নতুন জামার আশায় নগরীর পথে পথে বস্তির শিশুরা:কুমিল্লায় পুরান কাপড়ের ভাঁজে হতদরিদ্রদের ঈদের আনন্দ!
Share
সাদিক মামুন: ‘আমাগো আবার ঈদ! বস্তিতে থাহি। আমাগো পোলা-মাইয়ার ঈদের আনন্দ পুরান কাপড়ের ভাঁজে। আর কয়ডা দিন বাদেই ত ঈদ। এহনো সংসারের একটা লোকেরও নতুন জামা কাপড় জুডে নাই। ঈদের দিন ভালাবুরা কিছু রানদুম হেই তফিতও নাই। আমাগো মত গরীব মাইনষের কষ্টডা কেউ চোহে দেহে না’। জীবন আর জীবিকার তাগিদে পথ চলতে চলতে হাঁপিয়ে উঠা এক হতদরিদ্র নারী রোজিনা এভাবেই কথাগুলো বললেন কুমিল্লা টাউনহলে অস্থায়ীভাবে নির্মিত নি¤œবিত্তের ঈদ মার্কেটে। ছোট তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ঈদের নতুন জামা কাপড় পাবার আশায় বাসা বাড়ির ঝিয়ের কাজ ছেড়ে নগরীর পথে নেমেছেন শাসনগাছা বস্তির বাসিন্দা পঙ্গু জসিম মিয়ার স্ত্রী রোজিনা। তার সাথে যোগ হয়েছে আরও তিন দরিদ্র শিশু। এরাও কুমিল্লা মহানগরীর শাসনগাছা বস্তিতে বসবাস করে। ঈদে নতুন জামা কাপড় পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে রোজিনা জানায়, এহন পর্যন্ত তিনডা পোলা-মাইয়ার লাইগ্যা একখান নতুন জামাও জুডেনি। তাগোর খাওন যোগাইতেই জান বাইর অইয়া যায়। মাইনষার বাইত ঝিয়ের কাম কইরা পুষব না বইল্লাই তিনডারে লইয়া হাটে বাজারে হাত পাতনের লাই নামছি। মার্কেটে মার্কেটে ঘুইরা টেহা পইসা যা-ই পাই তা দিয়া সংসারডা চালাই। পোলাপাইনের বাপে পঙ্গু। কান্না জড়িত কন্ঠে রোজিনা বলেন, মাইয়া-পোলাগো মুখের দিকে চাওন যায় না। নতুন জামার লাইগ্যা বায়না ধরছে। বড় লোকরা নতুন জামা কাপড় না দিলে আমি কিননা দিমু ক্যামনে। আমার কি হেই খেমতা (সামর্থ্য) আছে। রোজিনার সাত বছর বয়সী মেয়ে খাদিজা জানায়, মায়ের লগে ভিক্ষায় নামছি। মায়ে কইছে ঈদের আগে নতুন একখান ফরাগ (ফ্রগ) কিননা দিব। আমার বাপেরে এক সাবে একটা লুঙ্গি দিব কইছে। এদিকে রোজিনার সঙ্গে শাসনগাছা বস্তির আরও তিন শিশু নতুন জামা বা জামা কেনার অর্থ যোগাতে ভিক্ষাবৃত্তিতে নেমেছে। এরা হচ্ছে শাহিন বেগম, আলম ও ফরিদ। শাহিনের বয়স দশ বছর। বাবা শহীদ মিয়া ভিক্ষা করে। মা ওই এলাকায় এক চাকুরিজীবীর বাড়িতে কাজ করে। সংসারে আর কোন ভাই বোন নেই শাহিনের। শহরের পথঘাট চেনে না। তাই খাদিজার মায়ের সঙ্গে ভিক্ষায় নেমেছে। শিশু শাহিন জানায়, তার মা বাবা কেউই এখনো যাকাতের একটি কাপড় লুঙ্গি পায় নি। আর তার ভাগ্যেও জুটেনি ঈদের নতুন জামা। শাসনগাছা বস্তির আরেক শিশু আট বছরের আলম। বাবা নেই। তিন বছর বয়সী তার আরেক ভাইকে সঙ্গে নিয়ে তার মা গ্রামে গঞ্জে ভিক্ষা করে। নিজের আর ছোট ভাইয়ের জন্য ঈদের জামা কেউ দেবে এমন আশায় লোকজনের কাছে হাত বাড়ায় পিতৃহীন আলম। এসব শিশুদের ঈদের আনন্দ যেনো এখনো পুরাতন কাপড়ের ভাঁজে। কুমিল্লা মহানগরীর শাসনগাছা ছাড়াও সুজানগর, ধর্মপুর, কাটাবিলসহ আরও বস্তি রয়েছে। যেখানে হতদরিদ্র লোকজনের বাস। পুরাতন কাপড়ের ভাঁজে ওইসব গরীব, অসহায়দের ঈদের আনন্দ লুকিয়ে থাকবে এটা কারো কাম্য নয়। বিত্তবানদের যথাযথ সাহায্য সহযোগিতাই ওদের মাঝে এনে দিতে পারে ঈদের অনাবিল আনন্দ। আর তার মধ্যদিয়েই ধনী আর দরিদ্রের ব্যবধান দূর করার চিত্র ফুটে উঠবে পবিত্র ঈদের দিনটিতে।


আপনার মতামত দিন
 আপনার নাম :
 ঠিকানা :
ই-মেইল :
আপনার কমেন্ট :
 
শিরোনাম
  • কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তালা
  • গ্রাম ডাক্তাররা স্বল্প ব্যয়ে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা দেন - রেলমন্ত্রী
  • তিতাস নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন
  • কুমিল্লায় ২১ দিনব্যাপি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধন
  • চান্দিনায় স্কুল শিক্ষিকার ইন্তেকাল
  • ‘রমজানেও বাজার স্থিতিশীল থাকবে’
  • জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কুমিল্লায় ৩ দিনব্যাপি কর্মসূচি
  • ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় কুমিল্লার বিনিয়োগকারীরা
  • স্কুলছাত্র নিলয় হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত আটক
  • আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন বাবুনগরী
  • মোকাম ইউপি উপ নির্বাচন:সদস্য পদে শেষ দিনে ৮টি মনোনয়ন দাখিল
  • ‘সমৃদ্ধ অর্থনীতির জন্য রাজনৈতিক স্থিতির বিকল্প নেই’
  • সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ ২৬ মে
  • বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা
  • সর্বশেষ সংবাদ

    অনলাইন জরিপ
     
    • আজকের প্রশ্ন?
    •  
      বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির রায়ের মধ্য দিয়ে জাতি ৪২ বছরের কলঙ্কমোচন শুরু হলো। বাকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও দ্রুত করা উচিত বলে আপনি মনে করেন কি ?
      āĻšā§āϝāĻžāρ āύāĻž

      পুরোনো ফলাফল
    আর্কাইভ
    < May 2013 >
    রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহ শুক্রশনি
       








    ১০
    ১১
    ১২
    ১৩
    ১৪
    ১৫

    ১৭
    ১৮
    ১৯
    ২০
    ২১
    ২২
    ২৩
    ২৪
    ২৫

    ২৭
    ২৮
    ২৯
    ৩০
    ৩১