ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য-গৌরব আজও সঞ্জীবনী সুধা
Published : Saturday, 15 August, 2020 at 12:00 AM, Count : 180
বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য-গৌরব আজও সঞ্জীবনী সুধানাজমুল হাসান পাখী ||

বঙ্গবন্ধুর সাথে আমার সাক্ষাৎ হওয়া, কথা বলা, স¯েœহে আমার মাথায় তাঁর হাত বুলিয়ে দেওয়া- সে এক পরম পরশ, এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা- যা কোনোদিন ভুলতে পারবো না।
স্কুলে ছাত্রাবস্থায় ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের কাছে তাঁর অনেক কথা শুনে এক মহান পুরুষের ছবি এঁকেছিলাম মনে। পরবর্তীতে যখন চাক্ষুস দেখেছি বা সামনাসামনি কথা বলেছি তাঁর প্রগাঢ় ব্যক্তিত্ব, সাধারণ মানুষের জন্য গভীর ভালবাসা, কর্মীদের প্রতি স্নেহ-মমতা দেখে বিস্মিত হয়েছি, গর্বিত হয়েছি। উদ্বুদ্ধ হয়েছি বাংলা- বাঙালির প্রতি তাঁর ভালোবাসা, প্রেম আর শোষণ মুক্তির লড়াইয়ে আপসহীন প্রত্যয়ে।
সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধুর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়, ষাটের দশকের প্রথম দিকে, তারিখ মনে নেই, কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আহমেদ আলী সাহেবের বাসায়। তখন বঙ্গবন্ধু অন্য কোনো স্থানে যাওয়ার পথে স্বল্প সময়ের জন্য সেখানে অবস্থান করেছিলেন।
আমার সৌভাগ্য আমার ছাত্র রাজনীতির শুরুতেই বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য পাই। তারপর স্কুলের গ-ি পেরিয়ে কলেজে ভর্তি হই। ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে ইতোমধ্যে ছাত্র সমাজে স্থান করে নিতে সক্ষম হই। দেশের প্রখ্যাত কয়েকটা কলেজের অন্যতম কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ আসে আমার। ১৯৬৭-৬৮ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র লীগ প্রায় সমসংখ্যক পদে নির্বাচিত হয়। তখন আমি ডিজিএস হিসেবে নির্বাচিত হই। ১৯৬৮-৬৯ সালে ছাত্র ইউনিয়নের প্যানেল নির্বাচিত হয়। ১৯৬৯-৭০ সালে কুমিল্লা জেলার জন্য ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচনটি ছিলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে ১৯৬৮ সালে ছাত্র ইউনিয়নের কিছু প্রভাবশালী নেতা ছাত্রলীগে যোগদান করে। অন্যদিকে ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে ন্যাপ নেতা অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ কুমিল্লা থেকে নির্বাচন করবেন এমন পরিকল্পনাও তাদের ছিলো। যে কারণে ছাত্র ইউনিয়নের ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়াটা তাদের জন্য জরুরী ছিলো। অন্যদিকে ছাত্রলীগের দেশব্যাপি ধারাবাহিক বিজয়কে ধরে রাখার জন্য ছাত্রলীগের বিজয়ও ছিলো প্রয়োজনীয়। ফলে কুমিল্লায় দুই পক্ষের কেন্দ্রীয় নেতাদেরই মনোযোগ দিতে দেখা যায়। ১৯৬৯-৭০ এর নির্বাচনের প্রাক্কালে ন্যাপ এর কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে বিশেষ করে ছাত্র ইউনিয়ন নেত্রী মতিয়া চৌধুরী এবং ন্যাপ প্রধান অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ কুমিল্লা টাউন হল মাঠে জনসভা করতে আসেন। লক্ষ্য ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে যাতে ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থীদের বিজয়ী করা হয়।
ইতিপূর্বে গঠিত ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের মাধ্যমে ঐক্য সৃষ্টি হয়েছিলো ঐতিহাসিক ১১ দফার ভিত্তিতে। ৬ দফার অন্তর্ভুক্তিসহ ১১ দফা ছাত্র সমাজের জন্য ছিলো রাজনৈতিক লড়াইয়ের মূল সূত্র। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বলা হচ্ছিল যদি ৬ দফা ও ১১ দফা না মানা হয় তাহলে ১ দফার দিকে যেতে হবে। কিন্তু অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ কুমিল্লায় জনসভা করতে গিয়ে ৬ দফার সমালোচনা করলেন। শুধু তাই নয়, এটি প্রকারান্তরে সিআইএ এর দলিল, আমেরিকার সাথে আওয়ামী লীগের যোগাযোগের কল্পিত কাহিনী ইত্যাদি বলে ১১ দফার ছাত্র ঐক্যে ভাটা পড়ার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ি করে বক্তব্য দেন।
এর কয়েকদিন পর ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের নেতা ডাকসুর ভিপি তোফায়েল আহমেদ ছাত্রলীগের প্যানেলের পক্ষে টাউন হলের বৃষ্টি বিঘিœত মাঠে ছাত্র জনসভায় ভাষণ দেন ও ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে অপবাদ দেবার অপচেষ্টাকে ধীক্কার জানিয়ে প্রকৃত অবস্থা তথা পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসন না হলে স্বাধীনতার জন্য আমাদের সংগ্রামের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
আমরা ৬ দফা সম্পর্কে ন্যাপ নেতার কটাক্ষমূলক বক্তব্য সম্পর্কে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে জানালাম। ঢাকা থেকে জানানো হলো চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে বঙ্গবন্ধু কুমিল্লায় জনসভা করবেন।
জনসভার প্রচারের কাজ বেশ ভালভাবেই করা হয়। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে স্কুল কলেজে সভা করে ছাত্র সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। চারদিকে প্রচারণা, তার উপর ভিক্টোরিয়া কলেজ নির্বাচন এ সভার গুরুত্ব বাড়ায়।
১৯৬৯ সালের ২১ জানুয়ারি জনসমুদ্রে পরিণত হয় কুমিল্লা টাউন হল মাঠ ও আশেপাশের এলাকা। আমি তখন জেলা ছাত্রলীগের সাহিত্য-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক। বঙ্গবন্ধু কুমিল্লা পৌঁছার পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলেন। বঙ্গবন্ধুর সাথে তখনই সামনাসামনি দেখা ও পরিচিতি হবার সুযোগ হয়। আমার ডাক নাম পাখী নামটি তার বেশ পছন্দ হয়েছে মনে হলো। তিনি কয়েকবার পাখী, পাখী নামটি অস্ফুট উচ্চারণ করলেন। তারপর বললেন, হ্যাঁ মনে পড়েছে, কোলকাতার ফুটবল মাঠে পাখী সেন বলে একজন ভালো খেলোয়াড় ছিলেন।
আমি বললাম, আমার আব্বা চল্লিশের দশকে কোলকাতায় ছিলেন, তিনি ফুটবলার পাখী সেনের ভক্ত ছিলেন বলে তার নামে আমার ডাকনাম রেখেছেন। এরপর থেকে যখনই বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা হয়েছে, তখনই তার মনোযোগ ও আগ্রহ আকৃষ্ট করতে পেরেছি।
জনসভা শুরুর আগে সভামঞ্চে উপবেশন করে বঙ্গবন্ধু আমাকে ও রুস্তমকে বললেন, ‘বক্তৃতার সময়ে তোরা আমার দুপাশে থাকিস’। এরপর বঙ্গবন্ধু শুরু করলেন, তাঁর ঐতিহাসিক বক্তৃতা। দীর্ঘ বক্তৃতায় তিনি পাকিস্তানের দু’অঞ্চলের বৈষম্য, পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে কিভাবে শোষণ করা হচ্ছে, কিভাবে আমাদের অঞ্চলের সম্পদ-টাকা পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার হচ্ছে, বারবার কেন্দ্রীয় রাজধানী পরিবর্তন ও কেন্দ্রীয়ভাবে উন্নয়নের নামে শুধু পশ্চিম পাকিস্তানে টাকা খরচ হয়  অথচ পূর্ব পাকিস্তানে বন্যা নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা না করা, পাক-ভারত সংঘর্ষের সময় পূর্ব পাকিস্তান অরক্ষিত অসহায় অবস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন, ৬ দফার ভিত্তিতে আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার তখা স্বায়ন্তশাসন ভিন্ন বাঙালি বাঁচতে পারে  না। অনেকে অনেক কথা বলবে, কিন্তু একথা সত্য বাঙালির মুক্তির সনদ এই ৬ দফা। জনগণ ভোটের মাধ্যমে স্বায়ত্বশাসন আদায় করে নেবেই।
তিনি সবাইকে আওয়ামী লীগের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শ্রমিক ভাইয়েরা শ্রমিক লীগ এবং কৃষক ও জনগণ আওয়ামী লীগ করবেন আর ছাত্র ভাইয়েরা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের নির্বাচনে আমার পাখী- রুস্তমকে ভোট দিবা। এই বলে তিনি আমাদের দু’জনের দু’হাত ধরে উপরে তুলে পরিচয় করিয়ে দেন। কর্মীর প্রতি তাঁর প্রগাঢ় ও অকৃপণ ভালবাসা! এটা আমার সারাজীবনের দুর্লভ প্রাপ্তি। সকল কূট-অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছিন্ন করে কলেজ নির্বাচনে পূর্ণ প্যানেলে জয়লাভ করি।
১৯৭০ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ছাত্র অসন্তোষ গড়ে উঠায় তিনি বিভিন্নভাবে থাকার চেষ্টার পরও তাঁকে এ কলেজ থেকে চলে যেতে হয়। তাঁর স্থলে নতুন অধ্যক্ষ ড. সিরাজুল হক আসেন। জাতীয় পরিষদের নির্বাচনের কিছুদিন পর হঠাৎ নবনিযুক্ত অধ্যক্ষের বদলীর আদেশ আসলে আমরা হতভম্ব হয়ে যাই। সম্ভবত এটাতে বিদায়ী অধ্যক্ষের হাত ছিল। বিষয়টিকে আমরা সহজভাবে নিতে পারিনি। ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে আলোচনা করে ঠিক করলাম বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করে এ বদলী রদের ব্যবস্থা করতে হবে। কেননা তখন সরকার গঠন না করলেও তাঁর কথাতেই সারা দেশ চলছে। সেই মোতাবেক আমি, রুস্তম, আকবর কবীর, পাহলভী ঢাকায় রেজা ভাই, ফারুক ভাই ও মনির ভায়ের সাথে দেখা করে বিষয়টি জানাই। তারা পরেরদিন সকালে আমাদের ধানম-ি ৩২ নম্বর রোডস্থ বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে নিয়ে যান। বঙ্গবন্ধু আমাদের দেখে বললেন, কীরে কুমিল্লার নেতারা, তোরা কেন এসেছিস। আমি সবিস্তারে ঘটনা জানিয়ে নতুন অধ্যক্ষকে বহাল রাখার ব্যবস্থা করার অনুরোধ করলাম। বঙ্গবন্ধু ড. কামাল হোসেনকে ডেকে আমাদের দেখিয়ে বললেন, এরা ছাত্রলীগের নেতা কুমিল্লা থেকে এসেছে। নির্বাচন শেষ হলো, বদলীয় নিয়োগ এখন এ গভর্ণমেন্ট করছে কেন। গভর্ণর হাউসে ( বর্তমান বঙ্গভবন) যোগাযোগ করে এ বদলী স্থগিতের ব্যবস্থা করুন। আমরা বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ড. কামাল হোসেনকে বিষয়টি সবিস্তারে বললাম। তিনি বললেন, ঠিক আছে, আপনারা যান। আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ বদলী স্থগিত হয়।
বঙ্গবন্ধু আসলেই কর্মীবৎসল ছিলেন। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু কুমিল্লায় আসেন। তাঁর আগমন উপলক্ষে বিরাট আয়োজন। চারদিকে সাজ সাজ রব তাকে বরণ করার জন্য। আমরা কর্মী-সদস্যদের নিয়ে গঠিত ছাত্রলীগ/স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁকে কুচকাওয়াজ করে সালাম জানাবো। বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের সদস্যদের প্লাটুন বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই টাউন হলে কুচকাওয়াজের মহড়া দিই। সার্কিট হাউসের বারান্দার সামনের পশ্চিম কোণায় মাঠে কুচকাওয়াজের সালাম নেয়ার মঞ্চ তৈরি করা হয়। ছেলে মেয়েদের মধ্যে সে কী প্রচ- উৎসাহ-উদ্দীপনা, বঙ্গবন্ধুকে কাছ থেকে দেখতে পারবে। সালাম জানাবে!
কুমিল্লা পৌঁছে বঙ্গবন্ধু সার্কিট হাউসে উঠলেন। সন্ধ্যার পর আমরা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাঁর সাথে দেখা করলাম। তিনি একে একে প্রত্যেকের নাম জিজ্ঞেস করলেন। আমাদের এক কর্মী তার নাম বলল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ( পরবর্তীতে বাখরাবাগ গ্যাস কোম্পানির ম্যানেজার।) বঙ্গবন্ধু বললেন, না আজ থেকে তোর নাম মোহাম্মদ আলী বিপ্লব।
পরের দিন সকাল ১০টার দিকে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর আনুষ্ঠানিক অভিবাদন গ্রহণ করার জন্য বঙ্গবন্ধু মঞ্চে আসেন। বঙ্গবন্ধু জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলেন, আমি ও রুস্তম আলী ছাত্রলীগের পতাকা উত্তোলন করলাম। অভিবাদন মঞ্চে আমরা দু’জন বঙ্গবন্ধুর দু’পাশে দাঁড়ালাম। ব্যান্ডের তালে তালে প্লাটুন ওয়ারী কলেজ ও স্কুলের ছাত্রলীগ কর্মী, সদস্য-সদস্যারা কুচকাওয়াজ করে বঙ্গবন্ধুকে সালাম জানায়। বঙ্গবন্ধু খুব খুশী হয়েছিলেন। তিনি তার সংক্ষিপ্ত  ভাষণে বলেন, ‘ মনে রাখবা অনেক রক্তের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। তোমরা লেখাপড়া করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে যুদ্ধ বিধ্বস্ত  দেশ গড়ার কাজে, গরীব মানুষের সেবার কাজে আত্মনিয়োগ করবে’। বঙ্গবন্ধু সেদিন দুপুরে কুমিল্লার নুরপুর হাউজিং এস্টেট এর মাঠে স্মরণাতীত কালের বিরাট জনসভায় মূল্যবান ভাষণ দেন।
বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচরের পর পর্যটন কর্পোরেশনের একটি মোটেল উদ্বোধন ও জনসভা উপলক্ষে দাউদকান্দি আসেন। তিনি হেলিকপ্টারে গোমতীর অপর পাড়ে অবতরণ করে স্পিড বোট যোগে এ পাড়ে আসেন। ছাত্রলীগ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী নদীর পাড়ে তাঁকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে সালাম জানায়। ফেরি ঘাটে অভিবাদন আনুষ্ঠানিকতার পর তিনি হেঁটে মোটেল উদ্বোধন করতে আসেন। বঙ্গবন্ধু সিকিউরিটির তোয়াক্কা না করেই পথের সবার সাথে হাত মিলিয়ে সামনে অগ্রসর হতে থাকেন। পথের দুপাশে দাঁড়ানো উৎসুক জনতাও তাঁর সাথে হাত মেলাচ্ছে আর সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর সিকিউরিটি অফিসার মহিউদ্দীন ভাইসহ অন্য সিকিউরিটিরা ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ আমরা ছাত্রলীগের নেতারাও বঙ্গবন্ধুর পাশে আছি। হঠাৎ বঙ্গবন্ধু দাঁড়িয়ে পড়ে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা গায়ে গেঞ্জি কাঁধে গামছা শ্মশ্রুম-িত প্রৌঢ় এক লোককে কাছে ডাকলেন। কাছে আসার পর তিনি তাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। জিজ্ঞেস করলেন, কেমন আছিস। ‘ভালো’, বলে লোকটি মাথা নাড়ল। পাশে থাকা ডিসি সাহেবকে বঙ্গবন্ধু বললেন, একে কিছু সাহায্য করো। বঙ্গবন্ধু আবার হাঁটতে শুরু করলেন। পাশ থেকে আমি বললাম, লিডার, বুঝলাম না, এ লোকটি কে? লিডার বললেন, সে অনেক কথা, আগরতলা যাবার সময় এ মাঝিটি রাতের বেলায় তার নৌকায় আমাকে নদী পাড় করে দিয়েছিল। কতই আশ্চর্যের ব্যাপার! আমরা বাকরুদ্ধ। রাতের আঁধারে যে লোকটি নদী পার করে দিয়েছিলো এতদিন পর এত ভিড়ের মধ্যেও দূর থেকে বঙ্গবন্ধু ঠিকই তাকে চিনতে পেরে কাছে ডেকে বুকে জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করে কৃতজ্ঞতা জানালেন। এমনই ছিলেন গরীব দুঃখী জনসাধারণের রাখাল রাজা মহান নেতা বঙ্গবন্ধু।
১৯৭৪ সালে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলাম আমি। কেন্দ্রীয় কমিটির সবাই মিলে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে গণভবনে যাই। সেদিন তিনি অত্যন্ত হাসি-খুশি ছিলেন। আমাদেরকে বললেন, সবাই কেক মিষ্টি খেয়ে যাবি। কেন্দ্রীয় কমিটির সবাইকে নিয়ে ছবি তুললেন। সেদিন অন্যান্য সামাজিক শিশু-কিশোর সংগঠনের সদস্যরাও তাকে শুভেচ্ছা জানাতে যায়। কচি-কাঁচার ভাই বোনেরা যখন শুভেচ্ছা জানাচ্ছিল তখন আমি এগিয়ে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে দাঁড়াই। বঙ্গবন্ধু আমাকে দেখে বললেন, কীর তুইও কচি-কাঁচার মেলা করিস নাকি?
আমি উত্তরে বলি, জি লিডার সেই ১৯৬৪ সালে যখন কাস সেভেনে উঠি তখন থেকে আমি কচি-কাঁচার মেলা করি।
১৯৭৪ সালে সারাদেশের কচি-কাঁচার মেলার শাখা সমূহের প্রতিনিধিদের নিয়ে ঢাকার গুলিস্থানে বঙ্গভবনের সামনের মাঠে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প হয়। আমি প্যারেড প্রশিক্ষক ছিলাম। ক্যাম্পে আগত ভাইবোনদের নিয়ে মন্ত্রীপাড়ায় অবস্থিত গণভবনে বঙ্গবন্ধুকে আনুষ্ঠানিক অভিবাদন জানাতে যাই। বঙ্গবন্ধু প্যারেড পরিদর্শন করেন। মেলার সদস্যরা বিভিন্ন শারিরীক কসরত লাঠিখেলা, ডাম্বেল ড্রিল প্রদর্শন করে। বেগম সুফিয়া কামাল, দাদাভাই, সেলিনা বানু, মোহাম্মদ শাহজাহান, মোস্তফা ভাই সব প্রশিক্ষকের সাথে বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোরদের উন্নয়নের বিষয়ে কথা বলেন।
একইবছর আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা সন্মানিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। এসব প্রতিনিধির দোভাষী হিসেবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দকে দায়িত্ব দেয়া হয়। আমি পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক দেশ বলুগেরিয়া থেকে আগত সে দেশের পার্লামেন্টের স্পিকার, যিনি ক্ষমতাসীন ফাদারল্যান্ড ফ্রন্ট ( কমিউনিস্টর পার্টি ও এগ্রেরিয়ান পার্টির জোট) এর ভাইস চেয়ারম্যান ও এগ্রেরিয়ারন পার্টির সম্পাদক, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যোদ্ধা’র দোভাষীর দায়িত্ব পাই। সে-সুবাদে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে প্রতিনিধি দলের নেতাকে নিয়ে আসন গ্রহণ করি। আমার পরিপাটি ড্রেস ও গায়ের ফর্সা রং দেখে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমানসহ অনেকেই আমাকে বুলগেরিয়ান হিসেবে মনে করছিলেন। জিল্লুর রহমান ভাইকে এ ভুল ভাঙ্গাতে তার নিকট গেলে তিনি আমাকে বুলগেরিয়ান প্রতিনিধি হিসেবে করমর্দনের জন্য হাত বাড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর সামনে ইংরেজিতে কুশলাদি জিজ্ঞেস করা শুরু করলে, আমিও বিব্রত বোধ করি। বঙ্গবন্ধু মুচকি হাসছেন, বলে উঠলেন, আরে ! এতো পাখী। বললাম, আমি বুলগেরিয়ান দলের প্রতিনিধি প্রধানের দোভাষী। জিল্লু ভাই হেসে উঠলেন। বঙ্গবন্ধু একবার যাকে দেখেছেন, কথা বলেছেন, সারাজীবন তাকে নামসহ মনে রেখেছেন। মহান আল্লাহ-তায়ালা তাঁকে এ অসাধারণ গুণে গুণান্বিত করেছিলেন।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর অনুমোদন ক্রমে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ছাত্র প্রতিনিধি দলেন নেতা হিসেবে ‘এশিয়ান স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ এর আমন্ত্রণে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের সব দেশের প্রধান ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে উচ্চ শিক্ষা বিষয়ক একটি সেমিনারে যোগদান করতে হংকং যাই। এতে আফ্রিকার কয়েকটি দেশও যোগ দেয়। যাওয়ার আগে বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করতে গেলাম। সভাপতি মনির ভাইর সাথে যাই। বঙ্গবন্ধু কুশলাদি জিজ্ঞেস করার পর বললেন, সম্মেলনে উচ্চশিক্ষার সাথে সাথে শিক্ষার বহুমুখীকরণ এবং কারিগরি শিক্ষা প্রসার ও কারিগরী জ্ঞানের বিনিময়ের জন্য আন্তঃদেশীয়  সরকারি যোগাযোগ ও প্রষ্ঠপোষকতার কথা উল্লেখ করিস। কথা শেষে তাকে কদমবুসি করে বেরিয়ে আসার সময় একটি প্যাকেট আমার হাতে দিয়ে বললেন, কাপড়চোপড় সহ প্রয়োজনীয় খরচ করিস। আবেগে আপ্লুত হয়ে গেলাম। বদান্যতা ও মমতায় আধার ছিলেন বঙ্গবন্ধু।
তৎকালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে বছরে ২-৩বার বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক সফরে যেতে হতো। বঙ্গবন্ধু প্রায়ই ছাত্রলীগের নেতাদের ডেকে সাধারণ আলোচনাকালে নেতাদের কাজ-কর্ম জনপ্রিয়তা সম্পর্কে জেনে নিতেন, আমরা বুঝতামও না যে এ আলাপন তাঁর সিদ্ধান্তের নিয়ামক হবে।
ফেনীর প্রাক্তন সাংসদ এবিএম তালেব আলী সম্ভবত নব্বই দশকের প্রথমার্ধে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে কুমিল্লায় সাংগঠনিক সফরে আসেন। সেদিন কুমিল্লা কাবে তাঁর রুমে সমবেত কর্মীদের সামনে বিভিন্ন বিষয় আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, পাখী আজ একটি ঘটনা বলছি, হয়তো তুমি বিষয়টি জানো না, কিন্তু তুমি আমার একটি বড় উপকার করেছিলে। উপস্থিত কর্মীদের ঔৎসুক্য কমাতে তিনি বললেন, তুমি ছাত্রলীদের নেতা হিসেবে একবার ফেনী গিয়েছিলে।
আমি বললাম, হ্যাঁ, মনে পড়েছে। ফেনী, চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ ও কক্সবাজার জেলায় সেবার সাংগঠনিক কাজে গিয়েছিলাম।
তালেব আলী সাহেব বললেন, আমি তখন সংসদ সদস্য, ফেনীতে তখন রাজনৈতিক দলাদলি প্রকট। বেশিরভাগ লোক দলকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার করে ব্যবসা-বানিজ্য, টেন্ডার, পারমিট-লাইসেন্স প্রভৃতির জন্য মারমুখী হয়ে পড়েছে। গরীব দুঃস্থ কর্মীদের না দিয়ে নেতারাই সব বাগিয়ে নিচ্ছে। এসবের বাধা দেয়ায় তারাই আবার আমার  বিরুদ্ধে আমি অজনপ্রিয়, তাদের কথা শুনি না তাদের গুরুত্ব দিই না আমি নেতা কর্মী বিচ্ছিন্ন, আমার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর কাছে অভিযোগ দিয়ে আমাকে দলের নেতৃত্ব থেকে দূরে সরানোর চেষ্টা চালাচ্ছিল। এ সময়ই একদিন বঙ্গবন্ধু আমাকে গণভবনে ডাকলেন। আমি চিন্তিত মনে দুরু দুরু বক্ষে তাঁর অফিসে কক্ষে তাঁর সামনে হাজির হলাম। আমার মনের অবস্থা আঁচ করতে পেরেই বঙ্গবন্ধু হেসে উঠলেন। হাসতে হাসতেই পাশের আলমারি থেকে নিজেই একটা ফাইল বের করে তার থেকে কিছু কাগজ আমাকে দেখিয়ে বললেন, এগুলো ছিঁড়ে ফেললাম। পাখীর কাছে শোনার পর আমি গোপনে খোঁজও নিয়েছি। যারা তোর বিরুদ্ধে বলেছে তা উদ্দেশ্যমূলকভাবে বলেছে। বঙ্গবন্ধু আমার পিঠে হাত দিয়ে বললেন, যা তুই কাজ করে যা।
তালেব আলী সাহেব বললেন, পাখী তুমিও হয়তো একথা জানতে না। আজ আমিই কর্মীদের সামনে তোমাকে জানালাম।
মনে পড়লো তখন ফেনী জেলার ছাত্রলীগ শ্রমিক লীগ যুবলীগ এর সাধরণ কর্মী ও সমর্থকদের সাথে আলোচনাকালে অবগত হয়েছিলাম যে, সঠিকভাবে দল পরিচালনা ও দুঃস্থ কর্মী-সমর্থকদের সহায়তা সাহায্যের উদ্যোগ দলকে ব্যবহারকারী কিছু স্বার্থান্বেষী বানচাল করে চলেছে। এরাই সাধারণ কর্মী বান্ধব তালেব আলী সাহেবকে নেতৃত্ব থেকে বাদ দেবার জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে। এটা সাধারণ নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনায় আমার উপলব্ধি ছিল। সেই যে বললাম, বঙ্গবন্ধু আলোচনাকালে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থার খোঁজ নিতেন হয়তো তেমনিভাবে আলাপকালে আমি আমার উপলব্ধির কথা ব্যক্ত করেছিলাম। বঙ্গবন্ধুর বিভিন্নভাবে তৃণমূল সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিতেন।
যুদ্ধবিধ্বস্থ দেশ পুনর্গঠনের জন্য বঙ্গবন্ধু নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। পেট্রল খরচ সাশ্রয়ের জন্য বিলাসবহুল গাড়ি পরিত্যাগ করে নিজে সাধারণ মানের গাড়ি ব্যবহার করে সবাইকে অযথা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে গাড়ি না ব্যবহার করার নির্দেশ দিলেন। তাঁর নির্দেশনাতে ছাত্রলীগ দুর্নীতিবাজ, মজুতদার কালোবাজরীদের বিরুদ্ধে সারাদেশে কর্মসূচি গ্রহণ করে। ছাত্র ব্রিগেড তৈরি করে কলকারখানা ও গ্রামে গিয়ে শ্রমিক কৃষকদের সাথে কাজ করে উৎপাদন বৃদ্ধির সহায়তাসহ নিরক্ষরদের জন্য সান্ধ্যাকলীন স্কুল পরিচালনা করে। এসব বিষয়ে মাঝে মাঝে তাঁর সাথে দেখা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা আমরা নিতাম। ৭৫ এর প্রথম দিকে এক গ্রীষ্মের বিকেলে ছাত্রলীগের সভাপতি মনিরুল হক চৌধুরী, সহসভাপতি রাশেদুল হাসান, নুরুল ইসলাম মিলন, আমি, বৈদেশিক সম্পাদক ফখরুল কামাল বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করতে বঙ্গবন্ধুর বাসায় যাই। তিনি তিন তলায় তাঁর রিডিং রুমে বসতে বললেন। রুমে আলমারি ভর্তি বিভিন্ন বই, ১টি চেয়ার, ১টি বড় মোড়া, ছোট একটি টেবিল ও ১টি সুন্দর বিছানাসহ খাট। আমরা খাটে বসলাম। কিছুক্ষণ পর বঙ্গবন্ধু তাঁর ধূমপানের পাইপ, পাইপের তামাকের প্যাকেটসহ লুঙ্গি ও হাতাওয়ালা গেঞ্জি পরে ঘরে বড় মোড়ায় বসলেন। আমরা তাকে দেখেই দাঁড়িয়ে পড়েছিলাম। তিনি আমাদের বসতে বলায় আমরা সবাই ঘরের মেঝেতেই বসে পড়ি। কুশলাদির পর দেশের বিরাজমান পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। ইতোমধ্যে ঘোষিত জমির সর্বোচ্চ সিলিং এর প্রতিক্রিয়া, পরিবারের সংজ্ঞা, শিল্প বাণিজ্যে পুঁজি বিনিয়োগের ঊর্ধসীমা, রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য জেলায় জমির দামের তারতম্যের কারণে জমির সিলিং এর প্রভাব, এসব বিষয়ও আলোচনায় আসে। এখানে একটা কথা বলে রাখি, এ সময়ে জাসদ ও তথাকথিত গণবাহিনী বিভিন্ন জায়গায় থানা লুট, ব্যাংক লুট, পাট গুদামে আগুন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী খুন ইত্যাদি দেশদ্রোহী ও নাশকতামূলক কাজ ব্যাপকভাবে করার প্রেক্ষিতে পুলিশ ও
রক্ষী বাহিনী সারাদেশে এ নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে জোর অভিযান শুরু করেছিল। এ কাজের মূল হোতারা তখন পালিয়ে এসে ঢাকায় বিভিন্ন ছাত্রাবাসে বিশেষ করে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলিতে গোপনে আশ্রয় নেয়। বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে সেদিন আলেচনায় এক পর্যায়ে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইবার নির্বাচিত ভিপি রাশেদুল হাসমান বলে লিডার, সারাদেশে নাশকতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে অভিযানের ফলে মূল হোতারা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল বিশেষ করে আহসানউল্লাহ হলে গোপনে আশ্রয় নিয়েছে। এখানে অভিযান চালালে অনেককে এমনকি সিরাজ ভাইও ( সিরাজুল আলম খান) ধরা পড়বেন। এ পর্যন্ত শোনার পর বঙ্গবন্ধু বলে উঠলেন, চুপ কর, সিরাজ সম্পর্কে কিছু বলিস না, ও কি করছে আমি তা জানি, তাকে ডিসটার্ব করবি না। আমরা বিস্মিত হলাম সিরাজ ভাইয়ের প্রতি তাঁর ¯েœহ ও আস্থা দেখে।
অথচ এ সিররাজুল আলম খানরাই মুখে এককথা বঙ্গবন্ধুকে বলে কাজে কি করেছেন, দল-দেশ জাতির কতটা ক্ষতি করেছেন তার সাক্ষী ইতিহাসই দেবে।
বাংলার গরীব দুঃখী সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার দুর্নিবার সংকল্পেই বঙ্গবন্ধু সারাজীবন নিরলস রাজনীতি করেছেন। হাজার বছর ধরে নির্যাতিত-নিপীড়িত-বঞ্চিত জাতি জেগে উঠেছে তাঁর অবিসম্বাদিত নেতৃত্বে। ঘর সংসার জীবনের মায়া না করে জেল-জুলম আন্দোালন-সংগ্রামের রক্তভেজা পথ ধরে বাংলার স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন।
এ পরশপাথরের সংস্পশর্, সান্নিধ্য বিচ্ছুরিত দ্যুতিতে ¯œাত বাঙালি জাগ্রত হয়েছে, হয়েছে লড়াকু সংগ্রামী যোদ্ধা। তাঁর বজ্রকণ্ঠে প্রণোদিত উদ্দীপ্ত প্রতিটি বাঙালির আত্মোৎসর্গী অভিব্যক্তি দৃঢ় অনুভব- আমিই মুজিব। মুজিব মানেই বাংলাদেশ- বাংলাদেশ মানেই মুজিব। মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মরণজয়ী নেতৃত্বগুণের  এটাই সর্বপ্লাবী অব্যয় অক্ষয় মাহাত্ম। প্রাণে প্রাণে আজও তিনি সঞ্জীবনী সুধা।

* বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল হাসান পাখী, সদস্য, জাতীয় কমিটি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিববাহিনী মাউন্টেন ব্রিগেড নর্থ কলাম কমান্ডার, সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, সাবেক ভিপি, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ।



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ই মেইল: [email protected], [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: হুমায়ূন কবীর জীবন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft