চাঁদপুরে ইলিশের অভয়াশ্রমে এক মাসে শত কোটি টাকার জাটকা ও কারেন্ট জাল আটক
Share
শওকত আলী, চাঁদপুর থেকে ঃ জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় সরকারের নানা উদ্যোগ সফল হচ্ছে না। অভিযান, জেল জরিমানা কোনো কিছুই জেলেদের জাটকা ধরা থেকে বিরত রাখা যাচ্ছে না। ইলিশের অভয়াশ্রমকালীন এক মাস চাঁদপুরে অভিযানের চিত্র দেখলে তা-ই বোঝা যাচ্ছে। গত মার্চ মাসে অভয়াশ্রমকালে চাঁদপুরের নদী সীমানায় শতাধিক অভিযান চালায় জাটকা নিধন প্রতিরোধ টাস্কফোর্স ও কোস্টগার্ড। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল, জাটকা মাছ, মা ইলিশ দেশীয় প্রজাতিরমাছসহ জেলে ও নৌকা আটক করা হয়। আটককৃত পণ্যের দাম প্রায় শত কোটি টাকার মতো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো। ইলিশ সম্পদ রক্ষায় সরকার প্রতি বছর নভেম্বর থেকে মে পর্যন্ত ৭ মাস জাটকা রক্ষা কর্মসূচি ঘোষণা করে। এ সময়ের মধ্যে জাটকা নিধন নিষিদ্ধ থাকে। আর এ সময়ই হচ্ছে জাটকার মৌসুম। এছাড়া এ সময়ের মধ্যে মা ইলিশগুলো ডিম ছাড়ে। এই সাত মাসের মধ্যে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস মাছের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়। অর্থাৎ এই দুই মাস চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুর জেলার চরআলেকজান্ডার পর্যন্ত ১শ' কিলোমিটার মেঘনা অববাহিকায় জাল ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে। এই দুই মাস দীর্ঘ নদী পথে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। চাঁদপুরের চারটি উপজেলা তথা মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলা নদী তীরবর্তী হওয়ায় এই চার উপজেলার জেলেরা সরকারের এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে। এই চার উপজেলায় তালিকাভুক্ত জেলের সংখ্যা হচ্ছে ২৩ হাজার। এই ২৩ হাজার জেলে পরিবারের সারা বছর জীবিকা নির্বাহের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে মাছ ধরা। সরকার এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর বিকল্প কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে দুই মাস অভয়শ্রম ঘোষণা করে। এতে জাটকা রক্ষা তো হচ্ছেই না উপরন্তু জেলেদের ওপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। জেল-জরিমানা, জুলুম-নির্যাতন মেনে নিয়েই জেলেরা জীবিকার তাগিদে জাল নিয়ে নদীতে নেমে পড়ে। যদিও ফেব্র“য়ারি থেকে মে পর্যন্ত চার মাস জেলেদেরকে প্রতি মাসে জনপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে। এছাড়া পুরো জেলায় মাত্র ১ হাজার জেলেকে বিকল্প কর্মসংস্থানের আওতায় আনা হয়েছে। সরকারি এই সহায়তার পরও কেনো জাটকা নিধন বন্ধ হচ্ছে না, তা বাস্তবতার নিরিখে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন মহল। অভিযোগ আছে, এসব সহায়তা প্রকৃত জেলেরা পাচ্ছে না। গত মার্চ মাসে পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জেলা টাস্কফোর্স, উপজেলা টাস্কফোর্স, মৎস্য অধিদপ্তর ও কোস্টগার্ড নদীতে প্রায় দেড়শ' অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে প্রায় ৩৫ টন জাটকা, ৯৩ লাখ মিটার কারেন্ট জাল, ১২০ জন জেলে ও প্রায় ১০টি নৌকা আটক করা হয়। কারেন্ট জালের আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৫১ কোটি টাকা। আটক ১২০ জেলের মধ্যে ৬১ জনকে ১ মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া জরিমানা আদায় করা হয় প্রায় সোয়া লাখ টাকা।


আপনার মতামত দিন
 আপনার নাম :
 ঠিকানা :
ই-মেইল :
আপনার কমেন্ট :
 
শিরোনাম
সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ
 
  • আজকের প্রশ্ন?
  •  
    বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির রায়ের মধ্য দিয়ে জাতি ৪২ বছরের কলঙ্কমোচন শুরু হলো। বাকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও দ্রুত করা উচিত বলে আপনি মনে করেন কি ?
    āĻšā§āϝāĻžāρ āύāĻž

    পুরোনো ফলাফল
আর্কাইভ
< May 2013 >
রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহ শুক্রশনি
   








১০
১১
১২
১৩
১৪
১৫

১৭
১৮
১৯
২০
২১
২২
২৩
২৪
২৫

২৭
২৮
২৯
৩০
৩১