পত্রিকা আপডেট-১২:৩০ ।। সর্বশেষ খবর আপডেট ২৪ ঘন্টা
 
Publish Date: 30 Nov -0001 00:00:00

ব্রাহ্মণপাড়ার পাট চাষীরা বিপাকে
Share
কৃষি কাজে পাটের রশি এবং জ্বালানি হিসেবে পাটখড়ির ব্যবহার গ্রাম বাংলার একটি প্রাচীন ঐতিহ্য। কৃষি কাজের সাথে সম্পৃক্ত কৃষকগণ ব্যবসায়িকভাবে না হলেও মাটির চুলায় জ্বালানি হিসেবে পাটখড়ির ব্যবহারের জন্য পাট চাষ করতে হয়। বর্তমানে সার, শ্রমিকের মূল্য বৃদ্ধি, বিক্রয়ের সময় বাজার মূল্য কমে যাওয়াসহ নানা কারণে সোনালী আঁশ খ্যাত পাট চাষে কৃষকের অনিহা বাড়ছে। কিছুদিন পূর্বেও যে পাটের মণ প্রতি মূল্য ছিল ১২শ থেকে ১৩শ টাকা, বর্তমানে সেই পাট বিক্রয় হচ্ছে ৯শ ৫০ থেকে ১ হাজার টাকা। হঠাৎ করে পাটের বাজার মূল্যের ধস নামায় পাট কাটার উপযুক্ত হওয়ার পরও পাট কাটছেনা কৃষক। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বিভিন্ন কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, উৎপাদর খরচের চেয়েও পাটের বিক্রয় মূল্য কম হওয়ায় পাট চাষের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন কৃষকরা। চান্দলা গ্রামের কৃষক আবু তাহের, আ: হান্নান, মনু মিয়া, দুলালপুর গ্রামের আবুল হোসেন, সামসু মিয়া সহ অনেকেই জানান প্রকৃত কৃষকরা পাট গুদামজাত করতে পারেনা। মহাজনের পাওনা পরিশোধ করা এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের উর্ধগতির কারনে সংসারের খরচ যোগাতে কম দামেই বিক্রয় করতে হচ্ছে পাট সহ বিভিন্ন ফসল। এই সুযোগে মধ্য সত্ব ভোগী এক শ্রেনীর ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট তৈরী করে কম মূল্যে পাট কিনে মজুত করছে। সরকারী বে-সরকারী পাটকল গুলোর সংগে তাদের যোগযোগ রয়েছে। এদিকে কৃষকদের উৎপাদর খরচ থেকেও প্রতি মনে ২ থেকে ৩শ টাকা গচ্ছা যাচ্ছে। পোমকাড়া গ্রামের কৃষক মান্নান মিয়া জানান, সোনালী আঁশ পাট তাদের গলার ফাঁস হয়ে আটকে আছে। ব্রাহ্মণপাড়ার পাট ব্যবসায়ী চারিপাড়া গ্রামের চান্দ মিয়া ব্যাপারী বলেন, জুট মিল মালিকেরা আমাদেরকে যেভাবে পাট কিনতে বলে, আমরা সে ভাবেই কিনি। আমরা যেই দামে পাট কিনি, সেই দামে কৃষকের লছ হয়। তাতে আমাদের কিছুই করার নেই। চট্রগ্রামের আমিন জুট মিল আমাদেরকে টাকা দেয়, আমরা সে টাকায় পাট কিনে তাদের কাছে নিয়ে যাই। আমাদের তেমন লাভ হয়না। এই ব্যাপারে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো: কবির হোসেন বিষয়ের সত্যতা স্বীকার জরে এপ্রতিনিধিকে জানান, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৫০ হেক্টর, অর্জিত হয়েছে ৪২০ হেক্টর, দেশী ৪শ হেক্টর ও তুষা ২০ হেক্টর। বর্তমানে পাটের বাজার মূল্য ৯শ ৫০ থেকে ১ হাজার টাকা। মৌসুমের শুরুতে পাটের মূল্য বেশী ছিল, বর্তমানে তা কমে গেছে। মনিটরিং না করায় কৃষক পাট চাষ করে লাভের চেয়ে লোকশান দিচ্ছে বেশী। এভাবে লোকশান দিতে থাকলে এক সময় সোনালী আঁশ খ্যাত পাটের চাষ বন্ধ হয়ে যাবে, এমন মন্তব্য করে পাট নির্ভর বিভিন্ন পরিকল্পনা সহ পাট জাত দ্রব্যের ব্যাপক ব্যবহারের পরিকল্পনা করার জোর দাবী জানিয়েছেন এলাকার পাট চাষীরা। নাহয় এক সময় সোনালী আঁশ খ্যাত পাট, গ্রাম বাংলা থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশংকাও জানিয়েছেন তারা।
 
Total Reader : Hit Counter by Digits || The Site Design Mantain & Developed by RiverSoftBD