পত্রিকা আপডেট-১২:৩০ ।। সর্বশেষ খবর আপডেট ২৪ ঘন্টা
 
Publish Date: 30 Nov -0001 00:00:00

কুমিল্লায় খোলা বাজারে অবৈধ ভেজাল তেল বাণিজ্য : গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত
Share
স্টাফ রিপোর্টার।। কুমিল্লায় নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে পেট্রোল ও অকটেনে ভেজাল মিশিয়ে ও মাপে কম দিয়ে নগরীর বাইরে বিভিন্ন খোলা দোকান পাটে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা। পেট্রোল পাম্পে এক লিটার অকটেন বাজারদর ৯৪ টাকা ২৫ পয়সা, ডিজেল ৬১ টাকা ২৫ পয়সা আর বাইরে ভেজাল দিয়েও অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা থেকে ১১০ টাকা পর্যন্ত। ভেজাল পেট্রোল ও অকটেন ব্যবহারে যানবাহনের ইঞ্জিনেও সমস্যা হচ্ছে। এসব দোকানগুলোতে অবৈভাবে তেল বিক্রি এবং তাদের অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় ঘটতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা। সূত্রমতে, কুমিল্লা নগরীর চকবাজার, গুধির পুকুর পাড়, নুরপুর, কাপ্তান বাজার, ইপিজেড, ঢুলিপাড়া, টমসনব্রীজ, নগরীর বাইরে চাঁনপুর ব্রিজের দুই মাথায়, অশোকতলা, পালপাড়া ব্রিজের নিকট, বালুতুপা বাখরাবাদ মোড়, সালাউদ্দিন হোটেলের মোড়, দিদার সমিতি, কোটবাড়ি, নন্দনপুর, আলেখারচর বিশ্বরোড, পদুয়ার বাজার এবং কোটবাড়ি টিটিসি মোড়ে ঝুঁকিপুর্ণ পরিবেশে জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে। এসব তেল বিক্রেতারা কখনও নির্দিষ্ট স্থানে, কখনও ভ্রাম্যমানভাবে তেল বিক্রি করে। তাদের অনেকের নিকট মাইক্রোবাস, ট্রাক চালক চোরাই তেল বিক্রি করে। কিছু বিক্রেতা কম দামে অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি করায় ক্রেতারাও আগ্রহী খোলা বাজারের তেল ক্রয়ে। ফিলিং স্টেশনে অকটেন বিক্রি হয় ৯৪ টাকা ২৫ পয়সা, ডিজেল ৬১ টাকা ২৫ পয়সা, খোলা বাজারে কোথায়ও ১০০ থেকে ১১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সরেজমিনে বিভিন্ন তথ্যে জানা যায়, দুভাবে পেট্রেলে ভেজাল দেওয়া হয়। একটি হয় ডিপো থেকে ট্যাংক লরি পাম্পের মালিকদের কাছে পৌঁছানোর পথে, অপরটি হয় পাম্প স্টেশনে। ডিপো থেকে পাম্পে নেওয়ার পথে লরির চালকেরা পথে নানাভাবে তা বেচে দেন। পরে সেটা পূরণ করতে এমটিটি নামের সাদা গুঁড়ো মেশানো সমপরিমাণ কেরোসিন (এমটিটি মেশালে নীল রঙয়ের কেরোসিন স্বচ্ছ আকার ধারণ করে) ট্যাংক লরিতে ঢালা হয়। সেই ভেজাল পেট্রোলই পাম্প স্টেশনে সরবরাহ করেন লরির চালকেরা। কুমিল্লা মহানগরীর আনাচে কানাচে প্রায় ২০-২৫টি স্থানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে প্রক্রিয়ায় জ্বালানি তেলের ব্যবসা চলছে। নগরীর চকবাজার নুরুল হুদা পেট্রোল পাম্পের এক কমকর্তা বলেন, জ্বালানি তেলে ভেজাল হচ্ছে সত্য। অকটেনে ভেজাল হয় না কিন্তু পেট্রোলে ভেজাল হয়। আমাদের পাম্পে কোনো রকম ভেজাল করা হয় না। কুমিল্লা একাধিক মোটর সাইকেল ব্যবহারকারী রিপন, মোবারক, জাবেদ জানান- ফোর স্ট্রোক মোটরসাইকেল থেকে সাধারণত কালো ধোঁয়া বের হয় না। কিন্তু খোলা দোকান থেকে তেল নিলে তা থেকেও কালো ধোঁয়া বের হয়। ঠিকাদারী ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক বাবু জানান- গত মাসে নতুন একটি মোটরসাইকেল কেনার পর পেট্রোল পাম্প থেকে তেল নিয়ে ভালোভাবে চালিয়ে এসেছেন। একদিন কুমিল্লা বাইরে কাজ করতে গিয়ে কোটবাড়ী বাজার থেকে তেল নেওয়ার পর এক কিলোমিটার চালানোর পর হঠাৎ মোটরসাইকেলটি বিকল হয়ে যায়। পরে জানা যায়, ভেজাল তেলের কারণে প্লাগে ময়লা জমে নষ্ট হয়ে গেছে। কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মাসুদুল করিম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পন্থায় তেল বিক্রির বিষয়ে আমাদের জানা নেই। কেরোসিন ডিজেল বিক্রির বিষয়টি ছাড় দেয়া গেলেও অকটেন ও পেট্রোল ফিলিং স্টেশন ছাড়া খোলা বাজারে বিক্রির প্রশ্নই উঠে না। এছাড়া এ বিষয়ে আমাদের কোন জানা নেই। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রেজাউল আহসান বলেন - খুচরা বিক্রির বিষয়ে কোন বিধি নিষেধ নেই। যারা খোলা বাজারে তেল বিক্রি করছে তাদেরকে অবশ্যই লাইসেন্স নিয়ে বিক্রি করতে হবে। যাদের লাইসেন্স নেই তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 
Total Reader : Hit Counter by Digits || The Site Design Mantain & Developed by RiverSoftBD