ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
কুমিল্লায় পরিবহন শ্রমিকদের বাধায় যান চলাচল বন্ধ, যাত্রীদের দুর্ভোগ
Published : Thursday, 21 November, 2019 at 12:00 AM, Update: 21.11.2019 2:29:15 AM, Count : 278
কুমিল্লায় পরিবহন শ্রমিকদের বাধায় যান চলাচল বন্ধ, যাত্রীদের দুর্ভোগতানভীর দিপু।। সড়কের নতুন আইন সংশোধনের দাবিতে ডাকা ট্রাক-কার্ভাডভ্যান মালিক সমিতির ধর্মঘটের কারণে গতকাল বুধবার সকাল থেকেই কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল একেবারেই বন্ধ ছিলো। একই সাথে বন্ধ ছিলো শাসনগাছা, জাঙ্গালিয়া বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে চলাচলকারী যাত্রীবাহী দূরপাল্লার যানবাহন। সকালে কোথাও কোথাও বাস চলাচল শুরু হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে পরিবহন শ্রমিকদের বাঁধায় তা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া ট্রাক কাভার্ডভ্যান চালকরা কুমিল্লার বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ করে বন্ধ করে রাখে সাধারণ পরিবহন। এসময় রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলাচলেও বাঁধা দেয় তারা। যাতায়াতের জন্য পরিবহন না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই যাত্রীবাহী যান চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তির শিকার হয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে যাত্রীরা।
বুধবার সকাল থেকে কুমিল্লার বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে শ্রমিকদেরকে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করতে দেখা গেছে। দুপুর পর্যন্ত ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের আলেখারচরে শ্রমিকরাঅবরোধ করে মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ করে দেন। এছাড়া শহরের শাসনগাছা, জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যা-, চকবাজার বাসস্ট্যা-ে শ্রমিকরা অবস্থান নিয়ে যানচলাচল বন্ধ করে দেন। এ পর্যায়ে শহরের রেইসকোর্সে রেলওয়ে ওভারপাসের সামনে এবং পদুয়া বাজারের রেলওয়ে ওভারপাসের নীচে শ্রমিকরা অবস্থান নেন। পদুয়া বাজারের রেলওয়ে ওভারপাসের নীচে শ্রমিকরা বাস এলোপাথারি রেখে মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ করে দেন। দুপুর একটার দিকে পুলিশ ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন শ্রমিককে সরিয়ে দিলে আলেখারচরে আটকে পড়া যানবাহন চলাচল শুরু হয়। এ সময় রেইসকোর্সে রেলওয়ে ওভারপাসের সামনে ও আলেখারচর মোড়ে অবস্থান নেওয়া শ্রমিকদের সরে যেতে বলেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার।
দুপুর পৌঁনে দুইটায় পদুয়া বাজারের রেলওয়ে ওভারপাসের নীচে বাস এলোপাথারি রেখে শ্রমিকরা যান চলাচল বন্ধ করে রেখেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।  শাসনগাছাঃ বুধবার ধর্মঘটের শুরুতেই সকাল থেকে নগরীর শাসনগাছা ওভার পাসের দুইপাশে অবস্থান নেই। ধর্ম-ঘটকারীরা। এসময় তারা ওভারপাস দিয়ে শহরে আসা যাওয়া সবধরনের পরিবহনকে চলাচলে বাঁধা দেয়। শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্স চলাচল করতে দিয়ে অন্যান্য পরিবহনকে শহরে ঢুকতে এবং বের হতে দেয়নি তারা। ওভার কাভার্ডভ্যান ও প্রাইভেটকার চালকের গায়ে পোড়া মবিল ছুড়ে ধর্মঘটকারীরা। এসময় তারা নতুন সড়ক আইন সংশোধন এবং তাদের দাবি মেনে নেয়ার দাবি জানায় তারা। পরে খবর পেয়ে সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার শাসনগাছা ওভারপাস এলাকায় ছুটে যান। তিনি ধর্মঘট কর্মীদের সাথে কথা বলে যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচলে বাধা না দেয়ায় নির্দেশ দিলে ধর্মঘটকারী ওই এলাকা থেকে যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল উন্মুক্ত করেন।
এর আগে সকাল থেকেই ওভারপাস দিয়ে কোন ধরনের যানচলাচল করতে দেয়নি ধর্মঘটকারীরা। এসময় কোন পরিবহন না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পরে এই পথে চলাচল কারীরা। অনেক যাত্রীকেই রেইসকোর্স এলাকা থেকে হেঁটে আলেখারচর এলাকার দিকে হেঁটে রওনা হন। এছাড়া অনেকেই রিকশা ও মোটরসাইকেলে করে গন্তব্যে যান।
জাঙ্গালিয়াঃ বুধবার সকাল ১০ টা থেকেই নগরীর জাঙ্গালিয়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করে ধর্মঘটকারীরা। এসময় তারা রাস্তার উপর এলোপাতারিভাবে যানবাহন ফেলে রেখে ব্যারিকেড দেয়। বাসস্ট্যান্ড থেকে কোন বাস, মিনি বাস, সিএনজি এবং অটোরিকশা ঐ এলাকা দিয়ে শহরে ঢুকতে এবং বের হতে পারেনি। ধর্মঘটকারীরা এক সময় তাদের দাবী মেনে নেওয়ার জন্য স্লোগানসহ মিছিল দিয়ে সড়কের উপর অবস্থান করে। কুমিল্লা থেকে চাঁদপুরগামী এক যাত্রী জানান, কান্দিরপাড় থেকে সিএনজি নিয়ে জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা পর্যন্ত আসি। সেখান থেকে ধর্মঘটের মিছিল দেখে সিএনজি আর সামনে যেতে চায়নি। পরে আর কোন যানবাহন না পেয়ে জাঙ্গালিয়া থেকে পদুয়ার বাজার হেঁটে রওয়ানা দেই। পদুয়ার বাজারেও একই চিত্র দেখি। পদুয়ার বাজার থেকে ভেঙ্গে ভেঙ্গে সিএনজি অটোরিক্সা করে চাঁদপুর পৌঁছাই।
জাঙ্গালিয়া এলাকায় ধর্মঘটকারীরা সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অবস্থান করে। এসময় তারা রাস্তার উপর যানবাহন, পরিত্যক্ত ড্রাম, সড়ক নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রেখে রাস্তা ব্যারিকেড করে। দুপুর ২টার পর থেকে এই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড: গতকাল বুধবার ধর্মঘটের শুরু থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার এলাকায় যান চলাচলে বাধা দেয় ট্রাক-কার্ভাডভ্যান মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও শ্রমিকরা। মহাসড়ক দিয়ে কোন ধরনেরই পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করতে দেয়নি তারা। এসময় শ্রমিকরা হাতে লাঠি-সোটা নিয়ে অবস্থান করলে যাত্রীবাহী অনেক গাড়ী চালকরা আতঙ্কিত হয়ে ওই এলাকায় মহাসড়কের পাশে যানবাহন দাঁড় করিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসলে এসব প্রাইভেট গাড়ীগুলো চলাচল করতে শুরু করে। তবে সারাদিনই পদায়ার বাজার এলাকা হয়ে কুমিল্লা থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর কোথাও কোন যাত্রীবাহী বাস ছেড়ে যায়নি। পদুয়ার বাজার এলাকার একজন পরিবহন শ্রমিক জানান, নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধন করা হলে পরিবহন শ্রমিকদের জন্য ভালো হবে। অন্যাথায় বেশিরভাগ চালকরাই এই আইনের কারণে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হবে। আমরা চাইনা সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হোক। সরকার আমাদের দাবী মেনে নিলে আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিবো।
আলেখারচর-ক্যান্টনমেন্ট: ধর্মঘটের দিন শুরু থেকেই আলেখারচর-ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় কোন ধরনের যান চলাচলের খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া ১১টার আগে ধর্মঘটকারীরা এসব এলাকায় ছোট ছোট বিক্ষিপ্ত মিছিল করলেও কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে নি। এসময় মহাসড়কের এই এলাকায় হাইওয়ে পুলিশের টহলদারি নজরে পরে। দাউদকান্দি (টোলপ্লাজা): ট্রাক-কার্ভাডভ্যান মালিক সমিতি ডাকা ধর্মঘটের কারণে দূর পাল্লার কোন যানবাহন দাউদকান্দি টোলপ্লাজা অতিক্রম করেনি। ছোট ছোট প্রাইভেট গাড়ীতে করে যাতায়াত করে যাত্রীরা। ঢাকা থেকে কুমিল্লা আসতে থাকা ‘জুলকার নাঈন’ নামে এক প্রাইভেটকার যাত্রী জানান, ঢাকা থেকে রওনা হয়ে ধর্মঘটকারীদের বাঁধার মুখে বিভিন্ন জায়গায় থামতে হয়েছে। দাউদকান্দি ব্রীজের পশ্চিম পাশে ধর্মঘটকারীরা গাড়ী আটকে দিচ্ছে এমন খবর পেয়ে অনেক গাড়ী ঢাকার দিকে ফেরত গেছে। তবে আমরা রাস্তার এক পাশে কম গতিতে গাড়ী চালিয়ে কোনরকমে সেতু পাড় হয়ে এসেছি। চান্দিনা এলাকায় পুলিশের গাড়ী টহল দিতে দেখেছি। তবে দাউদকান্দি সেতু টোলপ্লাজায় ধর্মঘটকারীদের লাঠি- সোটা নিয়ে অবস্থান করতে দেখা গেছে। হাইওয়ে পুলিশের দাউদকান্দি ক্রসিং থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যেসব যানবাহন চলাচল করতে চেয়েছে তারা কোন ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া ছাড়াই পাড় হয়ে গিয়েছে। জেলার একজন পরিবহণ নেতা জানান, সারাদিন কোন বাসস্ট্যান্ড থেকেই কোন যাত্রীবাহী যান চলাচল করেনি। সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার বিকালের দিকে পরিবহণ মালিকদের সাথে মত বিনিময় করার পর শাসনগাছা বাস টার্মিনাল থেকে বেশ কয়েকটি বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। কিন্তু পর্যাপ্ত যাত্রী না থাকায় সেটিও বন্ধ হয়ে যায় কিছুক্ষণ পর। 


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft