ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
চলন্ত বাসে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
Published : Saturday, 19 September, 2020 at 12:00 AM, Update: 19.09.2020 2:12:26 AM, Count : 1682
চলন্ত বাসে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
*কুমিল্লার মেয়েটি চাকরির সন্ধানে গিয়ে ফেরার পথে পিশাচদের খপ্পরে
*তিশা প্লাস বাসের চালক-হেলপার গ্রেফতার, সুপারভাইজার পলাতক----

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে গার্মেন্টের চাকরি ছেড়ে বাড়ি চলে এসেছিলেন কুমিল্লার এক তরুণী। পাঁচ মাস পর পেটের দায়ে আবার চাকরির সন্ধানে গাজীপুরে গিয়ে ফেরার পথে চলন্ত বাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন মেয়েটি। গন্তব্যে নামতে চাইলে বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজার চাতুরির আশ্রয় নিয়ে সব যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার পর বাসের দরোজা-জানালা বন্ধ করে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। পরে বাস থেকে নামিয়ে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় বাসের হেলপারের বাড়িতে নিয়ে আটকে রেখে মেয়েটিকে আবারও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। পরে অসুস্থ অবস্থায় মেয়েটিকে তারা সেখান থেকে বের কওে দেয়।
এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছে গত মঙ্গলবার ঢাকা-কুমিল্লা রুটে চলাচলকারী তিশা প্লাস পরিবহনের একটি বাসে।
তরুণী যাত্রীকে চলন্ত বাসে আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ ওই বাসের চালক ও হেলপারকে গ্রেফতার করেছে। তবে সুপারভাইজারকে এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে জানান কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার পরিদর্শক তদন্ত কমল কৃষ্ণ ধর।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে পরিদর্শক  জানান, বাসের তরুণী যাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার বাসচালক আরিফ হোসেন সোহেল কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার নেউরা গ্রামের শরীফ হোসেনের ছেলে ও হেলপার বাবু শেখ ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার কামিনারবাগ গ্রামের শেখ ওয়াজেদের ছেলে। তারা দু’জনই কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার নোয়াবাড়ি (পদুয়ার বাজার) ও মধ্যম আশ্রাফপুর এলাকায় বসবাস করে।  বৃহস্পতিবার আদালতে উভয়ের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
পুলিশের পরিদর্শক তদন্ত আরও জানান, এর আগে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ধর্ষিতার চিকিৎসা, ডাক্তারী পরীক্ষা ও আদালতে জবানবন্দি প্রদানের পর বুধবার রাতে তাকে তার মায়ের হেফাজতে দেয়া হয়েছে। তবে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত অভিযুক্ত অপর ধর্ষক বাসের সুপারভাইজার কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার আটচাইল গ্রামের কবির মিয়ার ছেলে আলমকে (৩২) গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
থানা পুলিশ, মামলার বিবরণ ও ভিকটিমের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাসিন্দা ওই তরুণী (১৬) কিছু দিন আগে ঢাকার আবদুল্লাহপুরস্থ তার জেঠাতো বোনের বাসায় যান। গত সোমবার (১৪ সেপ্টম্বর) বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে বিকালে সেই বাসা থেকে বের হয়ে আবদুল্লাহপুর হতে লোকাল বাসযোগে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে পৌঁছেন। ওই রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার সময় সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল হতে তিশা প্লাস পরিবহনের একটি বাসযোগে কুমিল্লা শহরের শাসনগাছার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে ওই তরুণী বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে শাসনগাছা বাস স্টেশনে নামিয়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানালে তারা নামিয়ে দেবে এবং এ বিষয়ে টেনশন করতে নিষেধ করে। কিন্তু বাসের চালকসহ অন্যরা মেয়েটিকে শাসনগাছায় না নামিয়ে অন্য যাত্রীদের নামিয়ে দেয়ার পর কৌশলে বাসটি জেলা সদরের অদূরে সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের আল-শাকিল হোটেলের সামনে নিয়ে যায়। সেখানে মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে বাসের দরজা-জানালা বন্ধ করে দিয়ে ওই তরুণীকে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে বাসের হেলপার বাবু শেখ (২২), চালক আরিফ হোসেন সোহেল (২৬) ও সুপারভাইজার আলম (৩২) তাকে উপর্যুপরি ধর্ষণ করে। পরে চালক বাস থেকে নেমে চলে গেলে হেলপার বাবু শেখ ও সুপারভাইজার আলম তরুণীকে বাস থেকে নামিয়ে পদুয়ার বাজার এলাকায় বাবু শেখের বসতঘরে নিয়ে ফের তাকে ধর্ষণ করে। পরে সকাল ৬টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় ঘর থেকে বের করে দিয়ে চলে যেতে বলে।
পরবর্তীতে ওই তরুণী মোবাইল ফোনে বিষয়টি তার মাকে জানালে মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে তার মা পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছে ঘটনার বিস্তারিত জানেন এবং ধর্ষকদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করেন। ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে ওই রাতে ৩ ধর্ষকের বিরুদ্ধে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় গণধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।
মামলার বাদী জানান, তার মেয়ে গাজীপুরের একটি গার্মেন্টসে চাকুরী করতো। করোনার কারণে ৫ মাস আগে বাড়ি চলে আসে। গত শুক্রবার চাকুরীর সন্ধানে বাড়ি থেকে ঢাকায় গিয়ে জেঠাতো বোনের বাসায় ওঠে। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে এ ঘটনার শিকার হয়। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই দিন চিকিৎসার পর বুধবার রাতে তাকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়। তিনি তার মেয়ের উপর নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
এদিকে তিশা প্লাস পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ওই গাড়ির মালিক দুলাল হোসেন অপু জানান, ঘটনার পর আমরা তিশা প্লাস গাড়ির (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-৩৯৮) চালক ও হেলপারসহ দুই আসামিকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর জানান, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তরুণীর ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। এই পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসতে প্রায় তিন মাস সময় লেগে যায়। মামলা দায়েরের পর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে চালক বাবু শেখ ও হেলপার আরিফ হোসেন সোহেলকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে উভয়ের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। মামলার অপর আসামি আলমকে গ্রেফতারের জন্য খুঁজছে পুলিশ।



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft