
জোড়া সেঞ্চুরির গল্প
একজন সদ্য সহ-অধিনায়ক হয়েছেন। আরেকজনের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছে সেই দায়িত্ব। সেই দুТজন╤ ভিরাত কোহলি ও গৌতম গম্ভীর ২০৫ রানের জুটি গড়ে ফেলেন। মঙ্গলবার মিরপুরে শচীনের আরেকটি ব্যর্থ উপাখ্যান আড়ালে ঢাকা পড়ল দুТজনের দুটি শতকের কীর্তিতে। মাত্র ছয় রানে যে ম্যাচে ফিরলেন শচীন-সম্রাট, সেই ম্যাচে তার দুই জুনিয়র সতীর্থের সেঞ্চুরি। গম্ভীর ১০০, কোহলি ১০৮। হোলি উৎসবের মতো গম্ভীর-কোহলি রানেরও উৎসব করে ফেললেন। তবে কাল মিরপুরে এ দুТজনের ব্যাটিং-ঐশ্বর্য ছাপিয়ে বড় হয়ে ওঠে শচীনের ভয়কে জয় করতে না পারার ব্যর্থতা। নিজেকে তো বটে, ক্রিকেটবিশ্বকেও আবারও প্রতীক্ষায় রাখলেন ৯৯ শতকে আটকে তাকা টেন্ডুলকার। যে ম্যাচে ভারত ৩০৪/৩, শচীনের সেখানে অবদান শূন্য। সাজঘরে বসে দেখলেন, বাইশ গজে রানের ফুল ফোটাচ্ছেন গম্ভীর-কোহলি। ১৯ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পরও ভারত যে ৩০০ পেরুলো, সে তো দুই তরুণ তুর্কির ব্যাটের ওপর ভর করেই।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ২০৫ রান যোগ হয় ৩৭ ওভারে। এশিয়া কাপে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে এটি সর্বোচ্চ রান। আগের সর্বোচ্চ রান ছিল ১৯৮। সেহওয়াগ ও সুরেশ রায়না পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০০৮ সালে করাচিতে করেছিলেন। ২০৫ যে কোন জুটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। যে কোন জুটিতে সর্বোচ্চ রান ২২৩। ২০০৪ সালে হংকংয়ের বিপক্ষে পাকিস্তানের শোয়েব মালিক ও ইউনুস খান করেছিলেন। এছাড়া তৃতীয় উইকেটে ২০৫ রানের আরও একটি জুটি আছে। পাকিস্তানেরই মঈন-উল-আতিক ও ইজাজ আহমেদ ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে করেছিলেন। এদিকে কোহলি ও গম্ভীর দুТজনেই করেছেন দশম সেঞ্চুরি। কোহলির সেঞ্চুরি Сব্যাক টু ব্যাকТ, গম্ভীর পেয়েছেন ২৮ ম্যাচ পর। কোহলি অস্ট্রেলিয়ায় তিন জাতির টুর্নামেন্টে শ্রীলংকার বিপক্ষেই হোবার্টে ম্যাচজয়ী অপরাজিত ১৩৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। তার সেঞ্চুরির কারণেই শ্রীলংকার চার উইকেটে ৩২০ রান ভারত অতিক্রম করেছিল মাত্র ৩৬.৪ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে। সে ম্যাচেই শ্রীলংকার দিলশান (১৬০) ও সাঙ্গাকারা ( ১০৫) জোড়া সেঞ্চুরি করেছিলেন। ঢাকায় গম্ভীর ও কোহলি তার জবাব দিলেন। গম্ভীর সর্বশেষ সেঞ্চুরি করেছিলেন ২০১০ সালের ১২ ডিসেম্বর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে (অপরাজিত ১২৬)।
একদিনের ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরির ঘটনা এটি ৯৮তম। আর এশিয়া কাপে চতুর্থ। এশিয়া কাপে প্রথম জোড়া সেঞ্চুরি করেন পাকিস্তানের মঈন-উল-আতিক ও ইজাজ আহমেদ। ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে মঈন-উল-আতিক ১০৫ ও ইজাজ আহমেদ অপরাজিত ১২৪ রান করেছিলেন। এর পর জোড়া সেঞ্চুরি হয় ২০০৪ সালের আসরে। হংকংয়ের বিপক্ষে পাকিস্তানের শোয়েব মালিক ১১৮ ও ইউনুস খান ১৪৪ রান করেছিলেন। সর্বশেষ জোড়া সেঞ্চুরি করেন ভারতের ধোনি ও সুরেশ রায়না। ২০০৮ সালে করাচিতে হংকংয়ের বিপক্ষে ধোনি অপরাজিত ১০৯ ও সুরেশ রায়না ১০১ রান করেছিলেন। গম্ভীর ও কোহলির জোড়া সেঞ্চুরির অদ্ভুত কিছু মিল রয়েছে। দুТজনের যেমন এটি দশম সেঞ্চুরি তেমনি দুТজনেই একসঙ্গে ৯৯ রানে ছিলেন। সেঞ্চুরি করেছেন দুТজন একই ওভারে। দুТজনেই সেঞ্চুরি করতে দুই বল খেলেন। দুТজেনই এক রান করে নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। গম্ভীর ইনিংসের উদ্বোধন করলেও প্রথমে ৯৯ রান পৌঁছান কোহলি। সেঞ্চুরিও করেন তিনি আগে। কুলাসেকারার ওভারের প্রথম বল ডট খেলার পর দ্বিতীয় বলে এক রান নিয়ে কোহলি সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। পরে গম্ভীর তৃতীয় বলে কোন রান নিতে পারেননি। চতুর্থ বলে এক রান নিয়ে সেঞ্চুরি করেন। দুТজনেই আউট হয়েছেন একই বোলারের বলে একই ওভারে। ফারভেজ মাহারুফের ওভারের তৃতীয় বলে প্রথমে আউট হন গম্ভীর। পঞ্চম বলে কোহলি। দুТজনেই ক্যাচ-আউট হন। গম্ভীরের ক্যাচ নেন থারাঙ্গা, কোহলির থিরিমান্নে।
ভারত
রান বল ৪ ৬
গম্ভীর ক থারাঙ্গা ব মাহারুফ ১০০ ১১৮ ৭ ০
শচীন ক জয়াবর্ধনে ব লাকমাল ৬ ১৯ ১ ০
কোহলি ক থিরিমান্নে ব মাহারুফ ১০৮ ১২০ ৭ ০
ধোনি নটআউট ৪৬ ২৬ ৬ ১
রায়না নটআউট ৩০ ১৭ ৩ ১
অতিরিক্ত ১৪
মোট (৩ উইকেটে, ৫০ ওভারে) ৩০৪
উইকেট পতন : ১/১৯, ২/২২৪, ৩/২২৬।
বোলিং : কুলাসেকারা ১০-০-৬৭-০, লাকমাল ১০-১-৬৭-১, দিলশান ১০-০-৫৪-০, প্রসন্না ৯-০-৪৫-০, মাহারুফ ১০-০-৫৭-২, কাপুগেদেরা ১-০-৭-০।




