পত্রিকা আপডেট-১২:৩০ ।। সর্বশেষ খবর আপডেট ২৪ ঘন্টা
 
Publish Date: 11 Mar 2014 23:31:07

ভয়ে স্কুলে আসে না অনেক শিক্ষার্থী
Share
স্টাফ রিপোর্টার।। কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল এলাকা ছেচরাপুকুরিয়া। ওই গ্রামের অধিকাংশ পরিবারই কৃষি নির্ভরশীল। দেবিদ্বার-চান্দিনা আঞ্চলিক সড়ক থেকে ফসলি জমির বুক চিরে মাটির রাস্তা বয়ে গেছে ওই গ্রামের। ওই গ্রামের শিক্ষার হারও তুলনামূলক কম থাকায় অনেকটাই সাদা-মাটা রয়ে গেছে এ গ্রামের মানুষ। গ্রামের সড়কগুলো তেমন প্রসস্থ না থাকায় যানবাহনের চলাচলও খুব কম। যারফলে বহি:রাগতদের আনা-গোনাও তেমন নেই বললেই চলে। কিন্তু হঠাৎ ওই গ্রামের গৃহবধূ শাহিনা হত্যার একমাস পর গভীর নলকূপের পাইপে লাশের সন্ধানে নিরব এ গ্রাম সরব হয়ে উঠে। প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের বহি:রাগতদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। ওই খবরে পুরো গ্রামবাসীর যেন পিলে চমকে উঠে। আর গ্রামবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আতংকিত হয়ে পড়ে ওই ঘটনাস্থল সংলগ্ন ছেঁচরাপুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার রাতে শাহিনার মরদেহ ওই স্কুল সংলগ্ন গভীর নলকূপে রয়েছে এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়ার শনিবার থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শতশত মানুষ ওই বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে ঘটনাস্থলে আসতে শুরু করলে বিষয়টি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। এতেই অনেক শিক্ষার্থী ভয়ে আতংকিত হয়ে পরদিন থেকে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। আর যারা আসছে তাদের মধ্যে অনেকে পাইপ উত্তোলনে ভারি যন্ত্রাংশ দিয়ে খনন কাজ, পোশাকধারী প্রশাসনিক ব্যক্তিদের এবং গণমাধ্যমের ক্যামেরা ঘুরাঘুরি দেখতে আগ্রহের সাথ ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকে। যারফলে শ্রেণী কক্ষেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিত কম। গৃহবধূ শাহিনা হত্যার পর তার মরদেহ উদ্ধার কাজ দেখতে ঘটনাস্থলে গেলে ওই ঘটনাস্থলের পাশ অবস্থিত বিদ্যালয়টির এমন তথ্য পাওয়া যায়। সরেজমিনে বিদ্যালয়টির বিভিন্ন শ্রেণী কক্ষ পরিদর্শন করে দেখা যায়, ভারাক্রান্ত মনে শ্রেণী কক্ষে পাঠদান করছে শিক্ষকরা। অন্যান্য প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে যেমন শিশুদের কোলাহল থাকে তেমন কিছুই নেই বিদ্যালয়টিতে। প্রতিটি শ্রেণী কক্ষে ১০-১৫জন শিক্ষার্থী চুপচাপ বসে শিক্ষা গ্রহণ করছে। এব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদ জানান, এমনিতেই এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কম। এর উপর আবার এ ঘটনা। এ বিদ্যালয়ে ২১৮জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এ ঘটনায় অনেক শিক্ষার্থী ভয়ে বিদ্যালয়ে আসে না। যারা উপস্থিত হয়ে এদের মধ্যে ছেলে শিক্ষার্থীই বেশি। আর যারা আসে তাদেরও অনেকে একটু পর পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। আমরা বাধ্য হয়েই ঘটনাস্থল গিয়ে শিক্ষার্থীদের ডেকে আনি। তবে লাশ উত্তোলন কাজ শেষ হওয়ার ২/৩ দিনের মধ্যে আবারও পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে।
 
Total Reader : Hit Counter by Digits || The Site Design Mantain & Developed by RiverSoftBD