পত্রিকা আপডেট-১২:৩০ ।। সর্বশেষ খবর আপডেট ২৪ ঘন্টা
 
Publish Date: 30 Nov -0001 00:00:00

৫ শ টাকা বেতন!
Share
কুমিল্লার ৫০টি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার আড়াইশ শিক্ষক গত ২০ বছর ধরে চরম বেতন বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন মাত্র ৫ শ টাকা হারে মাসিক বেতন পাচ্ছেন তারা। এতে তারা পরিবার- পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অনেকে নিরুপায় হয়ে শিক্ষকতার চাকুরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অধ্যয়নরত ৫ সহস্রাধিক শিশুর ভবিষ্যৎ শিক্ষা জীবনও চরম অনিশ্চয়তার মধ্য পতিত হয়েছে। এবতেদায়ী মাদ্রসার শিক্ষার্থীরা সরকার প্রদত্ত কোনো বৃত্তি এবং উপবৃত্তির সুবিধা পায় না। কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, জেলার ১৬টি উপজেলায় মোট এবতেদায়ী মাদ্রাসার সংখ্যা ৩৭২টি। তার মধ্যে দাখিল, আলিম ও ফাজিল মাদ্রাসা সংযুক্ত এবতেদায়ী মাদ্রসার সংখ্যা ৩২২টি। সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার সংখ্যা ৫০টি। সংযুক্তি এবং স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার সবগুলো সরকারি নিয়মনীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যপুস্তক সরকারি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতোই বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন। তিনি আরো জানান, ৫ম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষার সাথেই এখন প্রতিবছর এবতেদায়ী মাদ্রাসার ৫ম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষা প্রক্রিয়ায় সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং করছে দেশের একমাত্র মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড।কুমিল্লা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের একটি আঞ্চলিক কার্যালয় রয়েছে জেলা শিক্ষা ভবনের দোতলায়। এই কার্যালয়ে গিয়ে কুমিল্লা জেলার এবতেদায়ী শিক্ষার কোনো তথ্য উপাত্ত পাওয়া যায়নি। এই কার্যালয়ের অফিস সহকারী জানান, মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড সরাসরি এবতেদায়ী শিক্ষা নিয়ন্ত্রণ করে। এই বিষয়ে মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের এবতেদায়ী মাদ্রাসা পরিদর্শক মো: শফিউল মজনবিন এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা গুলো শিশু শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত। সারা দেশে স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার সংখ্যা একহাজার ৫১৯টি। প্রত্যেকটি মাদ্রাসায় ৫জন করে শিক্ষক নিয়োজিত রয়েছে। মাদ্রাসাগুলো পরিচালিত হয় স্থানীয় পরিচালনা কমিটি দ্বারা। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড শুধুমাত্র মনিটরিং করে। তিনি জানান, শিক্ষকগণ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে গত ২০ বছর ধরে মাসিক ৫০০ টাকা হারে অনুদান পান। এটা তাদের বেতন ভাতা নয়। আবার এই অনুদানও পান তিনমাস বা ছয় মাস পর পর। এছাড়া সারা দেশে উচ্চ মাদ্রাসা সংযুক্ত আরো ৫ হাজার ৩২৯টি এবতেদায়ী মাদ্রাসা রয়েছে। এসব মাদ্রাসার শিক্ষকরা বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য সরকার প্রদত্ত স্কেল অনুযায়ী বেতন ভাতা পাচ্ছেন। একই রকম মাদ্রাসায় দুই রকম বেতন ভাতা। উচ্চ মাদ্রাসা সংযুক্ত এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা মাসিক ১০/১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন ভাতা পাচ্ছেন। অন্যদিকে স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের মাসিক বেতন মাত্র ৫শ টাকা। সে হিসেবে দৈনিক গড় বেতনের পরিমাণ দাড়ায় মাত্র ১৬ টাকা ৬৭ পয়সা। তাও আবার অনিয়মিত। কারো আবার কোনো বেতনই জোটে না। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা। ক্ষোভে দু:খে কেউ কেউ ইতোমধ্যেই এপেশা ছেড়ে অন্য পেশায় নিয়োজিত হচ্ছেন। কেউবা আবার বেতন বাড়ার আশায় আশায় এখনো লেগে আছেন। দেবিদ্বার উপজেলার এক এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক আবু সাঈদ জানান- গত ১০ বছর ধরে তিনি একই চাকুরি করছেন। এই টাকায় কিভাবে সংসার চলে জানতে চাইলে বলেন, অনেকের বাসার কাজের বুয়ার বেতনও আমাদের বেতনের চাইতে বেশি। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি একটি মাল্টি পারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটিতে টাকা আদায়ের কাজ করছেন বলে জানান। এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো বেতন ভাতার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন। সরকার তাদের দাবি না মানলে তারা চাকুরি ছেড়ে দেবেন বলে সরকারকে জানিয়ে স্মারক লিপি দিয়েছেন বলে জানান এবতেদায়ী মাদ্রাসা সংগঠনের সদস্য সচিব মো: শামছুল আলম। মাদ্রাসা শিক্ষকদের এই দুরাবস্থার বিষয়ে গতকাল বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান আবদুর নূর এর সাথে ফোনে কথা বললে তিনি জানান, এ বিষয়ে অনেক কথা হয়েছে। তিনি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে ময়মনসিংহের ভালুকায় আছেন। তাই এখন কথা বলা যাবে না বলে ফোন কেটে দেন। এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এবতেদায়ী মাদ্রাসা পরিদর্শক জানান, এবদেতায়ী মাদ্রাসার শিশুরা সরকার প্রদত্ত কোনো উপবৃত্তি এবং ৫ শ্রেণির বা জুনিয়র বৃত্তির সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ তাদের জন্য সরকারি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচি অনুযায়ী লেখাপড়া শিখতে হচ্ছে। মানবেতর জীবন যাপনের কারণে একদিকে শিক্ষকদের পেশা ছেড়ে দেয়ার হুমকি, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের প্রতি সরকারের বৈষম্যমূলক আচরণ তাদের ভবিষ্যতকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।


hossain

ata thik noy baton kom kano a batona Solbana famili Solbana baton say baton say aro bashi baton say

 
Total Reader : Hit Counter by Digits || The Site Design Mantain & Developed by RiverSoftBD