ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
নাগরিক মতামত - মানবিক মেয়র মিজান
উন্নয়নের রোল মডেল চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা
Published : Tuesday, 24 November, 2020 at 12:00 AM, Update: 24.11.2020 12:39:33 AM, Count : 559
উন্নয়নের রোল মডেল চৌদ্দগ্রাম পৌরসভাস্টাফ রিপোর্টার, চৌদ্দগ্রাম ||
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মধ্যবিন্দু খ্যাত কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা, নাগরিক ভাবনায় উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রকাশ করেছেন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।এ পৌরসভার মেয়রসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে একান্তে আলাপচারিতায় ফুটে উঠেছে তার বাস্তব চ্ত্রি।
কুমিল্লা জেলার সর্ব দক্ষিনে ভারত সীমান্তবর্তী চৌদ্দগ্রাম উপজেলা।তারই প্রাণ কেন্দ্র সদর ইউনিয়নের সাথে বাতিসা ইউনিয়নের ৬টি গ্রাম সংযুক্ত করে মোট ২৬টি গ্রাম নিয়ে ২০০৩ সালের ৩০ এপ্রিল যাত্রা শুরু হয় চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ১৮.৩৩ বর্গ কি.মি. আয়তনের এই পৌরসভায় বর্তমানে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের বসবাস।পৌরসভা গঠিত হওয়ার পূর্বে চৌদ্দগ্রাম সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন বর্তমান মেয়র মিজানুর রহমান।নির্বাচিত হওয়ার মাত্র ২ মাসের মধ্যে জামায়াতের রাজনীতির বলি হয়ে ক্ষমতা হারান তরুন এ চেয়ারম্যান।৮বছরেও কোন নির্বাচন না হওয়ায় উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল ‘গ’ শ্রেণির এ পৌরসভা।
উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে মেয়র মিজান বলেন,২০১১ সালে পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে আল্লাহর রহমত এবং আমার রাজনৈতিক শিক্ষাগুরু ও প্রিয়নেতা মো: মুজিবুল হক এমপি’র দোয়ায় পৌরবাসী আমাকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে মেয়র নির্বাচিত করেন। নির্বাচিত হয়ে সাবেক রেলপথ মন্ত্রী মোঃ মুজিবুল হক এম.পি’র সহযোগিতায় জনগণকে সাথে নিয়ে পৌরসভার সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি ‘গ’ শ্রেণীর এ পৌরসভাকে প্রথমে ‘খ’ এবং পরবর্তীতে ‘ক’ শ্রেণীতে উন্নীত করি।
মেয়র মিজান বলেন,দায়িত্ব নেয়ার পর পৌরসভার কর্মচারিদের নিয়ে বসার জন্য নিজস্ব কোন জায়গা ছিলনা।পরবর্তীতে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জায়গা ক্রয়সহ আধুনিক পৌর ভবন নির্মাণ করে।বর্তমানে পৌরসভার অফিসটি ডিজিটালাইজড ।এখানে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর মাধ্যমে উন্নত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।পৌরসভার সকল দায়-দেনা ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রহন ও প্রদান করায় এখানে কোন প্রকার দূর্নীতি ও নাগরিক ভোগান্তি নেই।
সড়কদ্বীপটিকে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার ঘোষনা করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতিকৃতি নির্মান,উপজেলা রোডের মাথায়  জাতীয়পাখি দোয়েলের দৃষ্টি নন্দন ম্যুরাল স্থাপনের মাধ্যমে দোয়েল চত্বর নির্মাণ করা হয়েছে।ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিকল্প হিসেবে পশ্চিম অংশে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ কিমি দীর্ঘ বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুল হক এমপি সড়ক এবং পূর্ব অংশে ৭ কিমি দীর্ঘ বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রশিদ চেয়ারম্যান সড়ক নির্মান করা হয়েছে।প্রতিটি পাড়ায় মহল্লায় যাওয়ার রাস্তা,রাস্তায় সড়ক বাতি লাগানো হয়েছে এবং আরো সম্প্রসারণের জন্য ৪ কোটি টাকা বরাদ্ধ রাখা হয়েছে।পৌর এলাকায় শুষ্ক মৌসুমে সুপেয় খাবার পানির তীব্র সংকট থাকে।এ সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য সুপেয় নিরাপদ পানি সরবরাহ কল্পে ২টি টারবাইন নলকূপ স্থাপনসহ ২৬কিলো মিটার দীর্ঘ পানি সরবরাহ লাইন নির্মানের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।চৌদ্দগ্রাম বাজারের ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাস্তাঘাটের উন্নয়ন এবং শেড নির্মানের মাধ্যমে বাজারটি কে আধুনিকরূপ দেয়া হয়েছে।
চৌদ্দগ্রামবাসীর অভিভাবক আমার প্রিয়নেতা মুজিবুল হক এমপি’র সার্বিক সহযোগীতায় পৌর এলাকায় একটি কারিগরি কলেজ এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নির্মান কাজ চলছে।এ পৌর এলাকায় একটি বিদ্যুতের পাওয়ার গ্রীড ষ্টেশন স্থাপন করা হয়েছে।যার ফলশ্রুতিতে সমস্ত চৌদ্দগ্রামে এখন লোডশেডিং শূন্যতে পৌঁচেছে।এছাড়া ময়লা ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জৈব সার তৈরীর জন্য ৫ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।যার কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। পৌরবাসীর বিনোদনের পার্ক করার জন্য নগর উন্নয়ন প্রকল্প থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠের চারপাশে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়াক ওয়ে নির্মাণে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজের বহুতল ভবন,চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি পাইলট হাই স্কুলের নতুন ভবন,নজমিয়া সিনিয়ার মাদ্রাসা এবং বীরচন্দ্র নগর সিনিয়ার মাদ্রাসার ভবন নির্মানসহ সকল প্রাথমিক বিদ্যলয়ে নতুন ভবন নির্মান করা হয়েছে।চৌদ্দগ্রাম বালিকা বিদ্যালয়,উচ্চ বিদ্যালয় এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা-যাওয়াকারীদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে ওভার ব্রীজ নির্মানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।চৌদ্দগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদগাহের  উন্নয়নের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।এছাড়া সকল কবরস্থান ও গোরস্থানের উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে উন্নয়নের বিষয়ে মেয়র বলেন, পৌর এলাকার প্রত্যেকটি প্রাথমিক, মাধ্যমিক,কলেজ,এবং মাদ্রাসার শিক্ষার মান উন্নয়নে,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে, স্কুল শুরুর এবং ছুটির সময়ে রাস্তা ঘাটে ইভটিজিং বন্ধে, রাতে শিক্ষক এবং এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে শিক্ষার্থীদের হুমভিজিট কার্যক্রম চালু আছে।কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে হাসপাতালে চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পেরেছি।
তিনি আরও বলেন, চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকাকে মাদক মুক্ত করতে পৌরসভা থেকে অনেকগুলো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তারমধ্যে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের নামের তালিকা করে মসজিদের দেয়ালে লাগিয়ে দিতে এবং তাদের কোন অনুষ্ঠানে যোগদানের সুযোগ না দিয়ে সামাজিকভাবে বয়কট করতে এলাকাবাসীকে উদ্বোদ্ধ করেছি।মাদকসেবী,ব্যবসায়ী ও বহনকারীদের রিক্সা-ভ্যান কিনে দিয়ে মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।যার ফলে অনেকেই এই অনৈতিক কাজ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আসছে। মাদক,চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং ইভটিজিং এর মত অপরাধ কর্মকান্ড রোধে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য পৌরসভার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সভা-সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে।
মেয়র মিজান বলেন,চৌদ্দগ্রাম পৌরসভায় যে উন্নয়ন হয়েছে তা বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার কারনে এবং আধুনিক চৌদ্দগ্রামের রূপকার সাবেক রেলমন্ত্রী মোঃ মুজিবুল হক এমপির সহযোগিতায় সম্ভব হয়েছে।পৌর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করতে সার্বক্ষনিক চেষ্টা করেছি।দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আমার দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে সংগঠিত করতে এবং দলের নেতা-কর্মীদের সুখ-দুঃখে সবসময় পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।
পৌরসভার উন্নয়ন সম্পর্কে সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সামছুল হক এমএসসি,নোয়াপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদের,রামচন্দ্রপুরের আব্দুর রাজ্জাক,গোমার বাড়ির ফটিক মিয়া,হাফেজ আহাম্মদ,নোয়াপাড়ার আলী হোসেন,মাস্টার রুহুল আমীন,মোহন মিয়া,চৌদ্দগ্রাম পাইলট হাই স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবদুল মন্নান,সোনাকাটিয়ার আবদুল লতিফ,চৌদ্দগ্রাম পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান মধু,কিং শ্রীপুরের আলী আকবর ও মনিরুল ইসলাম,সেনেরখিরেল  সোলেমান কোম্পানী,শাহাব উদ্দিন,চান্দিশকরার জলিল ডাক্তার,ব্যবসায়ী শাহজাহান জানান-চৌদ্দগ্রামের উন্নয়নের রূপকার মুজিবুল হক এবং তাঁর যোগ্য উত্তরসুরী মেয়র মিজানুর রহমানের মাধ্যমে চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকায় যে উন্নয়ন হয়েছে তা নজির বিহীন। পৌরএলাকা এবং পৌরভবন শতভাগ ঘুষ ও দুর্নীতি মুক্ত। এখানে নেই কোন দুর্নীতি আর জবরদখল। ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে মেয়রের অবস্থান কঠোর।বর্তমান মেয়রের দায়িত্ব পালন কালে পৌর এলাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা বর্তমান সরকারের উন্নয়নের রোল মডেল।মেয়র মিজানকে মানুষের বিপদে আপদে সবসময় পাশে পাওয়া যায়।এজন্য মানুষ মেয়র মিজানকে মানবিক মেয়র আখ্যা দিয়েছেন।বিশেষ করে করোনা দুর্যোগকালে মেয়র মিজান যেভাবে জীবন বাজীরেখে নিজের সামর্থমত অনুযায়ী এবং চৌদ্দগ্রামবাসীর প্রিয় মানুষ মুজিবুল হক এমপি’র পক্ষে ত্রান,চিকিৎসা, উপহার এবং সহযোগীতা সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন আমরা পৌরবাসী তা কখনো ভুলবোনা। আমরা মুজিবুল হককে এবং তাঁর যোগ্য অনুসারী মিজানুর রহমানকে সবসময় আমাদের উন্নয়নের ধারক হিসাবে দেখতে চাই।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft