
মহাসড়কে দিনভর যানজট
রনবীর ঘোষ কিংকর, চান্দিনা
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে কুমিল্লার চান্দিনা পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার জুড়ে গতকাল শুক্রবার দিনভর যানজট হওয়ায় নাকাল হয়ে পড়ে যাত্রীরা। গতকাল শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে রাত ৯টায় (এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত) ১৫ ঘন্টা এ যানজট চলছিল।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কুমিল্লার মেঘনা সেতু সংলগ্ন পরপর তিনটি ট্রাক বিকল হওয়ায় এ যানজট সৃষ্টি হয়ে বলে জানা যায়। এতে শতশত ট্রাক, যাত্রীবাহীবাস, রোগীবাহী এ্যাম্বুলেন্স ও বিভিন্ন পরিবহন আটকে যায়। ফলে যাত্রীদের মাঝে দেখা দেয় চরম দুর্ভোগ। বিঘিত হয় বিভিন্ন জরুরী কাজ-কর্মী ও স্তম্ভিত হয়ে পড়ে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা।
হাইওয়ে পুুলিশ দাউদকান্দি ফাঁড়ির সার্জেন্ট সাইফুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মহাসড়কের গজারিয়া ও কুমিল্লা এলাকায় একাধিক ট্রাক বিকল হয়ে গেলে সেগুলো আমরা দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি। কি' সড়কের যানবাহনের প্রচুর চাপ থাকায় এবং অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশি মালবাহী ট্রাক ও কভার্ডভ্যান চলাচল করায় এ যানজট বিকট হয়। শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে যানজটের তীব্রতা বাড়তে থাকে। তবে হাইওয়ে পুুলিশ গজাড়িয়া, দাউদকান্দি, ইলিয়টগঞ্জ ও আমতলী ফাঁড়ির সহায়তায় শুক্রবার বিকেলের পর থেকে যান চলাচলের গতি বেড়ে যায়।
এদিকে গাড়ি চালক ও যাত্রীদের অভিযোগ রাত ৯টা পর্যন্ত যান চলাচলে স্বাভাবিক গতি ফিরে আসেনি। একই ¯'ানে কয়েক ঘন্টা দাঁঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমিল্লায় ফিরার পথে তিশা বাসের যাত্রী দীপক কুমার ভৌমিক জানান, শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লার তালপুকুরপাড় আমার বিশেষ একটি কাজ ছিল। আমি সকাল ৬টায় ঢাকার চিটাগাং রোড থেকে বাসে উঠে বিকেল ৪টায় কুমিল্লায় পৌঁছি। কি' এত দূর কষ্ট করে এসে আমার কোন কাজ হলো না। আবার এখন সন্ধ্যা ৭টা বাজে শুনেছি এখনও নাকি যানজট আছে তবে কিভাবে আমি নারায়ণগঞ্জ যাব।
ঢাকা থেকে মাইক্রোযোগে কুমিল্লায় আসার পথে যাত্রী সরস্বতি দেবী জানান, কুমিল্লায় আমি একটি বিবাহের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকা থেকে রওনা করি। পথে পথে যানজটের কবলে পড়ি। নাম বলতে পারবা না এমন একটি ¯'ানে আমাদের গাড়িটি আটকে পড়ে সেখানে আমার ছেলে প্রিতম একটু পানি খেতে চাচ্ছিল কি' তাকে একটু পানি দিতে পারিনি। এখন ৪টা বাজে এখনও চান্দিনায় কখন যে কুমিল্লা পৌঁছব জানি না।
শুক্রবার দিনভর যানজটে যাত্রীদের চরম দূর্ভোগে দেখা দিয়ে খাদ্যাভাব ও পানির সংকট। রোগীদের নিয়ে বিপদে পড়তে হয়েছে অনেককে। বিদেশগামী যাত্রীরা অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয়েছে রাস্তায় দাঁড়িয়ে।




