
ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত সাক্কু
স্টাফ রিপোর্টার।। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র মনিরুল হক সাক্কু এখন ভাসছেন নগরবাসীর ভালবাসায়। গত রাতে দফায় দফায় ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর পর গতকাল শুক্রবার
সকাল হতেই সমর্থক ও ভোটারা ছুটে যান তার নানুয়ার দিঘীর পাড়ের বাসভবনে। সেখানে তারা ফুল, মিষ্টি ও মূহুর্মুহু শ্লোগানে জানান সদ্য নির্বাচিত মেয়রের প্রতি তাদের আস্থার কথা। ভক্ত-সমর্থকদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের ফাঁকে সাক্কু আলাপ-চারিতা করেন এ প্রতিবেদকের সঙ্গে। বললেন, আমি বিএনপিতে বরাবরই ছিলাম, এখনো মনে-প্রাণে বিএনপির সঙ্গেই আছি। দায়িত্ব পেলে দলের আগামী রোড মার্চে নেতৃত্ব দিতে চাই। বিএনপিতে আবার ফিরে যাওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। দল মনে করলে আবার আমাকে ফিরিয়ে নিতে পারে। আমি বিএনপিতে ফিরে যেতে চাই। প্রসঙ্গত, আগামীকাল রোববার অনুষ্ঠেয় বিএনপির ঢাকা--চট্টগ্রাম রোড মার্চ কর্মসূচিতে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কুমিল্লার চান্দিনা ও পদুয়া বাজারে দুটি পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। দলের বিপক্ষে ভোট করে আবার দলে ফিরে যেতে চাইছেন কেনো, এমন প্রশ্নের জবাবে সাক্কু বলেন, আমি মনে করি, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়। দলের চেয়ে দেশ ও জাতি অনেক বড়। তাই কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে ইভিএম (ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন) ব্যবহার এবং সেনা মোতায়েন না করার প্রশ্নে নির্বাচন বর্জনের দলীয় বিপক্ষে গিয়ে আমি বিএনপি থেকে অব্যহতি নিয়ে ভোট করেছি। দেশ ও জাতির স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কুমিল্লার অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রমান করেছে, সকলের সহযোগিতায় প্রশাসন চাইলে সেনা মোতায়েন ছাড়া ও ইভিএম-এই যথাযথভাবে ভোট হতে পারে। আমি মনে করি, আমার এই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিলো। আর দলও এখন তা মেনে নেবে। তিনি আরো বলেন, গত ৩০ বছর ধরে আমি বিএনপির একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে কাজ করেছি। কখনো দলের প্রতি আস্থা হারাইনি। দলবদলের প্রশ্নই আসে না। মেয়র হিসেবে বিপুল ভোটে জয়লাভের পেছনে শুধু আমার একক ভূমিকা নয়, দলের ভাবমূর্তিও অনেক সহায় হয়েছে। জাতীয়তাবাদের আদর্শে আমার অবিচল আস্থা রয়েছে। তাই বিএনপিতে আবারো ফিরে গিয়ে দেশ ও দলের জন্য কাজ করতে চাই। মেয়র হিসেবে সন্ত্রাস, মাদক, জলাবদ্ধতা, যানজট দূরিকরণে কাজ করবেন বলেও জানান তিনি। সাক্কু বলেন, এটিই হবে আমার প্রথম কাজ। সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান নির্মূল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ হলেও আমি মেয়র হিসেবে সব সময় এ জন্য জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করবো, পরামর্শ দেবো, আমার পক্ষ থেকে এ জন্য যা কিছু করা দরকার, তার সবই করবো। পরাজিত প্রার্থীদের নিয়েও একসঙ্গে কাজ করতে চান, এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু পরাজিত নয়, নগরবাসীর সমস্য সমাধানে অতীত ভুলে গিয়ে সকল দলের রাজনৈতিক নেতা, নাগরিক নেতা, সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমি প্রতিমাসে অন্তত একবার মতবিনিময় করবো। তাদের সঙ্গে নিয়ে সিটির উন্নয়নে কাজ করবো। এছাড়া কাউন্সিলদের সঙ্গে নিয়ে শিগগিরই ২৭টি ওয়ার্ডে গিয়ে সর্বস্তরের নগরবাসীর সঙ্গে কথা বলবো। প্রতিটি ওয়ার্ডের সমস্যাগুলো তালিকাবদ্ধ করে গুরুত্ব অনুয়ায়ী সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে একে একে সমস্যাগুলো দূর করতে আন্তরিকভাবে কাজ করবো। নির্বাচনে রায় দিয়ে জনগণ জানিয়ে দিয়েছে, আমার ওপর তাদের অগাধ আস্থা রয়েছে। পরিকল্পনা মাফিক কাজ করে আমি সর্বাতকভাবে চেষ্টা করবো, তাদের আস্থার মর্যাদা দেওয়ার। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মস্থান, বিনোদনসহ নানা খাতে উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মকান্ডে আমি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে চাই।




