজেলায় টমেটো চাষে বছরে বাড়তি আয় হয় প্রায় ২০ কোটি টাকা। যা বাংলাদেশের কৃষি অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, টমেটো চান্দিনা উপজেলার জন্য প্রধান অর্থকরী ফসল। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া টমোটো চাষের জন্য উপযোগী বিধায় এ উপজেলার কৃষকরা মৌসুমী ফসলের শুরুতেই টমেটো চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এ উপজেলায় সহস্রাধিক টমেটো চাষী রয়েছে। প্রতি বছরই এ উপজেলার চাষীদের টমেটো চাষে আগ্রহ বাড়ছে। উপজেলার চিলোড়া, পূর্ব-অম্বরপুর, এতবারপুর, হারং, ছায়কোট, ডুমুরিয়া, বাড়েরা এলাকায় বাণিজ্যিক ভাবে টমেটো চাষ করে ওই এলাকার কৃষকরা। অনেক টমেটো চাষী রয়েছে যারা বছরের অন্য সময়ে কৃষি কাজের সাথে জড়িত নয় তারাও এ মৌসুমে টমেটো চাষ করে। অনেক পরিবার টমেটো চাষ করে সাবলম্বি হয়েছেন। এবছর ৩৮০ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ৪০০ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ করা হয়েছে। কোন কোন কৃষক এ মৌসুমে দুই বারও টমেটো চাষ করে। এখানকার উৎপাদিত টমেটো জেলার চাহিদা পূরণ করেও যাচ্ছে ঢাকাসহ সারা দেশে। একজন কৃষক প্রতিশত জমিতে টমেটো চাষে খরচ হয়ে ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা এবং সমপরিমান জমি থেকে বিক্রি করতে পারে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। আর প্রতি শতক জমি থেকে একজন কৃষকের লভাংশ দাঁড়ায় গড়ে দুই হাজার টাকা। সে হিসাবমতে ৪০০ হেক্টর জমি থেকে কৃষকরা খরচ শেষে লাভ করেন প্রায় ২০ কোটি টাকা। চান্দিনা উপজেলার চিলোড়া গ্রামের কৃষক মো. মোস্তফা জানান, আমি এবছর ১ একর ২০ শতাংশ জমিতে টমেটোর চাষ করেছি। এ পর্যন্ত আমার খরচ হয়েছে প্রায় এক লক্ষ ৬০ হাজার টাকা এবং বিক্রি করেছি প্রায় ৪ লক্ষ টাকার টমেটো। ওই গ্রামের কৃষক আবুল কালাম জানান, এ বছর টমেটো চাষ করে আমার প্রায় ৩ লক্ষ টাকারও বেশি লাভ হয়েছে। ওই এলাকার কৃষক হুমায়ূন, মোস্তফা, সাইফুল ও কামাল জানান, টমেটো প্রতিদিনই বিক্রি করা যায়। এখানে প্রচুর পরিমান টমেটো উৎপাদনের ফলে স্থানীয় বাজারগুলোতে বিক্রি করা সম্ভব হয়না এবং এখানে যে পাইকাররা আসে তারাও ভাল দাম দিতে চায় না। তাই আমরা প্রতিদিন ট্রাকে করে ঢাকার কারওয়ান বাজারে নিয়ে বিক্রি করি। সারাদিন জমি থেকে টমেটো সংগ্রহ করি দুপুরের পর সবাই নির্দিষ্ট স্থানে যার যার টমেটো ক্যারেটে (প্লাষ্টিকের ঝুঁড়ি) করে নিয়ে আসি। সেখান থেকে প্রতি ট্রাকের সাথে পালাক্রমে একজন ঢাকায় গিয়ে বিক্রি করে আসি। ঢাকার কারওয়ান বাজারে বর্তমান বাজার মূল্যে প্রতি ক্যারেট টমেটো বিক্রি হয় আড়াইশ থেকে তিনশত টাকা। প্রতি কৃষক ট্যারেট অনুসারে খরচ ভাগ করে নেই। এদিকে কৃষকরা জানান, প্রক্রিয়াজাতকরণের কোন ব্যবস্থা না থাকায় নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার এ মৌসুমী ফসল। টমেটো সংরক্ষণে সরকারের সুষ্ঠু নজরদারি থাকা জরুরী বলে দাবী তোলেন তারা। উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আবুল কালাম আজাদ ভূইয়া জানান, মৌসুমের শুরুতে অনুকুল আবহাওয়া থাকায় এবং সারের সুষম বন্টনের কারণে আশানুরূপ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। পোকা-মাকড় এর আক্রমণ না থাকায় টমেটোর তেমন কোন ক্ষতি হয় নি। অপরদিকে মূল্য ভাল পাওয়ায় কৃষকরাও লাভবান হয়েছেন।
 
Total Reader : Hit Counter by Digits || The Site Design Mantain & Developed by RiverSoftBD