.
 
Publish Date: 30 Nov -0001 00:00:00

কুমিল্লায় কিন্ডার গার্টেন শিক্ষায় যাচ্ছেতাই অবস্থা
Share
সরকারি কোনো নিয়ম-নীতি, নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং না থাকায় কুমিল্লায় কিন্ডার গার্টেন শিক্ষার যাচ্ছে তাই অবস্থা। কিন্ডার গার্টেনের দুটি পৃথক সংগঠন রয়েছে। শিশু শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য নেই কোনো কার্যকর উদ্যোগ।
কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, জেলার ১৬টি উপজেলায় কিন্ডার গার্টেন প্রতিষ্ঠান সংখ্যা ১০০৫টি। তার মধ্যে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ এই সংখ্যা ১২৭টি। সর্বনিু সংখ্যা সদর দক্ষিণে মাত্র ৯টি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যা দাউদকান্দি উপজেলায় ৭৯টি। জেলার এসব কিন্ডার গার্টেনে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীর মোট সংখ্যা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাওয়া যায়নি। তবে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় এক লক্ষ হবে বলে কিন্ডার গার্টেনের এসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে। কিন্ডার গার্টেনের এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত রয়েছেন ৫ সহস্রাধিক শিক্ষক শিক্ষিকা। সম্পূর্ণ বেসরকারিভাবে পরিচালিত কিন্ডার গার্টেন গুলোর জন্য কোনো নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ নেই বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন। তিনি বলেন, সরকার গত ৩ বছর ধরে কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে বই সরবরাহ করছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মতো। তাছাড়া কিন্ডার গার্টেনের ৫ম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। যা আগে ছিলো না। এছাড়া আর অন্য কোনো বিষয়ে কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষা কার্যক্রমের উপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং এবং পর্যবেক্ষণ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ কারণে কিন্ডার গার্টেন প্রতিষ্ঠানের মালিক ও শিক্ষক কর্তৃপক্ষ তাদের ইচ্ছে মতো নিয়মকানুন তৈরি করে পরিচালনা করছেন। যার ফলে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকরা শোষন ও নীতি নৈতিকতা বিরোধী কর্মকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন। অধিকাংশ কিন্ডার গার্টেনের বাহারি ইংরেজি নাম। এসব প্রতিষ্ঠানের শতকরা ৯৫ ভাগেরই নিজস্ব কোনো ভবন বা সম্পত্তি নেই। ভাড়া করা বাড়িতে চলছে। নেই কোনো মেধাবী শিক্ষক শিক্ষিকা। নেই কোনো পেশাগত প্রশিক্ষণ। পরিচিতজন, আত্মীয়-স্বজন, বিনিয়োগকারী দ্বারা গঠিত হয় পরিচালনা কমিটি।
ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদের পরিচালনা কমিটিতে নেতৃত্ব দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। ছাত্রছাত্রীদের মাসিক বেতন ১০০টা থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত। ভর্তি হবার সময় দিতে হয় নানা ধরনের ভৌতিক ফি। ভর্তি করবার সময় যে সব প্রতিশ্রতি দেয়া হয়, কিন্ডার গার্টেন কর্তৃপক্ষ পরে তা বেমালুম ভুলে যান। প্লে গ্রপের যে সব ছেলে মেয়ে বর্ণমালা পর্যন্ত লিখতে পারে না তাদের পরীক্ষার ফি দিতে হয় কমপক্ষে ৫০০ টাকা। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সাধনে নেই কোনো বিজ্ঞান ভিত্তিক আধুনিক পদ্ধতি। শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ড্রেস, নির্ধারিত টেইলারের কাছ থেকে তৈরি করতে হয়, নির্ধারিত দোকান থেকে বই কিনতে বাধ্যকরা সহ অনেক অনৈতিক নিয়মকানুন মেনে চলতে বাধ্য করা হয়। যে যার মতো করে বেতন নির্ধার করে। যে যার মতো করে অনেক অখ্যাত লেখকের বই পাঠ্য করে। বই বিক্রির উপর আবার কিন্ডার গার্টেন কর্তৃপক্ষ পৃথক কমিশন পান। শিশুদের লেখা পড়ার মানোন্নয়নে কিন্ডার গার্টেন কর্তৃপক্ষের নেই কোনো কার্যকর উদ্যোগ। গতানুগতিক পাঠদান পদ্ধতিতেই চলে শিক্ষা কার্যক্রম।
অনেক শিক্ষকের নেই প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা। কোনো কোনো কিন্ডার গার্টেনের অধ্যক্ষের যোগ্যতা এসএসসি বা এইচএসসি। কিন্তু তাদের অধীনে শিক্ষকতা করেন াতক ও াতকোত্তর ছেলে মেয়েরা। তাদের মাসিক বেতন ১০০০ থেকে ৫/৭ হাজার টাকা পর্যন্ত। অনেক কিন্ডার গার্টেনে কোনো নিয়ম শৃংখলা ও মানা হয় না। শিক্ষকদের বেতন কোনো নীতিমালা নেই। মোটকথা অনিয়মের কোনো শেষ নেই।
এবছর সরকার কিন্ডার গার্টেন প্রতিষ্ঠানগুলোতে সর্বোচ্চ ভর্তি ফি নির্ধারণ করে দেয় ৩০০০ হাজার টাকা। কুমিল্লার ২টি ইংলিশ মিডিয়াম কিন্ডার গার্টেনসহ বেশ কয়েকটি কিন্ডার গার্টেন স্কুল ১০/১২ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তি ফি আদায় করেছে।
কুমিল্লায় কিন্ডার গার্টেন স্কুলগুলোর ২টি পৃথক সংগঠন রয়েছে। ১টির নাম বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশন। অপরটির নাম কুমিল্লা জেলা কিন্ডার এসোসিয়েশন বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশন সভাপতি এবং রেইসকোর্স বোস্টন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ ধীরেন্দ্র কিশোর মজুমদার জানান- তাদের এসোসেয়শনের সদস্য সংখ্যা ২ শতাধিক। তার মধ্যে কুমিল্লা জেলার প্রায় একশ। তিনি বলেন ভাড়া বাড়িতে অধিকাংশ কিন্ডার গার্টেন। তাই ভাড়া খাতে তাদের আয়ের একটা বড় অংশ চলে যায়। তিনি অনেক অনিয়মের কথাই স্বীকার করে বলেন- অনেক সীমাবদ্ধতার কারণেই এসব হচ্ছে। শিক্ষকদের কোনো বেতনস্কেল নেই। যা প্রকৃত অর্থেই অমানবিক বলে উল্লেখ করেন।
 
The Sire Design Mantain & Developed by RiverSoftBD