কুমিল্লায় ফসলি জমির উপর ইটভাটা নির্মাণ :বিধি নিষেধ মানছেনা কেউ
নঈম আজাদ
কুমিল্লার ১৬টি উপজেলায় প্রতিবছর ফসলি জমির উপর নতুন নতুন ইট ভাটার নির্মাণ চলছেই। কোনো বিধি নিষেধই মানছেন না কোন কর্র্তৃপক্ষ। এতে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ফসল উৎপাদন কমছে। হুমকির মুখে রয়েছে জনস্বাস্থ্য।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসন এবং কুমিল্লা পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বর্তমানে কুমিল্লার ১৬টি উপজেলায় ২৮৯ টি ইটভাটা রয়েছে। এক দশক আগে ২০০২ সালে কুমিল্লার জেলায় মোট ইট ভাটার সংখ্যা ছিল ১৬৮টি। ১০ বছরে এ সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ১২১ টি। প্রতিবছর গড়ে বেড়েছে ১২টিরও বেশি। পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসেব অনুযায়ী ২৮৯টি ইটভাটার মধ্যে ১৬টি বন্ধ রয়েছে। কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, একটি ইটভাটা বন্ধ হয়ে গেলেও সেখানে ফসল আবাদের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে কমপক্ষে ১০ বছর লাগে। ফসলি জমির উপর নতুন ইট ভাটা নির্মাণের উপর সরাসরি বিধি নিষেধ রয়েছে। কিন্তু তারপরও প্রতিবছর কুমিল্লায় নতুন নতুন ইটভাটা গজিয়ে উঠছে। কোন বিধি নিষেধ নতুন ইটভাটা স্থাপনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারছে না। বিধি নিষেধ অমান্য করে নির্মিত ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে সরকারি কার্যকর কোন পদক্ষেপও গৃহিত হচ্ছে না। পরিবেশ অধিদপ্তর সম্প্রতি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা ইউনিয়নের একটি অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শওকত আরা কলি। তিনি জানান, গত সাত মাসে কুমিল্লায় কয়েকটি ইটভাটার কাছ থেকে আইন অমান্যের দায়ে ১০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
দুই দশক আগে ইটভাটাগুলোতে ড্রাম চিমনী ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার চারটি ইটভাটা এখনো নিষিদ্ধ ড্রাম চিমনী ব্যবহার করে ইট পোড়াচ্ছে। ইতিমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর নাঙ্গলকোটের চারটির মধ্যে দুটি ড্রাম চিমনী ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পেরেছে। জনৈক কৃষি কর্মকর্তা জানান, ফসলি জমির উপর স্থাপিত ইটভাটাগুলো ইট তৈরির জন্য নিরীহ, অশিক্ষিত, দরিদ্র কৃষকদের জমির টপসয়েল পানির দরে কিনে নিচ্ছে।
টপসয়েল কেটে নেয়া জমির ফলন পরবর্তী পাঁচ বছর পর্যন্ত ৫০ থেকে ৭৫ ভাগ কমে যায়। একেকটি ইটভাটা প্রতিবছর কমপক্ষে পাঁচ একর জমির টপসয়েল নষ্ট করছে।
কুমিল্লা বার্ডের গবেষণা বিভাগ সূত্র জানায়, জনবসতিপূর্ণস্থানে ইটভাটা তৈরির ফলে বিভিন্ন চর্মরোগ, হাঁপানি, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। এতে কর্মক্ষমতা হারাচ্ছে তারা। অন্যদিকে রোগ নিরাময়ের জন্য চিকিৎসাখাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।




