ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
সুগন্ধি ধানে ব্লাস্ট রোগ, দিশেহারা কৃষক
Published : Thursday, 21 November, 2019 at 12:00 AM, Count : 35
সুগন্ধি ধানের জেলা হিসেবে খ্যাতি রয়েছে উত্তরের জেলা দিনাজপুরের। এই জেলার সুগন্ধি জাতের ধান সারাদেশেই সমাদৃত। কিছুদিন পরেই কৃষকের ঘরে নতুন এ ধান ওঠার কথা। তবে এ সময় ধানে দেখা দিয়েছে ব্লাস্ট রোগ। এছাড়া ফসলের জমিতে বেড়েছে কারেন্ট পোকা, বাদামি গাছফড়িং ও কালো মাজরা পোকার আক্রমণ। এতে দিশেহারা চাষিরা। লাভের আশায় বেশি জমিতে বিশেষ জাতের এ ধান আবাদ করলেও এখন লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।
কৃষি বিভাগ বলছে, সুগন্ধি জাতের ব্রি-৩৪ ধানে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় আগামীতে এ জাতের সুগন্ধি ধান চাষ না করার জন্য কৃষককে নিরুৎসাহিত করা হবে। এর পাশাপাশি মাঠ থেকে এ জাতের ধান তুলে নেওয়া হবে।
জেলার সদর, বিরল, কাহারোল, চিরিরবন্দর, ফুলবাড়ী এলাকায় বেশি করে আবাদ হয় সুগন্ধি জাতের ধান। গত কয়েক বছরে মোটা জাতের ধান আবাদ করে লোকসান গোনায় ধীরে ধীরে এই জেলায় সুগন্ধি জাতের ধানের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে গত বছরের তুলনায় এবার বেশিরভাগ কৃষকই সুগন্ধি জাতের ধানের আবাদ করেছেন।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মতে, গত বছরে ৭৯ হাজার ৭৮৯ হেক্টর জমিতে সুগন্ধি জাতের ধান আবাদ হয়েছিল। সেখানে এবার সুগন্ধি জাতের ধান আবাদ হচ্ছে এক লাখ ৬৫৪ হেক্টর জমিতে। অন্যদিকে জেলায় মোট ২ লাখ ৫৯ হাজার ৩৩ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে।
তবে কয়েকদিন ধরেই কৃষকরা জমিতে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ দেখতে পাচ্ছেন। প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করেও কৃষকরা তেমন ফল পাচ্ছেন না। কৃষকরা বলছেন, যে সময় ধানের জমিতে সবুজের সমারোহ দেখা যাওয়ার কথা, সে সময় ধান শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। ধানের ভেতরে যে দানা হওয়ার কথা, তা না হয়ে চিটা হচ্ছে। এতে কৃষক লোকসানে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
জেলার সদর উপজেলার রাজারামপুর এলাকার কৃষক নূর ইসলাম জানান, কয়েক বছর ধরেই ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। তবে সুগন্ধি জাতের ধানের দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। সেই আশায় সুগন্ধি জাতের ধান বেশি করে আবাদ করেছিলাম। তবে ব্লাস্ট রোগের কারণে এবারও লোকসান হবে।
সদর উপজেলার দণিনগর এলাকার কৃষক বেনু রাম সরকার জানান, ব্রি-৩৪ ধান আবাদ করে এবারে চিটা দেখা যাচ্ছে। সবাই বলছের এটি ব্লাস্ট রোগ। ফলন ভালো হলেও রোগের কারণে ধানের তি হলে তো ধান আর ঘরে উঠবে না।
চিরিরবন্দর উপজেলার মাঝিনা গ্রামের কৃষক নিরাঞ্জন চন্দ্র দাস জানান, আর কয়েকদিন পরেই ধান পাকতে শুরু করবে। অথচ এর আগেই ধানের মধ্যে চিটা। দিন দিন তার পরিমাণ বাড়ছে। বালাইনাশক স্প্রে করেও তেমন ফল পাওয়া যায়নি।
বিরল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহবুবার রহমান বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের আবাদ ভালো হয়েছে। আগাম সতর্কতা হিসেবে বিপিএইচ এবং ব্লাস্ট রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির ল্েয সেপ্টেম্বর মাস থেকে কৃষকদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়। এখনও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
দিনাজপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ তৌহিদুল ইকবাল জানান, ব্লাস্ট রোগ হয়েছে মূলত ব্রি-৩৪ জাতের ধানে। আগাম সতর্কতা হিসেবে পরামর্শ প্রদান করা হয়েছিল। কৃষকদের বলা হয়েছিল ধানের শীষ বের হওয়ার আগেই প্রভেক্স ও সিনাইল গ্রুপের ওষুধ স্প্রে করার জন্য। যারা পরামর্শ গ্রহণ করেছেন তাদের এই সমস্যা হয়নি।
ব্রি-৩৪ জাতের ধানে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ হয় বীজ থেকে। তাই আগামীতে মাঠ থেকে এই জাতের ধান তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft