ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হল পাঁচ দিনের দুর্গোৎসব
Published : Wednesday, 9 October, 2019 at 12:00 AM, Update: 09.10.2019 1:40:56 AM, Count : 189
বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হল পাঁচ দিনের দুর্গোৎসবরণবীর ঘোষ কিংকর: ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসবের পর অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রতীমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা।
পাঁচদিনের আনন্দ-উৎসবকে অতীত করে ভক্তদের চোখের জলে ভাসিয়ে দুর্গতিনাশিনী মা দুর্গা মঙ্গলবার দশমী শেষে স্বপরিবারে মর্ত্যলোক থেকে দেবালয়ে চলে গেলেন। আগামী বছর ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে ভক্তরা সজল চোখে মঙ্গলবার রাতে বিদায় দিয়েছেন মাকে।
সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী ফিরে যান কৈলাসে স্বামীর ঘরে। এক বছর পর নতুন শরতে আবার তিনি আসবেন ‘পিতৃগৃহ’ এই ধরণীতে।
ভক্তদের সাকার উপসনার প্রতীমা থেকে দেবী মায়ের দেবালয়ে গমনের পর কুমিল্লার প্রতিটি পূজা মন্ডপের ভক্তরা মঙ্গলবার রাত ১০টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রতীমা বিসর্জন করেন।
শাস্ত্রমতে এ বছর দেবী দূর্গার গমন হয়েছে ঘোটকে (ঘোড়ায়)। যারফলে পৃথিবীতে ছত্রভঙ্গের শঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেছে শাস্ত্রবিদগণ।
প্রতি বছর পুজো আসবে। আনন্দ-উৎসবের পাঁচদিন শেষে বিদায়ের পালা। বিজয়া দশমীর দিন বারবার এই উপলব্ধির মুখোমুখি হই আমরা। কেননা মন খারাপ করে। তবু সিঁদুরখেলা, বরণডালা দিয়ে হাসিমুখে বিদায় দিতে হয়। যাকে কেন্দ্র করে কয়েকটা দিন এত আনন্দে কাটল, সময়ের নিয়ম মেনে আজ তাঁকেই চলে যেতে হবে।
কোনও কিছু নতুন করে পেতে গেলে যে বারবার হারাতে হয়- একথা লিখে গিয়েছেন বাঙালির আরেক প্রাণের ঠাকুর। সেই কথা দুর্গামায়ের আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রেও খাটে। এলে তো যেতেই হবে। সেই সার সত্যকে মেনে নিয়েই বিজয়ার এত আয়োজন।
অসুরবিনাশী মাদুর্গা যে ক’দিন পিতৃগৃহে ছিলেন ঢোলের বাদ্য, উলু আর কাশার ধ্বনিতে ভক্তি আর আনন্দ মূর্ছনা দুই-ই জাগিয়েছেন ভক্তদের মনে। বিসর্জনের আগেও চলেছে ঢাক, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্র পাঠ, উলুধ্বনি, অঞ্জলি প্রদান, নৃত্য, মায়েদের সিঁদুর খেলা।
ভক্তরা মঙ্গলবার ধান, দুর্বা, মিষ্টি আর আবির দিয়ে দেবীকে বিদায় জানালেন। আসছে বছর বসুন্ধরায় আবার এই সময় ফিরে আসবেন মা- এই আকুল প্রার্থনায় ভক্তরা চোখের জলে বিদায় দিয়েছেন জগজ্জননীকে।
এদিন বিকেলে আনন্দ-বেদনা মিশিয়ে কুমিল্লাসহ সারাদেশে বিজয়ার শোভাযাত্রা, প্রতিমা বিসর্জনসহ সকল আয়োজনেই করেছেন ভক্তরা। সবার কামনা সুন্দর এই পৃথিবীতে অশান্তি, দুঃখ-বেদনা দূর হয়ে থাকবে শুধুই সত্য। থাকবে না হানাহানি ও সাম্প্রদায়িকতা।
প্রতি বছর আশ্বিন-কার্তিকের পঞ্চমী থেকে দশমী তিথির পাঁচটি দিবস দজগজ্জননীদ উমা দেবীর পিতৃগৃহ ঘুরে যাওয়া। পাঁচ দিনের শারদ উৎসব এবার শেষ হল ৮ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে।
শেষবারের মতো দেবীর আশীর্বাদ কামনায় নারী, পুরুষ, শিশু-কিশোর সব বয়সের ভক্ত নিবিষ্ট মনে প্রার্থনা করেন। কীর্তন-শ্যামা সঙ্গীতের মধুর সুর আর ভক্তদের উল্লাসে পুজোমন্ডপ ছিল মুখরিত।
ওই দিন কুমিল্লার বিভিন্ন পুজোমন্ডপে লোকজনকে প্রতিমা দর্শনের জন্য আসতে দেখা গেছে। সধবা নারীদের দেখা যায় সিঁদুর দিয়ে দেবীর পা রাঙিয়ে সেখান থেকে একফোঁটা নিজের কপালে লাগাতে।
কুমিল্লার বিভিন্ন পূজা মন্ডপ থেকে বর্ণাঢ্য শোভা যাত্রা বের হয়। এসময় ভক্তরা নেচে গেয়ে শোভাযাত্রাকে আরও বর্ণিল করে তোলেন। সম্মিলিত বাদ্য-বাজনা, মন্ত্রোচ্চারণ ও পুজো-অর্চনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় শোভাযাত্রা। প্রতিটি প্রতীমা বির্সজনের স্থানগুলোতে হাজারও ভক্ত ও দর্শনার্থী প্রতিমা বিসর্জন দেখতে ভিড় করেছেন।
দেবীপক্ষের সূচনা হয় পূর্ববর্তী অমাবস্যার দিন; এই দিনটি মহালয়া। অন্যদিকে দেবীপক্ষের সমাপ্তি পঞ্চদশ দিন পূর্ণিমায়; এই দিনটি কোজাগরী পূর্ণিমা নামে পরিচিত ও বার্ষিক লক্ষ্মীপূজার দিন। দুর্গাপূজা মূলত পাঁচদিনের অনুষ্ঠান হলেও মহালয়া থেকেই প্রকৃত উৎসবের সূচনা ও কোজাগরী লক্ষ্মীপূজায় তার সমাপ্তি।
ভক্তরা দুর্গতি নাশিনী দুর্গা মাকে আহ্বান করে বলে- ‘মাগো, তুমি আমাদের দুর্গতি নাশ করে দাও, আমাদের মানসপটে লালিত-পালিত হিংসা বিদ্বেষ-হানাহানি দূর করে দাও। আমাদের শক্তি দাও, আমাদের শান্তি দাও’। 
পৌরাণিক মতে, দুর্গাদেবী হলেন ব্রহ্মার মানস কন্যা। যখন সংসারে অসুরের রাজত্ব চলছিল, চারদিকে অসুরের জয়, অসুরের দাপটে মানবকূল ত্রাহি ত্রাহি করছিল, অসুর তাদের আসুরিক বৃত্তি দ্বারা সবার স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল, শান্তি-সমৃদ্ধি হিংসার আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছিল।
সেই আগুনে পুড়ে যাচ্ছিল মানুষের ভাল গুণ বা মানবীয় সত্ত্বা। তখন দেবী দুর্গাকে সৃজন করে ব্রহ্মা তাকে সর্বশক্তিতে ভরপুর করে অসুর বিনাশের জন্য মর্ত্যে প্রেরণ করেছিলেন। তখন দুর্গা দেবী তার দিব্যশক্তির দ্বারা আসুরী শক্তি বা অপশক্তিকে (অসুরকে) পরাভূত করে পুন:শান্তির জন্য সামর্থ হয়েছিলেন।
এবার মাদুর্গা আমাদের মাঝে এসেছিলেন ঘোড়ায় চড়ে এবং গমন করেছেন ঘোড়ায় চড়ে। যার ফল ছত্রভঙ্গ অর্থাৎ পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করবে।






« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft